আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৫৯৭০
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮৮-৪
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
১. আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর ফযীলত
৫৯৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইবনে বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم
باب مِنْ فَضَائِلِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضى الله عنه
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঈমানের হাকীকত এই যে, আল্লাহর পয়গাম্বর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সংবাদ পেয়ে যা কিছু বলবেন, এর উপর ঈমান আনতে হবে এবং এটাকে কোন সংশয়-সন্দেহ ছাড়া হক ও সত্য বলে মেনে নিতে হবে-যদিও দুনিয়ার সাধারণ অবস্থার দৃষ্টিতে ঐ বিষয়টি বোধগম্য না হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলদ ও বাঘের কথা বলার যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, এটা এ ধরনের বিষয়ই ছিল। এ কারণেই উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তখন হুযুর (ﷺ) বললেন যে, আমার ঈমান এই যে, এটা সত্য ও বাস্তব। তিনি নিজের সাথে আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. নাম নিয়েও বললেন যে, তাঁদের দু'জনেরও ঈমান রয়েছে যে, এটা সত্য ও বাস্তব। বর্ণনাকারী বলেন যে, একথা তিনি এমন সময় বললেন, যখন তাঁদের দু'জনের একজনও সেখানে বর্তমান ছিলেন না। এ জন্য এ সন্দেহও করা যায় না যে, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে কিংবা তাঁদেরকে খুশী করার জন্য তিনি এ কথা বলেছেন। এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পবিত্র যবানে হযরত আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. পরিপূর্ণ ঈমান, ঈমানী অবস্থায় হুযুর (ﷺ)-এর অতি নিকটবর্তী হওয়া এবং এক্ষেত্রে তাঁদের বৈশিষ্ট্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ দু'জনের সাথে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ আচরণেরও এটা একটি উদাহরণ, হযরত আলী রাযি.-এর উক্তিতে পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক ক্ষেত্রে নিজের সাথে এ দু'জনের উল্লেখও তাঁদের নাম নিয়ে করতেন। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَ وَأَرْضَاهُمَ
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)