আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৫৯৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮৮-৩
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
১. আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর ফযীলত
৫৯৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যুহরী (রাহঃ) সূত্রে ইউনুস বর্ণিত হাদীসের সমর্থনে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাদের হাদীসে একই সাথে গাভী ও ছাগলের কাহিনী রয়েছে। তাদের দু’জনের বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ ব্যাপারটি আমি, আবু বকর এবং উমর বিশ্বাস করি। তাঁরা দু’জন [আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)] তখন সেখানে ছিলেন না।
كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم
باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضى الله عنه
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَفِي حَدِيثِهِمَا ذِكْرُ الْبَقَرَةِ وَالشَّاةِ مَعًا وَقَالاَ فِي حَدِيثِهِمَا " فَإِنِّي أُومِنُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " . وَمَا هُمَا ثَمَّ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঈমানের হাকীকত এই যে, আল্লাহর পয়গাম্বর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সংবাদ পেয়ে যা কিছু বলবেন, এর উপর ঈমান আনতে হবে এবং এটাকে কোন সংশয়-সন্দেহ ছাড়া হক ও সত্য বলে মেনে নিতে হবে-যদিও দুনিয়ার সাধারণ অবস্থার দৃষ্টিতে ঐ বিষয়টি বোধগম্য না হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলদ ও বাঘের কথা বলার যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, এটা এ ধরনের বিষয়ই ছিল। এ কারণেই উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তখন হুযুর (ﷺ) বললেন যে, আমার ঈমান এই যে, এটা সত্য ও বাস্তব। তিনি নিজের সাথে আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. নাম নিয়েও বললেন যে, তাঁদের দু'জনেরও ঈমান রয়েছে যে, এটা সত্য ও বাস্তব। বর্ণনাকারী বলেন যে, একথা তিনি এমন সময় বললেন, যখন তাঁদের দু'জনের একজনও সেখানে বর্তমান ছিলেন না। এ জন্য এ সন্দেহও করা যায় না যে, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে কিংবা তাঁদেরকে খুশী করার জন্য তিনি এ কথা বলেছেন। এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পবিত্র যবানে হযরত আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. পরিপূর্ণ ঈমান, ঈমানী অবস্থায় হুযুর (ﷺ)-এর অতি নিকটবর্তী হওয়া এবং এক্ষেত্রে তাঁদের বৈশিষ্ট্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ দু'জনের সাথে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ আচরণেরও এটা একটি উদাহরণ, হযরত আলী রাযি.-এর উক্তিতে পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক ক্ষেত্রে নিজের সাথে এ দু'জনের উল্লেখও তাঁদের নাম নিয়ে করতেন। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَ وَأَرْضَاهُمَ
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)