আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪১- চিকিৎসা অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৫৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ২২০১-১
- চিকিৎসা অধ্যায়
২৩. কুরআন শরীফ এবং অন্যান্য দুআ যিক্র দিয়ে ঝার-ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ জায়েয
৫৫৪৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী কোন এক সফরে ছিলেন। তারা কোন একটি আরব গোত্রের বসতির কাছ দিয়ে পথ অতিক্রমকালে তাদের কাছে আতিথেয়তার কথা বললেন। তারা তাদের মেহমানদারী করল না। পরে তারা তাদের বলল, তোমাদের দলে কি কোন মন্ত্র বিশেষজ্ঞ আছে? কারণ বসতির সর্দার সাপে দংশিত হয়েছে কিংবা (বর্ণনা সন্দেহ, তারা বলল) বিপদাক্রান্ত হয়েছে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ। পরে সে তার কাছে গিয়ে সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করল। ফলে লোকটি ভাল হয়ে গেল এবং ঝাড়-ফুঁককারীকে ছাগলের একটি ছোট পাল দেওয়া হলো। সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল আর সে বলল, যতক্ষণ না তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে উল্লেখ না করি (ততক্ষণ গ্রহণ করতে পারি না)।
পরে সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বিষয়টি তাঁর কাছে বর্ণনা করল, সে বলল, ইযা রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি ফাতিহাতুল কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করিনি। তখন তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, তুমি কি করে জানলে যে, তা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা যায়? এরপর বললেন, তাদের কাছ থেকে তা নিয়ে নাও এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখবে।
পরে সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বিষয়টি তাঁর কাছে বর্ণনা করল, সে বলল, ইযা রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি ফাতিহাতুল কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করিনি। তখন তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, তুমি কি করে জানলে যে, তা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা যায়? এরপর বললেন, তাদের কাছ থেকে তা নিয়ে নাও এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখবে।
كتاب الطب
باب جَوَازِ أَخْذِ الأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالأَذْكَارِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانُوا فى سَفَرٍ فَمَرُّوا بِحَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَاسْتَضَافُوهُمْ فَلَمْ يُضِيفُوهُمْ . فَقَالُوا لَهُمْ هَلْ فِيكُمْ رَاقٍ فَإِنَّ سَيِّدَ الْحَىِّ لَدِيغٌ أَوْ مُصَابٌ . فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ نَعَمْ فَأَتَاهُ فَرَقَاهُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ الرَّجُلُ فَأُعْطِيَ قَطِيعًا مِنْ غَنَمٍ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا . وَقَالَ حَتَّى أَذْكُرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا رَقَيْتُ إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ . فَتَبَسَّمَ وَقَالَ " وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ " . ثُمَّ قَالَ " خُذُوا مِنْهُمْ وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ مَعَكُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ ঘটনার অনুরূপ অন্য এক ঘটনা মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে উল্লিখিত হয়েছে যে, এ জাতীয় এক সফরে এক পাগলের উপর লোকজন ফুঁক দেওয়াল। জনৈক সাহাবী সূরা ফাতিহা সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করে তিন দিন ফুঁক দেন, আল্লাহ তা'আলার করুণায় সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। তিনিও বিনিময় গ্রহণ করেছিলেন। তবে উক্ত সাহাবীর সংশয় দেখা দেয় যে, বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে, না অবৈধ। সুতরাং প্রত্যাবর্তন করে হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা সঠিক ও বৈধ বলে অভিমত দিলেন।
এসব হাদীসের আলোকে উলামা কিরাম ও ফকীহবৃন্দ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এরূপ ফুঁক দিয়ে বা তাবীজ লিখে বিনিময় গ্রহণ বৈধ, যেভাবে কবিরাজ ও ডাক্তারের জন্যে চিকিৎসার ফিস গ্রহণ করা বৈধ। তবে যদি পারিশ্রমিক ছাড়া ফিসাবিলিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সেবা করা হয় তবে তা উঁচুস্তরের বিষয়। আর নবীগণের সাথে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্কশীলদের পন্থা এটাই।
এসব হাদীসের আলোকে উলামা কিরাম ও ফকীহবৃন্দ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এরূপ ফুঁক দিয়ে বা তাবীজ লিখে বিনিময় গ্রহণ বৈধ, যেভাবে কবিরাজ ও ডাক্তারের জন্যে চিকিৎসার ফিস গ্রহণ করা বৈধ। তবে যদি পারিশ্রমিক ছাড়া ফিসাবিলিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সেবা করা হয় তবে তা উঁচুস্তরের বিষয়। আর নবীগণের সাথে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্কশীলদের পন্থা এটাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: