আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

২৬- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩২-২
- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
৪. ওয়াক্‌ফ
৪০৭৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... সূত্রে ইবনে আওন (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে আবু যায়দ ও আযহার (রাহঃ) এর হাদীস এ পর্যন্ত এসে শেষ হয়েছে যে, ‘অথবা কোন বন্ধু বান্ধবকে খাওয়ায় এতে সঞ্চয়কারী না হয়ে’, পরের অংশ তিনি উল্লেখ করেননি। আর ইবনে আদী (রাহঃ) এর হাদীসে তাই আছে, যা সুলায়ম (রাহঃ) উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ ‘অতঃপর আমি এই হাদীসটি মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করি ...... শেষ পর্যন্ত।’
كتاب الوصية
باب الْوَقْفِ
حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ السَّمَّانُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ حَدِيثَ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ وَأَزْهَرَ انْتَهَى عِنْدَ قَوْلِهِ " أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ " . وَلَمْ يُذْكَرْ مَا بَعْدَهُ . وَحَدِيثُ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ فِيهِ مَا ذَكَرَ سُلَيْمٌ قَوْلُهُ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُحَمَّدًا . إِلَى آخِرِهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)

পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।

(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
rabi
বর্ণনাকারী: