আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

২৩- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬০৫-২
- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
২০. খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখা হারাম
৩৯৭৮। সাঈদ ইবনে আমর আল আশ’আসী (রাহঃ) ......... মামার ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অপরাধী লোক ব্যতীত কেউ গুদামজাত করে না।
كتاب المساقاة والمزارعة
باب تَحْرِيمِ الاِحْتِكَارِ فِي الأَقْوَاتِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)