প্রবন্ধ
মুসলিমদের ‘যবন’ বলে গালি! বাউল মতবাদ। পর্ব—৫০
৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
৩২০৪
০
যবন শব্দের অর্থ হলো—ম্লেচ্ছ জাতি। —বাংলা একাডেমি, পৃ. ১১৪৪
পরিভাষায় ‘ম্লেচ্ছ’ শব্দের অর্থ হলো—অসভ্য বা বর্বর। যবন নিয়ে একটা হাস্যকর গল্প আছে ভারতে। "হিন্দু রাজা যবাতি একবার গোমেধ যজ্ঞ করেছিলো। কিন্তু তার অসংযমী পুত্র লোভ করে এক টুকরো গরুর গোশত খেয়ে ফেলে। তখন থেকেই পিতার অভিশাপক্রমে এই আগের ভ্রৃষ্টপুত্র হতেই গো-খাদক ম্লেচ্ছ বংশ আরম্ভ হয়। সাধারণের ধারণা, ওই গো খাদক মুসলমানরাই ওই স্লেচ্ছ বংশীয় যবন।
ফকির লালন মুসলিমদের প্রতি এতটাই বিদ্বেষ ধারণ করতো যে, মুসলিম শব্দটাও সে উচ্চারণ করতো না, বরং মুসলিমদেরকে ‘যবন’ বলে আখ্যায়িত করতো। লালনের প্রায় সকল গানে মুসলিমদেরকে ‘যবন’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন—
সবে বলে লালন ফকির হিন্দু কি যবন,
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান। —মহাত্মা লালন, পৃ. ৫০
জাত বলতে কি হয় বিধান হিন্দু যবন বৌদ্ধ খ্রিস্টান
জাতের আছে কিবা প্ৰমাণ শাস্ত্ৰ খুঁজিলে। —অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৫৯
বুঝা গেলো, লালনের মুসলিম বিদ্বেষ তার পশমে পশমে ছিলো। অথচ, মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَىٰ أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“হে মুমিনগণ, পুরুষগণ যেন অপর পুরুষদেরকে উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীগণও যেন অপর নারীদেরকে উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যে নারীদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করো না এবং একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেক না। ঈমানের পর গুনাহের নাম যুক্ত হওয়া বড় খারাপ কথা। যারা এসব থেকে বিরত না হবে তারাই জালেম।” —সুরা হুজরাত : ১১
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
“যারা মুমিন নর ও মুমিন নারীদেরকে বিনা অপরাধে কষ্ট দান করে, তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” —সুরা আহযাব : ৫৮
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ حَتَّىٰ إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَا ۖ قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
“সেই দিনকে স্মরণ রাখো, যে দিন আল্লাহর শত্রুদেরকে একত্র করে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা তার (অর্থাৎ আগুনের) কাছে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের চামড়াকে বলবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে বাকশক্তি দান করেছেন, যিনি বাকশক্তি দান করেছেন প্রতিটি জিনিসকে। তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার আর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” —সুরা ফুসসিলাত : ১৯-২০
وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا
“আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালো করেই জানেন। অভিভাবকরূপেও আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।” —সুরা নিসা : ৪৫
সুতরাং মুসলিমদের সাথে যারা বিদ্বেষ লালন করে, তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ইলমে দীন ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ভাবনা
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعم...
মুসলমানদের অধঃপতনের মূল কারণ
...
শরীয়তের উপর অবিচলতা
...
ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের বহুমুখী ষড়যন্ত্র মুসলিম উম্মাহর করণীয়
কুরআন-হাদীসে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানের পরিচয় ইয়াহুদী জাতি পৃথিবীর প্রাচীনতম জাতি। আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ আ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন