কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৬
আন্তর্জাতিক নং: ১০৬
পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
৫০. নবী (ﷺ) এর উযুর বর্ণনা।
১০৬. অলি-হাসান ইবনে আলী ..... হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে উযু করতে দেখেছ। তিনি প্রথমে তাঁর দুই হাতের উপর তিনবার করে পানি ঢেলে তা ধৌত করেন। অতঃপর তিনি কুলকুচা করেন ও নাক পরিষ্কার করেন। তারপর তিনবার (সমস্ত) মুখমণ্ডল ধৌত করেন। পরে তিনি তাঁর ডান হাত কনুই সমেত তিনবার ধৌত করেন এবং বাম হাতও অনুরূপ ভাবে ধৌত করেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ্ করেন। পরে তিনি স্বীয় ডান পা তিনবার ধৌত করেন এবং একই রূপে বাম পাও ধৌত করেন। অবশেষে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আমার এই উযুর ন্যায় উযু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার অনুরূপ উযু করে দুই রাকআত নামায আদায় করবে, যাতে তার নফসের মধ্যে কোনরূপ অসঅসা না হয়- আল্লাহ্ তাআলা তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত গুনাহ মার্জনা করবেন।
كتاب الطهارة
باب صِفَةِ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاَثًا فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উসমান (রা) আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উযূর যে নিয়ম কার্যত দেখালেন তাই মূলতঃ উযূর উত্তম সুন্নাত নিয়ম। নবী কারীম ﷺ কয়বার কুলি, মুখ এবং পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করেছিলেন, এ হাদীসে তার উল্লেখ নেই। কিন্তু অপরাপর বর্ণনা দ্বারা তিনবারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এ হাদীসে একাগ্রতা ও বিনয় নম্রতার সাথে যে দু'রাক'আত সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে তা নফল সালাত নাও হতে পারে। কাজেই বলা যায়, কেউ যদি মাসনূন পদ্ধতিতে উযূ করে ফরয কিংবা সুন্নাত সালাত আদায় করে এবং তাতে পূর্ণ একাগ্রতা থাকে সেও আল্লাহ্ চাহেত প্রতিশ্রুত মাগফিরাত লাভে ধন্য হবে।

হাদীস ভাষ্যকার ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের মতে, মনে যদি এদিক সেদিকের খেয়াল চেপে বসে তবে তাই হচ্ছে বিক্ষিপ্ত চিন্তা। কিন্তু যদি কোন খেয়াল অন্তরে বদ্ধমূল না হয় এবং তা দূরীকরণের চেষ্টা করা হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কারণ এসব বিষয় কামিল মু'মিনদের সামনেও ভেসে ওঠে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)