আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৬- ফাযায়েল ও শামাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৯১৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৬২
- ফাযায়েল ও শামাঈল অধ্যায়
৩৬. শরী’আত হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা আদেশ করেছেন তা পালন করা ওয়াজিব আর পার্থিব বিষয়ে তিনি যে অভিমত ব্যক্ত করেন, তা নয়
৫৯১৫। আব্দুল্লাহ ইবনে রুমী ইয়ামামী, আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম আনবারী ও আহমদ ইবনে জাফর মা’কিরী (রাহঃ) ......... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করলেন। লোকেরা খেজুর গাছ তাবীর করত। রাবী বলেন, অর্থাৎ নর ও নারী ফুলের রেণুতে মিশ্রণ ঘটিয়ে খেজুর গাছকে গর্ভদান করত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি করছ? তারা বললো আমরা এরূপ করে আসছি। তিনি বললেনঃ তোমরা এমন না করলেই বোধ হয় ভাল হয়।
রাবী বললেন, সুতরাং তারা তা বর্জন করল। আর এতে খেজুর ঝরে পড়ল অথবা (রাবী বলেছেন,) তার উৎপাদন কমে গেল। রাবী বলেন, লোকেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ ঘটনা বলল। তখন তিনি বললেন, আমি তো একজন মানুষ। দ্বীন সম্পর্কে যখন তোমাদের আমি কোন আদেশ দেই, তখন তোমরা তা পালন করবে, আর যখন কোন কথা আমি আমার মতানুসারে বলি, তখন তো আমি একজন মানুষ মাত্র। রাবী ইকরিমা (রাহঃ) বলেনঃ অথবা নবী (ﷺ) এরূপ বলেছেন। আর মা’কিরী (রাহঃ) সন্দেহ ব্যতিরেকে কেবল نَفَضَتْ (ঝরে পড়ল) বলেছেন।
রাবী বললেন, সুতরাং তারা তা বর্জন করল। আর এতে খেজুর ঝরে পড়ল অথবা (রাবী বলেছেন,) তার উৎপাদন কমে গেল। রাবী বলেন, লোকেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ ঘটনা বলল। তখন তিনি বললেন, আমি তো একজন মানুষ। দ্বীন সম্পর্কে যখন তোমাদের আমি কোন আদেশ দেই, তখন তোমরা তা পালন করবে, আর যখন কোন কথা আমি আমার মতানুসারে বলি, তখন তো আমি একজন মানুষ মাত্র। রাবী ইকরিমা (রাহঃ) বলেনঃ অথবা নবী (ﷺ) এরূপ বলেছেন। আর মা’কিরী (রাহঃ) সন্দেহ ব্যতিরেকে কেবল نَفَضَتْ (ঝরে পড়ল) বলেছেন।
كتاب الفضائل
باب وجوب امتثال ما قاله شرعا دون ما ذكره من معايش الدنيا على سبيل الرأي
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرُّومِيِّ الْيَمَامِيُّ، وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ، جَعْفَرٍ الْمَعْقِرِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا أَبُو النَّجَاشِيِّ، حَدَّثَنِي رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ، قَالَ قَدِمَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَهُمْ يَأْبُرُونَ النَّخْلَ يَقُولُونَ يُلَقِّحُونَ النَّخْلَ فَقَالَ " مَا تَصْنَعُونَ " . قَالُوا كُنَّا نَصْنَعُهُ قَالَ " لَعَلَّكُمْ لَوْ لَمْ تَفْعَلُوا كَانَ خَيْرًا " . فَتَرَكُوهُ فَنَفَضَتْ أَوْ فَنَقَصَتْ - قَالَ - فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَىْءٍ مِنْ دِينِكُمْ فَخُذُوا بِهِ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَىْءٍ مِنْ رَأْىٍ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ " . قَالَ عِكْرِمَةُ أَوْ نَحْوَ هَذَا . قَالَ الْمَعْقِرِيُّ فَنَفَضَتْ . وَلَمْ يَشُكَّ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মদীনা তাইয়্যিবা খেজুর ফলনের বিশেষ অঞ্চল ছিল। আর এখনও এরকমই আছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হিজরত করে সেখানে পৌঁছালেন তখন তিনি দেখলেন, সেখানের লোকজন খেজুর গাছগুলোর মধ্যে একটি গাছকে নর ও অন্য গাছটিকে মাদা নির্ধারণ করে সেগুলোর ফুলের কলিতে এক বিশেষ পদ্ধতিতে সংযোগ স্থাপন করছে। যাকে তা'বীর বলা হত। যেহেতু মক্কা মুকাররমা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খেজুর ফলত না, এজন্য এ তা'বীরের কাজ তাঁর জন্য একটি নতুন বিষয় ছিল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা-করলেন, তোমরা এটা কী করছ এবং কি জন্য করছ? তারা এর কোন বিশেষ রহস্য ও উপকারিতা বলতে পারেননি। তারা কেবল এই বলেন যে, প্রথম থেকেই আমরা তা করে আসছি। অর্থাৎ আমাদের বাপ-দাদাকে করতে দেখেছি এজন্য আমরাও করছি।
