প্রবন্ধ
আল্লাহ ভক্তরা আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে পায়! বাউল মতবাদ! পর্ব—৮
৭ জানুয়ারী, ২০২৬
১৯৯২
০
মাখলুকের দৃষ্টি সীমিত। এজন্য সীমাহীন কুদরতসম্মত আল্লাহকে সীমিত চক্ষু দিয়ে ধারণ করা কখনও সম্ভব নয়।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তাদের দাবি হলো—লালনভক্ত বাউলরা আল্লাহকে নিজ চোখে দেখতে পায়৷ দেখুন, তারা লিখেছে—
মাশুকের যে হয় আশেকী খুলে যায় তার দিব্যআঁখি
নফসে আল্লাহ নফসে নবী দেখে অনা’সে। —অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৬৫
অর্থাৎ যার ইশকের চোখ খুলে যায়, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অনায়াসে দেখতে পায়।
ইসলাম কী বলে?
আল্লাহ মহান। মহান তাঁর সমস্ত গুণাবলী। সমস্ত সৃষ্টির সীমা অতিক্রম করে, উর্ধ্বতন ও অতুলনীয়। তাঁকে ধরা যায় না, স্পর্শ করা যায় না, এবং দেখা সম্ভব নয়। মহান রব্ব নিজেই বলেন—
لَّا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ ۖ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
“দৃষ্টিসমূহ তাঁকে ধরতে পারে না, কিন্তু দৃষ্টিসমূহ তার আয়ত্তাধীন। তাঁর সত্তা অতি সূক্ষ্ম এবং তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত।” —(সুরা আনআম : ১০৩)
এ কারণেই একজন গুরুত্বপূর্ণ নবী, হযরত মুসা আ., নিজেও মহান আল্লাহকে সরাসরি দেখতে পারেননি। কুরআন শরীফে এসেছে—
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَىٰ لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَٰكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًا ۚ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
“মুসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে এসে পৌঁছলো এবং তার প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন সে বলল—“হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখবো। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কিছুতেই দেখতে পাবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করো। তা যদি আপন স্থানে স্থির থাকে, তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে। অতঃপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে তাজাল্লী ফেললেন (জ্যোতি প্রকাশ করলেন), তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল এবং মুসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলো। পরে যখন তার সংজ্ঞা ফিরে আসলো, তখন সে বলল—আপনার সত্তা পবিত্র। আমি আপনার দরবারে তাওবা করছি এবং (দুনিয়ায় কেউ আপনাকে দেখতে সক্ষম নয় এ বিষয়ের প্রতি) আমি সবার আগে ঈমান আনছি।” —(সুরা আরাফ : ১৪৩)
একারণে আম্মাজান হযরত আয়িশাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন—
مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهُوَ يَقُولُ (لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ
“যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলছেন, চক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না।” —(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৭৩৮০)
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঈমান সুরক্ষায় কুসংস্কার থেকে দূরে থাকুন!
আমাদের সমাজে সামাজিকতা ও নিয়মনীতি পালনের নামে বহু কুপ্রথা ও কুসংস্কার প্রচলন রয়েছে। শরীয়তে এগুলোর কো...
মূর্তি ও ভাস্কর্যপ্রীতি : ইসলাম কী বলে?
ইসলামের যে বিষয়গুলোর নিষিদ্ধতা অকাট্য ও মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত তার মধ্যে প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণ ...
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম : বিভ্রান্তি নিরসনে মুসলমানদের যা জানা দরকার
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন