আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৩৭- পানাহার ও পানীয় দ্রব্যাদীর বিবরণ
হাদীস নং: ৫১৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ২০৪২-১
- পানাহার ও পানীয় দ্রব্যাদীর বিবরণ
২১. খেজুরের বিচি খেজুরের বাইরে ফেলা মুস্তাহাব এবং মেযবানের জন্য মেহমানের দুআ করা, নেককার মেহমানের কাছে দুআ চাওয়া ও মেহমানের তা সাড়া দেওয়া মুস্তাহাব
৫১৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতার নিকট আগমন করলেন। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাবার ও ওতবা (খেজুর চুর্ণ, পনির ও ঘি মিশিয়ে তৈরী এক প্রকার হালুয়া) উপস্থিত করলাম। তিনি কিছু খেলেন। তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে লাগলেন। আর বিচি গুলো মধ্যমা ও শাহাদত অঙ্গুলী একত্র করে দুআঙ্গুলের মাঝ দিয়ে ফেলতে লাগলেন।
শু’বা বলেন, এটা আমার ধারণা। তবে ইনশাআল্লাহ এতে দুআঙ্গুলের মাঝ দিয়ে বিচি ফেলার কথাটি আছে। তারপর তাঁর কাছে পানীয় আনা হলে তিনি তা পান করেন। পরে তিনি তাঁর ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমার পিতা তাঁর সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন। তখন তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি তাদের রিযিকে বরকত দাও, তাদের ক্ষমা কর এবং তাদের প্রতি রহম কর।
শু’বা বলেন, এটা আমার ধারণা। তবে ইনশাআল্লাহ এতে দুআঙ্গুলের মাঝ দিয়ে বিচি ফেলার কথাটি আছে। তারপর তাঁর কাছে পানীয় আনা হলে তিনি তা পান করেন। পরে তিনি তাঁর ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমার পিতা তাঁর সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন। তখন তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি তাদের রিযিকে বরকত দাও, তাদের ক্ষমা কর এবং তাদের প্রতি রহম কর।
كتاب الأشربة
باب اسْتِحْبَابِ وَضْعِ النَّوَى خَارِجَ التَّمْرِ وَاسْتِحْبَابِ دُعَاءِ الضَّيْفِ لأَهْلِ الطَّعَامِ وَطَلَبِ الدُّعَاءِ مِنَ الضَّيْفِ الصَّالِحِ وَإِجَابَتِهِ لِذَلِكَ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ، بْنِ خُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي - قَالَ - فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا وَوَطْبَةً فَأَكَلَ مِنْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِتَمْرٍ فَكَانَ يَأْكُلُهُ وَيُلْقِي النَّوَى بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ وَيَجْمَعُ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى - قَالَ شُعْبَةُ هُوَ ظَنِّي وَهُوَ فِيهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ إِلْقَاءُ النَّوَى بَيْنَ الإِصْبَعَيْنِ - ثُمَّ أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ الَّذِي عَنْ يَمِينِهِ - قَالَ - فَقَالَ أَبِي وَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ ادْعُ اللَّهَ لَنَا فَقَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এধরণের হাদীসগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যেভাবে খানাপিনার পর আল্লাহ তা'আলার স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করা দরকার, ঠিক তেমনি যখন আল্লাহর কোন বান্দা পানাহারে আপ্যায়িত করে, তখন তার জন্যেও দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত সাদ (রা)-এর বাড়িতে পানাহার শেষে তাঁর জন্যে যে দু'আ করেন, যার বর্ণনা হযরত আনাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ (রা)-এর দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ (রা)-এর দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)