আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৪০- সালামের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৪৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ২১৬৫-৩
- সালামের অধ্যায়
৪. আহলুল কিতাব (ইয়াহুদী-নাসারা) কে আগে সালাম করার নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সালামের জবাব দেয়ার পদ্ধতি
৫৪৭৩। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কয়েকজন ইয়াহুদী এল। তারা বলল السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ (হে আবু কাসিম! তোমার মরণ হোক)। তিনি বললেন, وَعَلَيْكُمْ (তোমাদের উপরেও)। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম- بَلْ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَالذَّامُ (বরং তোমাদের মরণ ও দূর্নাম হোক)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়িশা! তুমি কঠোর বাক্য প্রয়োগকারিণী হয়ো না। তিনি বললেন, তারা কি বলেছে, তা কি আপনি শোনেন নি? তিনি বললেন, তারা যা বলেছিল, তা-ই কি আমি তাদের ফিরিয়ে দেইনি? আমি বলেছিঃ ’ওয়া আলাইকুম’ (তোমাদের উপরেও)।
كتاب السلام
باب النَّهْىِ عَنِ ابْتِدَاءِ، أَهْلِ الْكِتَابِ بِالسَّلاَمِ وَكَيْفَ يَرُدُّ عَلَيْهِمْ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُنَاسٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . قَالَ " وَعَلَيْكُمْ " . قَالَتْ عَائِشَةُ قُلْتُ بَلْ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَالذَّامُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشَةُ لاَ تَكُونِي فَاحِشَةً " . فَقَالَتْ مَا سَمِعْتَ مَا قَالُوا فَقَالَ " أَوَلَيْسَ قَدْ رَدَدْتُ عَلَيْهِمُ الَّذِي قَالُوا قُلْتُ وَعَلَيْكُمْ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এসব ইয়াহূদী নবী করীম ﷺ-এর সাথে খুব অভদ্র ও নিন্দনীয় আচরণ করেছিল। তারা নবী করীম ﷺ-কে বলেছিল, তোমার মৃত্যু হোক। উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) তা বরদাশত করতে পারেননি এবং মন্দ বাক্যের জবাব মন্দ বাক্যের দ্বারা দিয়েছিলেন। নবী করীম ﷺ ইয়াহুদীদের অভদ্র আচরণে হয়ত অন্তরে ব্যথা পেয়েছিলেন এবং এরূপ ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি ব্যথিত অবস্থায়ও মন্দকে মন্দের দ্বারা প্রতিরোধ করতে পসন্দ করেননি। কারণ নবী করীম ﷺ-এর অভ্যাস হল ক্রোধকে দমন করা, মানুষের প্রতি সদয় থাকা এবং তাঁর শিক্ষা হল উত্তম তরীকার দ্বারা মন্দকে দূর করা। ওয়াযের চেয়ে আমল মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের উচিত, নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব নমুনা পেশ করা, যাতে আল্লাহর বান্দাগণ সহজে বুঝতে পারে যে, মুসলমানগণ আখেরী নবীর আদর্শের বাস্তব অনুসারী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)