আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

২৫- হিবা / উপহার প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৩-২
- হিবা / উপহার প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
৩. দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া মাকরূহ
৪০৩৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বলেন যে, আমি আমার এই পুত্রকে একটি গোলাম দান করেছি। তিনি বললেন, তোমার সকল পুত্রকে দান করেছ কী? তিনি বললেন, না। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ তাহলে তা ফিরিয়ে নাও।
كتاب الهبات
باب كَرَاهَةِ تَفْضِيلِ بَعْضِ الأَوْلاَدِ فِي الْهِبَةِ
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ أَتَى بِي أَبِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَمًا . فَقَالَ " أَكُلَّ بَنِيكَ نَحَلْتَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَارْدُدْهُ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)