আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
২০- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৮৪
- যাকাতের অধ্যায়
৯৩৮. পাঁচ ওসাকের কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই।
১৩৯৭। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু সা‘ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, পাঁচ ওসাকের কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটের যাকাত নেই। এমনিভাবে পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যেরও যাকাত নেই।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন: এটি প্রথম উক্তির ব্যাখ্যা—যখন বলা হয়, ‘পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে যাকাত নেই।’ আর জ্ঞানের ব্যাপারে সর্বদা গ্রহণ করা হবে সেই কথাই, যা নির্ভরযোগ্য আলেমগণ বাড়িয়ে বলেছেন বা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন: এটি প্রথম উক্তির ব্যাখ্যা—যখন বলা হয়, ‘পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে যাকাত নেই।’ আর জ্ঞানের ব্যাপারে সর্বদা গ্রহণ করা হবে সেই কথাই, যা নির্ভরযোগ্য আলেমগণ বাড়িয়ে বলেছেন বা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
كتاب الزكاة
باب لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ
1484 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيْسَ فِيمَا أَقَلُّ مِنْ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ، وَلاَ فِي أَقَلَّ مِنْ خَمْسَةٍ مِنَ الإِبِلِ الذَّوْدِ صَدَقَةٌ، وَلاَ فِي أَقَلَّ مِنْ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الوَرِقِ صَدَقَةٌ»
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا تَفْسِيرُ الأَوَّلِ إِذَا قَالَ: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ» وَيُؤْخَذُ أَبَدًا فِي العِلْمِ بِمَا زَادَ أَهْلُ الثَّبَتِ أَوْ بَيَّنُوا
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا تَفْسِيرُ الأَوَّلِ إِذَا قَالَ: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ» وَيُؤْخَذُ أَبَدًا فِي العِلْمِ بِمَا زَادَ أَهْلُ الثَّبَتِ أَوْ بَيَّنُوا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নববী যুগে বিশেষ করে মদীনার আশেপাশে যারা ধনী ও অবস্থাসম্পন্ন ছিল, তাদের কাছে সম্পদ সাধারণতঃ তিন প্রকারের যে কোন এক প্রকার থাকত। হয়তো তাদের বাগানের উৎপাদিত ফসল খেজুরের আকারে, অথবা রূপার আকারে কিংবা উটের আকারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে এ তিন প্রকার সম্পদেরই যাকাতের নেসাব বলে দিয়েছেন, অর্থাৎ, এসব জিনিসের কমপক্ষে কি পরিমাণে যাকাত ওয়াজিব হবে। খেজুরের বেলায় তিনি বলে দিয়েছেন যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। এক ওয়াসাক প্রায় ৬ মণের সমান হয়। এ হিসাবে ৫ ওয়াসাক খেজুর প্রায় ৩০ মণ হবে। রূপার ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে, ৫ উকিয়্যার কম হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। এক উকিয়্যা রূপা ৪০ দেরহামের সমান হয়। এ হিসাবে ৫ উকিয়্যা ২০০ দেরহামের সমান হবে- যার ওজন প্রসিদ্ধ মত হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা হয়। উটের ব্যাপারে তিনি বলে দিয়েছেন যে, সংখ্যায় পাঁচের কম হলে এতে যাকাত আসবে না। এ হাদীসে কেবল এ তিনটি জিনিসে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ন্যূনতম পরিমাণ বলে দেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ) লিখেছেন যে, ৫ ওয়াসাক (৩০ মণ) খেজুর একটি ছোট পরিবারের সারা বছরের সংসার চলার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। তদ্রপভাবে ২০০ দেরহামে সারা বছরের খরচ চলতে পারত, আর মূল্যমান বিবেচনায় ৫টি উট প্রায় এরই সমান হত। এ জন্য এ পরিমাণ সম্পদের মালিককে অবস্থাসম্পন্ন ও সম্পদশালী ধরে নিয়ে তার উপর যাকাত ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ) লিখেছেন যে, ৫ ওয়াসাক (৩০ মণ) খেজুর একটি ছোট পরিবারের সারা বছরের সংসার চলার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। তদ্রপভাবে ২০০ দেরহামে সারা বছরের খরচ চলতে পারত, আর মূল্যমান বিবেচনায় ৫টি উট প্রায় এরই সমান হত। এ জন্য এ পরিমাণ সম্পদের মালিককে অবস্থাসম্পন্ন ও সম্পদশালী ধরে নিয়ে তার উপর যাকাত ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: