প্রবন্ধ
সারাজীবন একই ধাঁচের নামাজ গ্রহণযোগ্য নয়! বাউল মতবাদ! পর্ব—২২
১০ জানুয়ারী, ২০২৬
১২৮৮
০
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে ইসলামের সকল বিধি-বিধান শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবে পালন করাই উম্মতের উপর ফরজ। মহান রব্ব বলেন—
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“(হে নবী, মানুষকে) বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”—(সুরা আলে ইমরান : ৩১)
সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ ব্যাতিত ভিন্ন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সরাসরি কুরআন বিরোধী।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তাদের দাবী হলো—
সবার জন্য আজীবন একই ধাঁচের নামাজ বা ধ্যান কখনো সঠিক হতে পারে না। জন্মকর্ম, জ্ঞানপাত্র ও ধারণক্ষমতা অনুসারে এক একজনের জন্য এক একটি পৃথক পৃথক তরিকা বা স্বতন্ত্র পন্থা নির্ধারিত। বিপুল বৈচিত্রের মধ্যে একত্বময় প্রেমিক সুফির এমনই ভজনধারা। এভাবেই গুরু তথা মোর্শেদের কৃপালাভ অর্থাৎ ভগবান বা আল্লাহর পরিপূর্ণ দর্শন লাভ করা সাধকের পক্ষে সম্ভব। তার বিপরীতে গুরুমুখী সাধনাকে অগ্রাহ্য করে যে যতই ধার্মিক সাজুক তাতে কারো শেষ রক্ষা নেই। —অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৫৭
কায়দা-কানুন ঠিক না রেখে নামাজ পড়লে সেই মান্দার ফুলের মতোই অবস্থা হয়। তবে এই নামাজ তরিকতপন্থায় পড়তে হয়। —বাউলসাধনা, পৃ. ৬৫
অর্থাৎ বাউলদের দাবী হলো—আজীবন একই ধাঁচের নামাজ পড়া যাবে না।
ইসলাম কী বলে?
শরীয়াত প্রণেতা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে পুরো ইসলামের বিধান যেভাবে এনেছেন, এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. যেভাবে তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবেই ইসলাম পালন করা কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের উপর ফরজ। এই বিধানে কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত মালিক ইবনু হুওয়াইরিস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন—
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
“তোমরা নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখছো।”—(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৬৩১)
অথচ বাউল সম্প্রদায়ের বক্তব্য হলো—একই ধাঁচের নামাজ চিরকাল পড়া যাবে না। এটা কী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুকুমের প্রতিবৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন নয়? হযরত আবু হুরাইরাহ রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
كُلُّ أُمَّتِي يَدخُلُونَ الجَنَّةَ إلاَّ مَنْ أبَى قيلَ : وَمَنْ يَأبَى يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أبَى
“আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে যাবে; কিন্তু সে নয় যে অস্বীকার করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো—হে আল্লাহর রাসুল, (জান্নাতে যেতে আবার) কে অস্বীকার করবে? তিনি বললেন, যে আমার অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে এবং যে আমার অবাধ্যতা করবে, সেই জান্নাত যেতে অস্বীকার করবে।”—(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৭২৮০)
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
শবে বরাত বিষয়ক ভিত্তিহীন যত রেওয়ায়েত এবং বর্জনীয় প্রথা
হাদীস শরীফে শবে বরাতঃ শবে বরাত সম্পর্কেও আছে চিন্তাগত ও কর্মগত প্রান্তিকতা। সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কথা...
বিবিধ
৬ নভেম্বর, ২০২৪
১২৪৪৯ বার দেখা হয়েছে
বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত
এতদিন পর্যন্ত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। তারা এ রাতটি উপলক্ষে ন...
শাঈখুল ইসলাম হযরত আব্দুল মালেক
১১ নভেম্বর, ২০২৪
১৩৮৫৫ বার দেখা হয়েছে
রজব ও শা’বান : প্রেক্ষিত মধ্যপন্থা বনাম প্রান্তিকতা
মহিমান্বিত রমাযান মাসের পূর্বে আমাদের সামনে রয়েছে দুটি মাস; রজব ও শা’বান। বক্ষমান নিবন্ধে আমরা রজব এ...
মুফতী হাফিজুর রহমান
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১৬৯৪৯ বার দেখা হয়েছে
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (৩য় পর্ব)
...
মাওলানা ইমদাদুল হক
১০ নভেম্বর, ২০২৪
৮৯৬৩ বার দেখা হয়েছে
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন