কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫২
আন্তর্জাতিক নং: ১৫২
পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
৫৯. মোজার উপর মাসাহ করা সম্পর্কে।
১৫২. হুদবা ইবনে খালিদ .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মলমূত্র ত্যাগের জন্য দূরে যাওয়ায় নামাযের জামাতে উপস্থিত হতে বিলম্ব হয়। অতঃপর তিনি এই ঘটনাটি বর্ণনা করেন। আমরা লোকদের নিকট এসে দেখি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) সকলকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেয়ে পিছনের দিকে সরে আসতে চাইলে তিনি তাঁকে ইশারায় নামায পড়াতে বলেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি (মুগীরা) এবং নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে নামাযের যে রাকআতটি ইমামের সাথে পাননি তা আদায় করেন এবং অতিরিক্ত কিছুই করেননি।
كتاب الطهارة
باب الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ هَذِهِ الْقِصَّةَ . قَالَ فَأَتَيْنَا النَّاسَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ يَمْضِيَ - قَالَ - فَصَلَّيْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ رَكْعَةً فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الرَّكْعَةَ الَّتِي سُبِقَ بِهَا وَلَمْ يَزِدْ عَلَيْهَا شَيْئًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ وَابْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ عُمَرَ يَقُولُونَ مَنْ أَدْرَكَ الْفَرْدَ مِنَ الصَّلاَةِ عَلَيْهِ سَجْدَتَا السَّهْوِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদ আল-খুদরি, ইবনুয-যুবাইর ও ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন-কোন ব্যাক্তি ঈমামের সাথে আংশিক নামায পেলে তাকে দু’টি সাহু সিজদা করতে হবে।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে ঘটনা বর্ণনায় খুবই সংক্ষিপ্ত রূপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ হযরত মুগীরার অপর একটি বর্ণনা দ্বারা জানা যায়- যা সুনানে সাঈদ ইবনে মনসুরের বরাতে কানযুল উম্মালে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর সারসংক্ষেপ এই যে, জনৈক ব্যক্তি হযরত মুগীরা ইবনে শো'বাকে জিজ্ঞাসা করল, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ছাড়া অন্য কারো ইমামতিতেও হুযুর (ﷺ) কোন নামায আদায় করেছেন? তখন মুগীরা বললেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। যখন সুবহে সাদেক ঘনিয়ে আসল, তখন তিনি আমাকে ইশারা করলেন। আমি বুঝে ফেললাম যে, তিনি এস্তেঞ্জার জন্য যেতে চান। আমি তাঁর সাথী হয়ে গেলাম। তারপর তিনি এবং তাঁর সাথে আমিও অন্যান্য সাথীদের থেকে পৃথক হয়ে একদিকে চলে গেলাম। এভাবে আমরা লোকদের দৃষ্টি থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম। তারপর হুযুর (ﷺ) আমাকে ছেড়ে দিয়ে একদিকে চলে গেলেন, কিছুক্ষণ পর প্রয়োজন সেরে তিনি আমার কাছে তাশরীফ আনলেন এবং আমাকে বললেন, তোমার নিকট কি পানি আছে? আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ, আছে। তারপর আমি নিজের মশক থেকে পানি নিলাম- যা আমার সওয়ারীর হাওদার সাথে লটকানো ছিল। আমি পানি নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি প্রথমে নিজের দু'হাত খুব ভালভাবে ধুয়ে নিলেন, আর আমি তাঁর হস্তদ্বয়ে পানি ঢাললাম। তারপর তিনি আপন মুখমণ্ডল এবং দু'হাত (কনুই পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন, মাথা মাসেহ করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন। তারপর আমরা নিজ নিজ সওয়ারীতে আরোহণ করে ফিরে আসলাম। আমরা এখানে এমন সময় পৌঁছলাম যে, ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গিয়েছিল। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ইমাম হয়ে নামায পড়াচ্ছিলেন এবং তখন দ্বিতীয় রাকআতে ছিলেন। আমি আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ইশারা করতে চাইলাম যে, হুযুর (ﷺ) এসে গিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমাকে নিষেধ করলেন। তাই আমরা দ্বিতীয় রাকাআতটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে এক্তেদা করে পড়ে ছিলাম, আর প্রথম রাকাআত- যা আগেই ছুটে গিয়েছিল, তা আমরা পরে আদায় করে নিলাম।

এ ঘটনারই অপর এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, ফজরের নামায শুরু করতে যখন খুব দেরী হতে লাগল, (এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের কারো জানা ছিল না যে, তিনি কোন্ দিকে গিয়েছেন এবং কখন ফিরে আসবেন,) তখন পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হল যে, এখন নামায আদায় করে নেওয়া হোক এবং উপস্থিত লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ইমাম বানিয়ে নামায শুরু করে দিলেন। আগেই যেমন বলা হয়েছে যে, এক রাকআত হওয়ার পর হুযুর (ﷺ) ও মুগীরা ইবনে শো'বা এসে পৌছলেন এবং জামাআতে শামিল হয়ে দ্বিতীয় রাকাআত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে আদায় করলেন। আর ছুটে যাওয়া রাকাআতটি পরে আদায় করে নিলেন।

এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফের এ বৈশিষ্ট্যও অর্জিত রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) তাঁর পেছনে এক্তেদা করে নামায পড়েছেন এবং তিনি ইমামতির স্থান থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা করলে হুযুর (ﷺ) তাঁকে নিষেধ করে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান