কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৯৭২
আন্তর্জাতিক নং: ৯৭২
নামাযের অধ্যায়
১৮৮. তাশাহ্হুদের বর্ণনা।
৯৭২. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুকাশী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু মুসা আল্-আশআরী (রাযিঃ) আমাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর যখন সর্বশেষ বৈঠকে বসেন, তখন এক ব্যক্তি বলেঃ কল্যাণ ও পবিত্রতার মধ্যে নামায সুস্থির হয়েছে। আবু মুসা (রাযিঃ) নামায শেষে লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলেছে? রাবী বলেনঃ সমবেত সকলে নিশ্চুপ থাকে। পুনরায় তিনি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে সকলে একইরূপে চুপ থাকে। তখন তিনি বলেনঃ হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই এরূপ বলেছ। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তা বলি নাই। তবে আমি ভয় করেছিলাম যে, এ ব্যাপারে হয়ত আমাকেই দোষারোপ করা হবে।
রাবী হিত্তান বলেনঃ এমন সময় কওমের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, আমিই তা বলেছি। তবে আমি এরূপ বলার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করেছিলাম। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি অবগত নও তোমরা নামাযের মধ্যে কি বলবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে আমাদের খুতবার মধ্যে শিক্ষা দিয়েছিল এবং নিয়ম কানুন ও নামায সম্পর্কে বিশেষরূপে জ্ঞাত করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তোমরা নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন সোজাভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমাদের মধ্যেকার একজন ইমামতি করবে। ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবেন তখন তোমরাও তা বলবে এবং যখন ইমাম ‘‘গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওলাদদাল্লীন পড়বেন তখন তোমরা ‘আমীন’’ বলবে। (এর ফলশ্রুতিতে) আল্লাহ পাক তোমাদের দুআ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বেই রুকুতে গমন করবেন এবং উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এটা ওর পরিবর্তে (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে আগে যাওয়ার আগে উঠবেন)।
অতঃপর ইমাম যখন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলবেন, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ।’’ আল্লাহ তোমাদের ওটা কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবীর যবানিতে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলিয়েছেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবেন, তখন তোমরাও তা বলে সিজদা করবে এবং যেহেতু ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদায় গমন করবেন, সেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বেই উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা ওটার পরিবর্তে। অতঃপর তোমরা যখন বৈঠকে বসবে, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আত্তাহিয়্যাতু ওয়াততায়্যেবাতু ওয়াস্-সালাতু লিল্লাহি আস্-সালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকআতুহু আস্-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।’’
রাবী আহমদের বর্ণনায় ‘‘ওয়া বারাকআতুহু’’ ও ‘আশহাদু’’ শব্দ দুইটির উল্লেখ নাই বরং ‘‘ওয়া আন্না মুহাম্মাদান’’ এর উল্লেখ আছে।
রাবী হিত্তান বলেনঃ এমন সময় কওমের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, আমিই তা বলেছি। তবে আমি এরূপ বলার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করেছিলাম। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি অবগত নও তোমরা নামাযের মধ্যে কি বলবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে আমাদের খুতবার মধ্যে শিক্ষা দিয়েছিল এবং নিয়ম কানুন ও নামায সম্পর্কে বিশেষরূপে জ্ঞাত করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তোমরা নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন সোজাভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমাদের মধ্যেকার একজন ইমামতি করবে। ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবেন তখন তোমরাও তা বলবে এবং যখন ইমাম ‘‘গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওলাদদাল্লীন পড়বেন তখন তোমরা ‘আমীন’’ বলবে। (এর ফলশ্রুতিতে) আল্লাহ পাক তোমাদের দুআ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বেই রুকুতে গমন করবেন এবং উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এটা ওর পরিবর্তে (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে আগে যাওয়ার আগে উঠবেন)।
অতঃপর ইমাম যখন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলবেন, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ।’’ আল্লাহ তোমাদের ওটা কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবীর যবানিতে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলিয়েছেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবেন, তখন তোমরাও তা বলে সিজদা করবে এবং যেহেতু ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদায় গমন করবেন, সেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বেই উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা ওটার পরিবর্তে। অতঃপর তোমরা যখন বৈঠকে বসবে, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আত্তাহিয়্যাতু ওয়াততায়্যেবাতু ওয়াস্-সালাতু লিল্লাহি আস্-সালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকআতুহু আস্-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।’’
রাবী আহমদের বর্ণনায় ‘‘ওয়া বারাকআতুহু’’ ও ‘আশহাদু’’ শব্দ দুইটির উল্লেখ নাই বরং ‘‘ওয়া আন্না মুহাম্মাদান’’ এর উল্লেখ আছে।
كتاب الصلاة
باب التَّشَهُّدِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ فَلَمَّا جَلَسَ فِي آخِرِ صَلاَتِهِ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أُقِرَّتِ الصَّلاَةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ . فَلَمَّا انْفَتَلَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ قَالَ فَلَعَلَّكَ يَا حِطَّانُ أَنْتَ قُلْتَهَا . قَالَ مَا قُلْتُهَا وَلَقَدْ رَهِبْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَمَا أَرَدْتُ بِهَا إِلاَّ الْخَيْرَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَمَا تَعْلَمُونَ كَيْفَ تَقُولُونَ فِي صَلاَتِكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا فَقَالَ " إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللَّهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . لَمْ يَقُلْ أَحْمَدُ " وَبَرَكَاتُهُ " . وَلاَ قَالَ " وَأَشْهَدُ " . قَالَ " وَأَنَّ مُحَمَّدًا " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'আমীন' মূলতঃ দু'আ কবুলের আবেদনপত্র এবং বান্দার পক্ষ থেকে এই স্বীকারোক্তি একথা বলার অধিকার আমার নেই যে, আল্লাহ্ আমার দু'আ ককূল করবেনই, তাই যাঞ্চনাকারীর ন্যায় আবেদন করতে হবে- হে আল্লাহ্! তুমি তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমার চাহিদা মেটাও এবং আমার দু'আ কবুল কর। তাই 'আমীন' শব্দটি সংক্ষিপ্ত হলেও আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্তির একটি স্বতন্ত্র দু'আও বটে। সুনানে আবু দাউদে আবূ যুহায়র নুমায়রী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা একবার রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বের হলাম এবং এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছলাম যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কাতর প্রার্থনা করছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ যদি সে মোহর লাগায়, তবে সে নিজের জন্য জান্নাত অবধারিত করে নিল। লোকদের মধ্যকার এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, কিসের দ্বারা সে মোহর লাগবে? তিনি বললেন: 'আমীন' দ্বারা।"
এই হাদীস থেকে জানা যায় যে, দু'আ শেষে আমীন বললে দু'আ কবুলের আশা করা যেতে পারে।
'আমীন' কি সশব্দে না নিঃশব্দে পাঠ করতে হবে
