আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৮- সদ্ব্যবহার,আত্নীয়তা রক্ষা (মুআশারা) ও বিবিধ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৬৩৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৯৯
- সদ্ব্যবহার,আত্নীয়তা রক্ষা (মুআশারা) ও বিবিধ শিষ্টাচার
২৪. চতুষ্পদ প্রাণী ইত্যাদিকে লা’নত করা নিষিদ্ধ
৬৩৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মুশরিকদের জন্য বদ দুআ করুন। তিনি বললেনঃ আমি তো লানতকারী রূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ।
كتاب البر والصلة والآداب
باب النَّهْىِ عَنْ لَعْنِ الدَّوَابِّ، وَغَيْرِهَا،
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِيَانِ الْفَزَارِيَّ - عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ قَالَ " إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে কাফের ও মুশরিকগণ তাঁর এবং তাঁর আনীত সত্য দ্বীনের চরম শত্রু ছিল। স্বয়ং তাঁকে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদেরকে তারা বিভিন্ন রকম কষ্ট দিত। এমনকি হুযুর (ﷺ)-কে আপন প্রিয় ও পবিত্র মাতৃভূমি ছাড়তে হয়েছিল। এরপরও তাদের ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং অপতৎপরতা চলতেই থাকে। এক সময় সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হল যে, এসব জালেম ও পাপিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আপনি বদদু‘আ করুন, যেন আল্লাহ্ তাদের উপর নিজের ক্রোধ ও আযাব নাযিল করেন এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেন- যেমন পূর্ববর্তী অনেক উম্মতের এমন জালেম ও কাফেরদের উপর আযাব নাযিল হয়েছে এবং পৃথিবীকে তাদের অস্তিত্ব থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। হুযুর (ﷺ) এ আব্দারের উত্তরে বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে এ জন্য প্রেরণ করেননি যে, আমি অভিশাপ ও বদদু‘আ দিব, আমাকে তো সারা জাহানের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পবিত্র কিতাবে এরশাদ করেছেন: وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)