প্রবন্ধ
যুক্তির আলোকে ঈমান আনতে হবে! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–৬০
৭ অক্টোবর, ২০২৫
২৫০৯
০
ইসলামের পুর্ণ কন্সেপ্টাই নির্ভর করে ওহীর জ্ঞানের উপর। যুক্তির উপর ইসলাম নির্ভর করে না, বরং আল্লাহ'র উপর ঈমান ও তাঁর বিধান পালনে যুক্তির পথে চলা, শয়তানের পদ্ধতি।
হেযবুত তওহীদ কী বলে?
তাদের ঈমানবিধ্বংসী আক্বীদা হলো–আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান আনতে হবে যুক্তির ভিত্তিতে। দেখুন তারা কী বলে-
আমরা মনে করি, আল্লাহ যদি চাইতেন সবাই আল্লাহর উপর ঈমান রাখবে সেটা আল্লাহ এক মুহূর্তেই করতে পারতেন।কিন্তু আল্লাহ চান মানুষ তার যুক্তি-বিচার দিয়ে আল্লাহকে জেনে নিক।মানুষের আসল পরীক্ষাটাই হল তার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি( Free will)'। -চলমান সংকট নিরসনে আদর্শিক লড়াইয়ের অপরিহার্যতা, পৃ. ১৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে বিশ্বাস করার বেলায় কোথাও বলেননি অন্ধের মত শুধু আমাকে বিশ্বাস করো। তিনি বলেছেন দৃষ্টি নিক্ষেপ করো দেখো আমার সৃষ্টির কোথাও কোন খুঁত পাও কিনা? কাজেই আমি বলব, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনো দিকে ছোটার আগে বিচার করুন, বিশ্লেষণ করুন, কেন সেদিকে যাবেন? কি জন্য যাবেন তাতে আপনার কি উপকার? আপনার জাতির কি উপকার? মানবজাতির কি উপকার'? –সূত্রাপুরে এমামের ভাষন, পৃ. ৫
অর্থাৎ তাদের মতমতবাদ হলো, যুক্তি দিয়েই আল্লাহ-কে বিশ্বাস করতে হবে।
ইসলাম কী বলে?
আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান আনয়নের মূল ভিত্তি যুক্তি নয়, বরং ওহী। পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
যারা অদৃশ্য জিনিসসমূহে ঈমান রাখে এবং সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা-কিছু দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহর সন্তোষজনক কাজে) ব্যয় করে। এবং যারা ঈমান রাখে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং তারা আখিরাতে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখে। এরাই এমন লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সঠিক পথের উপর আছে এবং এরাই এমন লোক, যারা সফলতা লাভকারী। –সুরা বাক্বারা : ৩-৫
উক্ত আয়াতে মুত্তাকীদের কয়েকটি গুণের উল্লেখ্য করা হয়েছে–
ক. অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন।
খ. নামায প্রতিষ্ঠা করা।
গ. স্বীয় জীবিকা থেকে সৎপথে ব্যয় করা।
ঘ. আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয় ও আখেরাতের উ ঈমান রাখা।
এ আয়াতগুলোর মধ্যে কতগুলো জরুরি বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো, 'অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করা।' এই অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের সাথে যুক্তি সম্পৃক্ত করলে কারোর পক্ষেই ঈমান আনা সম্ভব নয়। কারণ, এসবের পুরোটাই তো অদৃশ্যে থাকে। অদৃশ্যমান বিষয়কে কিভাবে যুক্তি দিয়ে মান্য করা সম্ভব?
সুতরাং ঈমানের মূল ভিত্তি ‘গায়েব’ বা অদৃশ্য বিষয়াদির ওপর। স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর গুণাবলী, ফিরিশতা,সৃষ্টিজগতের সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক, পরকালীন জিবন ইত্যাদি সবই মূলত অদৃশ্য বিষয়। পঞ্চ-ইন্দ্রিয় বা মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেক দিয়ে এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেক এগুলোর বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা অনুভব ও স্বীকার করে। কিন্তু এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এ বিষয়ে যুক্তি বা বুদ্ধি দিয়ে অনেক বিতর্ক করা সম্ভব, তবে কোনো সুনির্ধারিত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় না। এজন্যই মূলত ঈমানের বিষয় পুরোটিই ওহীর উপর নির্ভর করতে হয়, যুক্তির ওপরে নয়। এজন্য আল্লাহ তাআলা ঈমান আনয়ণ করতে বলেছেন অদৃশ্যের উপর।
এছাড়াও কুরআনুল কারীমে ঈমানের মডেল হিসাবে সাহাবায়ে কেরাম রা. কে উপস্থাপন করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
اٰمِنُوۡا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ
তোমরাও সেই রকম ঈমান আনো, যেমন অন্য লোকে (সাহাবারা) ঈমান এনেছে। –সুরা বাক্বারা : ১৩
সাহাবায়ে কেরাম রা. কিভাবে ঈমান এনেছিলেন?
সাহাবায়ে কেরামের রা. নীতি ছিলো, কুরআনুল কারীমে বা রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুখে যা কিছু তাঁরা শুনতেন বা জানতেন, সেগুলোকে বিনা বাক্যে ও নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতেন। এগুলোর বিষয়ে অকারণ যুক্তি তালাশ করেননি। তাঁদের কর্মপদ্ধতি কী ছিলো, তা মহান রব পবিত্র কুরআনে উল্লেখ্য করেছেন, তাঁরা বলতেন–
سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا
আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। –সুরা নূর : ৫১
সুতরাং প্রমাণ হলো, ঈমান মূল থিম হলো, ওহীর আলোকে বর্ণিত বিষয়ে কোনো যুক্তি তালাশে না গিয়ে সাথে সাথেই মেনে নেওয়া।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
খৃষ্টধর্ম না পৌলবাদ (১ম পর্ব)
এক. ‘ ইনজীল ’ : ‘ ইনজীল ’ শব্দটি শুনলেই মনে হয়, এটি সেই আসমানী কিতাবের নাম, যা বনী ইসরাঈলের শেষনবী ...
খৃষ্টধর্ম না পৌলবাদ (৭ম ও শেষ পর্ব)
খৃষ্টধর্ম কি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী ধর্ম কোন ধর্মের দাওয়াত ও প্রচারের জন্য ধর্মের কার্যকরিতা জরুরি...
تحریک استشراق کی حقیقت اور استشراقی لٹریچر کے اثرات
تعارف: استشراق( Orientalism ) اور مستشرق کا لغوی و اصطلاحی معنی استشراق عربی زبان کے مادہ( ش۔ر۔ق) سے...
প্রসঙ্গ মুয়াবিয়া রাজিআল্লাহু আনহুঃ সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কিত ইতিহাস পাঠের মূলনীতি
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন