আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
১৯- জানাযার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩০৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৯০
- জানাযার অধ্যায়
৮৭৯. নবী (ﷺ), আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) এর কবরের বর্ণনা।
১৩০৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত হোক। কারণ, তারা নিজেদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী উরওয়া বলেন) এরূপ আশঙ্কা না থাকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে সংরক্ষিত না রেখে) খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি (নবী ﷺ) আশঙ্কা করেন বা আশঙ্কা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে।
রাবী হিলাল (রাহঃ) বলেন, উরওয়া আমাকে (আবু আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি।
রাবী হিলাল (রাহঃ) বলেন, উরওয়া আমাকে (আবু আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি।
كتاب الجنائز
باب مَا جَاءَ فِي قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ـ رضى الله عنهما
1390 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ هِلاَلٍ هُوَ الوَزَّانُ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ: «لَعَنَ اللَّهُ اليَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» ، لَوْلاَ ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ [ص:103] غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ - أَوْ خُشِيَ - أَنَّ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا وَعَنْ هِلاَلٍ، قَالَ: «كَنَّانِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَلَمْ يُولَدْ لِي»...............
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ এ কথাটিও ঐ ভাষণে বলেছিলেন, যা তিনি ওফাতের পাঁচ দিন পূর্বে মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। অপর কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) রোগের তীব্রতার সময়-যখন তিনি নিজের বিছানায়ই ছিলেন, এ কথাটি বলেছিলেন। যুক্তির কথা এই যে, এ কথাটি তিনি রোগের তীব্রতার সময় বিছানায় শুয়েই বলেছিলেন এবং মসজিদের সাধারণ ভাষণেও বলেছিলেন। কেননা, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে বিরাট দুশ্চিন্তা ছিল যে, আমার পর আমার উম্মতের লোকেরা আমার কবরের সাথে ঐ আচরণ করে কিনা, যে আচরণ ইয়াহুদী ও নাসারাগণ তাদের নবীদের কবরের সাথে করেছে এবং এর ফলে তারা আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হয়ে গিয়েছে।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)