আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

হাদীস নং: ৫৯৭১
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮৯-১
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
২. উমর (রাযিঃ) এর ফযীলত
৫৯৭১। সাঈদ ইবনে আমর আল-আশআসী, আবুর রবীহ আল আতাকী ও আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) কে তাঁর খাটিয়ায় রাখা হলে লোকেরা তার পাশে জমা হয়ে দুআ, প্রশংসা ও রহম কামনা করছিলো, তখনও তাঁর জানাযা হয় নি। আমিও লোকদের সঙ্গে ছিলাম। এক ব্যক্তি পেছন থেকে আমার কাঁধে হাত রাখলে আমি ভয় পেলাম। ফিরে দেখি আলী (রাযিঃ)। তিনি বললেন, আল্লাহ উমর (রাযিঃ) এর উপর রহম করুন। তারপর উমরকে সম্বোধন করে বললেন, হে উমর! আপনি আপনার চেয়ে বেশী প্রিয় কোন ব্যক্তি রেখে যাননি (যার আমল এমন যে), তার মত আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে মিলিত হতে পছন্দ করি। আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয়, আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সাথীর সঙ্গেই রাখবেন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রায়ই বলতে শুনেছি, আমি, আবু বকর ও উমর এসেছি; প্রবেশ করেছি আমি, আবু বকর ও উমর; বেরও হয়েছি আমি, আবু বকর ও উমর। এ জন্যে আমার দৃঢ় আশা ও বিশ্বাস এই যে, আল্লাহ আপনাকে তাঁদের সাথেই রাখবেন।
كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم
باب مِنْ فَضَائِلِ عُمَرَ رضى الله تعالى عنه
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ وُضِعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلَى سَرِيرِهِ فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ يَدْعُونَ وَيُثْنُونَ وَيُصَلُّونَ عَلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ - قَالَ - فَلَمْ يَرُعْنِي إِلاَّ بِرَجُلٍ قَدْ أَخَذَ بِمَنْكِبِي مِنْ وَرَائِي فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ عَلِيُّ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ وَقَالَ مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَىَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ وَذَاكَ أَنِّي كُنْتُ أُكَثِّرُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " جِئْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " . فَإِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَوْ لأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَهُمَا .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আলী রাযি.-এর এ বক্তব্য কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না। এতে তিনি যে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আমি এটাই ধারণা করতাম যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার দু'সাথী (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর সিদ্দীক)-এর সঙ্গেই করে দিবেন।" এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, আমার এটাই আশা ছিল যে, আপনি তাঁদের সাথেই সমাহিত হবেন। আর এ অর্থও হতে পারে যে, আখেরাতে জান্নাতে আপনাকে তাঁদের সাথী বানিয়ে দেওয়া হবে। আর উভয় অর্থও নেওয়া যেতে পারে। অধম সংকলকের নিকট এটাই প্রাধান্যযোগ্য। হযরত আলী রাযি. এ বক্তব্যে এ বাস্তব সত্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন এ দু'সাথীর সাথে তাঁর এমন বিশেষ সম্পর্ক ছিল, যা কেবল তাঁদের ভাগ্যেই জুটেছিল।

হযরত আলী রাযি. নিজের এ বক্তব্যের শুরুতে এই কথা বলেছেন, مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ (অর্থাৎ, আপনি আপনার পর আল্লাহর এমন কোন বান্দা ছেড়ে যাননি, যার আমলের মত আমল নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া আমি পছন্দ করব।) এর দ্বারা জানা গেল যে, হযরত আলী রাযি.-এর অপছন্দ ও বাসনা ছিল যে, আমি আল্লাহর দরবারে হযরত উমরের ন্যায় আমল নিয়ে যদি উপস্থিত হতে পারতাম। আর হযরত উমরের পর এমন কোন ব্যক্তি রইলেন না।

হাফেয ইবনে হাজার (রহঃ) এ হাদীসেরই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন:

وَقَدْ أَخْرَجَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُسَدَّدٌ مِنْ طَرِيقِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ نَحْوَ هَذَا الْكَلَامِ، وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ، وَهُوَ شَاهِدٌ جَيِّدٌ لِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ، كَوْنُ مُخْرَجِهِ مِنْ آلِ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ.

অর্থাৎ, ইবনে আবী শায়বা ও মুসাদ্দাদ হযরত জাফর সাদেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নিজের পিতা মুহাম্মদ (বাকের) থেকে স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর মুখ নিসৃত এ ধরনের বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ এবং ইবনে আব্বাসের বর্ণনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। কেননা, এটা স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর আওলাদের বর্ণনা। -ফতহুল বারী, খণ্ড-১৪, পৃষ্ঠা-৩৭৪
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)