সালাতে 'আমীন' সশব্দে পাঠ করা হবে না নিঃশব্দে এ বিষয়টি অযাচিতভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। অথচ সালাতে সশব্দে ও নিঃশব্দে 'আমীন' বলার বিষয়টি যে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কোন আলিম ব্যক্তির পক্ষে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একইভাবে একথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সশব্দে ও নিঃশব্দে 'আমীন' পাঠকারীর মধ্যে সাহাবী ও তাবিঈ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এটাই স্পষ্ট প্রমাণ যে এ দু'টি ধারাই রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত এবং তাঁর জীবদ্দশায় উভয় পদ্ধতি কার্যকর ছিল। একথা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় 'আমীন' সশব্দে পাঠ করেন নি অথচ তাঁর ইন্তিকালের পর সাহাবা কিরাম সশব্দে 'আমীন' বলা শুরু করে দেন। একইভাবে এটাও অসম্ভব যে, তাঁর জীবদ্দশায় কখনো তাঁর সম্মুখে কেউ কার্যত নিঃশব্দে 'আমীন' বলেনি অথচ তাঁর ইন্তিকালের পর সাহাবা কিরাম নিঃশব্দে 'আমীন' পাঠ শুরু করে দেন। মোদ্দাকথা, সাহাবী ও তাবিঈগনের মধ্যে উভয়বিধ আমল কার্যকর থাকাই প্রমাণ করে সে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে উভয়বিধ আমল কার্যকর ছিল।
পরবর্তী যুগের কিছু সংখ্যক প্রাজ্ঞ আলিম নিজ গবেষণার আলোকে মনে করেছেন যে, আমীন মূলতঃ সশব্দে পাঠ করতে হবে এবং নবী যুগে এর উপরই বেশির ভাগ আমল করা হতো। যদিও কখনো কখনো ব্যতিক্রম ও পরিলক্ষিত হতো। তাই তারা সশব্দে আমীন পাঠ করা উত্তম এবং নিঃশব্দে পাঠ করা জায়িয বলেছেন। এর বিপরীত অন্য একদল মুজতাহিদ ইমাম নিজ নিজ গবেষণা অনুযায়ী মনে করেছেন যে, 'আমীন' যেহেতু কুরআনের শব্দ নয়, তাই তা নিঃশব্দে পাঠ করাই বাঞ্ছনীয় এবং নবী যুগেও সাধারণভাবে নিঃশব্দেই পাঠ করা হতো, যদিও কখনো কখনো সশব্দ পাঠ করা হতো। মোদ্দাকথা, এই ইমামগণের গবেষণা ও বিশ্লেষণের দাবি হল নিঃশব্দে পাঠ করা উত্তম এবং সশব্দ পাঠ করা জায়িয। বলাবাহুল্য ইমামদের মতবিরোধ মূলতঃ উত্তম হওয়ার বিষয় নিয়ে আবর্তিত। উভয় প্রকার পাঠ জায়িয হওয়ার বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। এ বিষয়ে আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ গবেষণা ও বিশ্লেষণের আলোকে যা বিশুদ্ধ মনে করেছেন, তাই গ্রহণ করেছেন আল্লাহ্ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথ অবলম্বনের তাওফীক দিন।
এই হাদীস থেকে জানা যায় যে, দু'আ শেষে আমীন বললে দু'আ কবুলের আশা করা যেতে পারে।
'আমীন' কি সশব্দে না নিঃশব্দে পাঠ করতে হবে
সালাতে 'আমীন' সশব্দে পাঠ করা হবে না নিঃশব্দে এ বিষয়টি অযাচিতভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। অথচ সালাতে সশব্দে ও নিঃশব্দে 'আমীন' বলার বিষয়টি যে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কোন আলিম ব্যক্তির পক্ষে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একইভাবে একথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সশব্দে ও নিঃশব্দে 'আমীন' পাঠকারীর মধ্যে সাহাবী ও তাবিঈ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এটাই স্পষ্ট প্রমাণ যে এ দু'টি ধারাই রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত এবং তাঁর জীবদ্দশায় উভয় পদ্ধতি কার্যকর ছিল। একথা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় 'আমীন' সশব্দে পাঠ করেন নি অথচ তাঁর ইন্তিকালের পর সাহাবা কিরাম সশব্দে 'আমীন' বলা শুরু করে দেন। একইভাবে এটাও অসম্ভব যে, তাঁর জীবদ্দশায় কখনো তাঁর সম্মুখে কেউ কার্যত নিঃশব্দে 'আমীন' বলেনি অথচ তাঁর ইন্তিকালের পর সাহাবা কিরাম নিঃশব্দে 'আমীন' পাঠ শুরু করে দেন। মোদ্দাকথা, সাহাবী ও তাবিঈগনের মধ্যে উভয়বিধ আমল কার্যকর থাকাই প্রমাণ করে সে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে উভয়বিধ আমল কার্যকর ছিল।
পরবর্তী যুগের কিছু সংখ্যক প্রাজ্ঞ আলিম নিজ গবেষণার আলোকে মনে করেছেন যে, আমীন মূলতঃ সশব্দে পাঠ করতে হবে এবং নবী যুগে এর উপরই বেশির ভাগ আমল করা হতো। যদিও কখনো কখনো ব্যতিক্রম ও পরিলক্ষিত হতো। তাই তারা সশব্দে আমীন পাঠ করা উত্তম এবং নিঃশব্দে পাঠ করা জায়িয বলেছেন। এর বিপরীত অন্য একদল মুজতাহিদ ইমাম নিজ নিজ গবেষণা অনুযায়ী মনে করেছেন যে, 'আমীন' যেহেতু কুরআনের শব্দ নয়, তাই তা নিঃশব্দে পাঠ করাই বাঞ্ছনীয় এবং নবী যুগেও সাধারণভাবে নিঃশব্দেই পাঠ করা হতো, যদিও কখনো কখনো সশব্দ পাঠ করা হতো। মোদ্দাকথা, এই ইমামগণের গবেষণা ও বিশ্লেষণের দাবি হল নিঃশব্দে পাঠ করা উত্তম এবং সশব্দ পাঠ করা জায়িয। বলাবাহুল্য ইমামদের মতবিরোধ মূলতঃ উত্তম হওয়ার বিষয় নিয়ে আবর্তিত। উভয় প্রকার পাঠ জায়িয হওয়ার বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। এ বিষয়ে আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ গবেষণা ও বিশ্লেষণের আলোকে যা বিশুদ্ধ মনে করেছেন, তাই গ্রহণ করেছেন আল্লাহ্ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথ অবলম্বনের তাওফীক দিন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)