আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৯- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৭১-১৫
- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
১. সম্মতি ব্যতীত ঋতুবতীকে তালাক প্রদান হারাম, যদি তালাক দেয় তবে তালাক হয়ে যাবে এবং তালাক প্রদানকারীকে রাজ’আতের নির্দেশ দিতে হবে
৩৫৩৪। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে তার সে স্ত্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, তাকে আমি তালাক দিয়েছিলাম- যখন সে হায়য অবস্থায় ছিল। আমি বিষয়টি উমর (রাযিঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তা নবী (ﷺ) কে জানালেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তার স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। পরে যখন সে পাক হবে তখন যেন সে (ইচ্ছা করলে) তার পাক অবস্থায় তাকে তালাক দেয়। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, তবে কি হায়য অবস্থায় প্রদত্ত তালাকটি কি আপনি হিসাবে ধরবেন? তিনি বললেন, আমি কেন সেটা গণনায় ধরবো না? যদি আমি অক্ষম হই অথবা নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করি (তাহলে কি আমার এ কাজ গণনায় আসবে না)?
كتاب الطلاق
باب تَحْرِيمِ طَلاَقِ الْحَائِضِ بِغَيْرِ رِضَاهَا وَأَنَّهُ لَوْ خَالَفَ وَقَعَ الطَّلاَقُ وَيُؤْمَرُ بِجْعَتِهَا
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ، سِيرِينَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ امْرَأَتِهِ الَّتِي، طَلَّقَ فَقَالَ طَلَّقْتُهَا وَهْىَ حَائِضٌ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا فَإِذَا طَهَرَتْ فَلْيُطَلِّقْهَا لِطُهْرِهَا " . قَالَ فَرَاجَعْتُهَا ثُمَّ طَلَّقْتُهَا لِطُهْرِهَا . قُلْتُ فَاعْتَدَدْتَ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ الَّتِي طَلَّقْتَ وَهْىَ حَائِضٌ قَالَ مَا لِيَ لاَ أَعْتَدُّ بِهَا وَإِنْ كُنْتُ عَجَزْتُ وَاسْتَحْمَقْتُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া শক্ত গুনাহের কাজ। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া চাই। এরপর যদি তালাক দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকে তবে সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দিতে হবে যার মধ্যে সহবাসের সুযোগ হয়নি। এর রহস্য সুস্পষ্ট যে, অপবিত্র অবস্থায় নারী আকর্ষণযোগ্য থাকে না। পবিত্রাবস্থায় এটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, স্বামীর হৃদয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি হবে আর তালাক প্রদানের ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ও রাসুলের এতেই অধিক সন্তুষ্টি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: