আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৫১- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৫৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৬৯১
- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়
১০. তাহলীল (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলা), তাসবীহ (سُبْحَانَ اللَّه বলা) ও দুআর ফযীলত
৬৫৯৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই; তিনিই সবকিছু উপর ক্ষমতাবান) এই দুআ দিনে একশ বার পাঠ করে সে দশজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে, তার আমল নামায় একশ নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার থেকে একশ গোনাহ মুছে দেওয়া হবে। আর তা ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান (তার কুমন্ত্রণা) থেকে তার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে যায়। সেদিন সে যা করেছে তার চেয়ে উত্তম পুণ্য সম্পাদনকারী কেউ হবে না। কিন্তু কেউ তার বেশী আমল করলে তার কথা ভিন্ন।

আর যে ব্যক্তি দিনে একশ’ বার سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ (আমি আল্লাহর সপ্রশংসা পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পাঠ করবে, তার যাবতীয় গোনাহ মোচন করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়।
كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار
باب فَضْلِ التَّهْلِيلِ وَالتَّسْبِيحِ وَالدُّعَاءِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ . فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ . كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . وَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নিঃসন্দেহে কালিমায়ে তাওহীদ-যাতে কলিমায়ে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাথে এমন কিছু শব্দের সংযোজন আছে যদ্বারা তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক বক্তব্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হয়ে যায়- তা এতই মাহাত্ম্যপূর্ণ ও বরকতময়, যা এ হাদীসখানাতে উক্ত হয়েছে। মৃত্যুর পর ইনশাআল্লাহ তা আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করবো। যে সমস্ত হাদীসে কোন কালিমার এতবড় বড় ছওয়াবের কথা আছে, সেগুলো নিয়ে কারো কারো মনে সংশয়-সন্দেহের উদ্রেক হয়ে থাকে। অথচ তারা নিজেরাই হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন বা তাদের অভিজ্ঞতায় তা থাকতে পারে যে, অমঙ্গল ও ফ্যাসাদের এক একটি উক্তি অনেক সময় এমনি আগুন লাগিয়ে দেয় এবং তার অশুভপ্রভাব বছরের পর বছর ধরে কত পরিবার ও কত সম্প্রদায়ের জীবনকে দুর্বিষহ করে রাখে। অনুরূপভাবে কোন কোন সদিচ্ছা নিয়ে বলা কোন কোন সদুক্তি ফ্যাসাদের লেলিহান অগ্নিশিখা নির্বাপণে ঠাণ্ডা পানির মত কাজ করে থাকে। ফলে অশান্তি ও তিক্ততায়পূর্ণ বিষাদময় জীবনকে শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে পূর্ণ করে দেয়। এ দুনিয়ায় মানুষের মুখ নিঃসৃত আয় এর সুদূর প্রসার প্রভাব সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে পারলৌকিক ক্ষেত্রে তার চাইতে সুদূর প্রসারী ফলদায়ক বাণীর প্রভাব উপলব্ধি করা আর তেমন কঠিন থাকে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)