এটাকে তিনি জাহিলী যুগের অন্যান্য বহু অনর্থক বিষয়ের ন্যায় এক অতিরিক্ত ও ফায়দাহীন কাজ মনে করলেন এবং বললেন, সম্ভবত যদি এটা না কর ভাল হবে। তারা তাঁর এ কথা শুনে তা'বীরের কাজ ছেড়ে দিলেন। কিন্তু ফল দাঁড়ালো যে, খেজুরের ফলন কমে গেল। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এটা উল্লেখ করা হল। তিনি বললেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرِّ مِثْلُكُمُ الخ (অর্থাৎ আপন সত্তাগতভাবে আমি একজন মানুষ) আমার সব কথা দীনী হিদায়াত ও ওহীর ভিত্তিতে নয় বরং একজন মানুষ হিসাবেও কথা বলি। তবে যখন আমি নবী ও রাসূল হিসাবে দীনের লাইনে কোন নির্দেশ দেই, তা অবশ্য পালনীয়। আর যখন আমি কোন পার্থিব ব্যাপারে নিজের ব্যক্তিগত অভিমতে কিছু বলি, তবে এর মর্যাদা একজন মানুষের অভিমত। এতে ভুলও হতে পারে। আর তা'বীরের ব্যাপারে যে কথা আমি বলেছি, তা আমার ব্যক্তিগত ধারণা ও আমার ব্যক্তিগত অভিমত ছিল।
ঘটনা এই যে, বহু জিনিসে আল্লাহ্ তা'আলা আশ্চর্যজনক ও অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যাবলি রেখেছেন, যার পূর্ণ জ্ঞানও কেবল তাঁরই রয়েছে। তা'বীরের কাজে আল্লাহ্ তা'আলা বৈশিষ্ট্য রেখছেন যে, এর দ্বারা ফলন বেশি হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু বলা হয়নি। আর তাঁর এটা জানার প্রয়োজনও ছিল না। তিনি উদ্যান কাজের রহস্য বলার জন্য আসেননি। বরং মনুষ্য জগতের হিদায়াত এবং এ জগতকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। আর এজন্য যে ইলমের প্রয়োজন ছিল তা তাঁকে পরিপূর্ণ দান করা হয়েছিল।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, এ দুনিয়ার প্রত্যেক বিষয় ও প্রত্যেক জিনিসের ইলম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছিল, এ ধারণা ও আকীদা পোষণ করা ভুল। যারা এরূপ আকীদা পোষণ করে তারা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উচ্চাসন সম্পর্কে একেবারে অপরিচিত।
এটাকে তিনি জাহিলী যুগের অন্যান্য বহু অনর্থক বিষয়ের ন্যায় এক অতিরিক্ত ও ফায়দাহীন কাজ মনে করলেন এবং বললেন, সম্ভবত যদি এটা না কর ভাল হবে। তারা তাঁর এ কথা শুনে তা'বীরের কাজ ছেড়ে দিলেন। কিন্তু ফল দাঁড়ালো যে, খেজুরের ফলন কমে গেল। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এটা উল্লেখ করা হল। তিনি বললেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرِّ مِثْلُكُمُ الخ (অর্থাৎ আপন সত্তাগতভাবে আমি একজন মানুষ) আমার সব কথা দীনী হিদায়াত ও ওহীর ভিত্তিতে নয় বরং একজন মানুষ হিসাবেও কথা বলি। তবে যখন আমি নবী ও রাসূল হিসাবে দীনের লাইনে কোন নির্দেশ দেই, তা অবশ্য পালনীয়। আর যখন আমি কোন পার্থিব ব্যাপারে নিজের ব্যক্তিগত অভিমতে কিছু বলি, তবে এর মর্যাদা একজন মানুষের অভিমত। এতে ভুলও হতে পারে। আর তা'বীরের ব্যাপারে যে কথা আমি বলেছি, তা আমার ব্যক্তিগত ধারণা ও আমার ব্যক্তিগত অভিমত ছিল।
ঘটনা এই যে, বহু জিনিসে আল্লাহ্ তা'আলা আশ্চর্যজনক ও অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যাবলি রেখেছেন, যার পূর্ণ জ্ঞানও কেবল তাঁরই রয়েছে। তা'বীরের কাজে আল্লাহ্ তা'আলা বৈশিষ্ট্য রেখছেন যে, এর দ্বারা ফলন বেশি হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু বলা হয়নি। আর তাঁর এটা জানার প্রয়োজনও ছিল না। তিনি উদ্যান কাজের রহস্য বলার জন্য আসেননি। বরং মনুষ্য জগতের হিদায়াত এবং এ জগতকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। আর এজন্য যে ইলমের প্রয়োজন ছিল তা তাঁকে পরিপূর্ণ দান করা হয়েছিল।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, এ দুনিয়ার প্রত্যেক বিষয় ও প্রত্যেক জিনিসের ইলম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছিল, এ ধারণা ও আকীদা পোষণ করা ভুল। যারা এরূপ আকীদা পোষণ করে তারা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উচ্চাসন সম্পর্কে একেবারে অপরিচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: