আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

২৫- হিবা / উপহার প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৩-৫
- হিবা / উপহার প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
৩. দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া মাকরূহ
৪০৩৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা তার সম্পদ থেকে কিছু দান করেন। আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা (রাহঃ) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসেন, আমার দানের উপর তাকে সাক্ষী রাখার জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এরূপ কাজ কি তুমি তোমার আর সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান কর। তখন আমার পিতা চলে আসেন এবং সে দান ফিরিয়ে নেন।
كتاب الهبات
باب كَرَاهَةِ تَفْضِيلِ بَعْضِ الأَوْلاَدِ فِي الْهِبَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ تَصَدَّقَ عَلَىَّ أَبِي بِبَعْضِ مَالِهِ فَقَالَتْ أُمِّي عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ لاَ أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَانْطَلَقَ أَبِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِيُشْهِدَهُ عَلَى صَدَقَتِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفَعَلْتَ هَذَا بِوَلَدِكَ كُلِّهِمْ " . قَالَ لاَ . قَالَ " اتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا فِي أَوْلاَدِكُمْ " . فَرَجَعَ أَبِي فَرَدَّ تِلْكَ الصَّدَقَةَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)