কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৬৪
যাকাতের অধ্যায়
৩২. সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার।
১৬৬৪. উছমান ইবনে আবু শয়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হয়, ″যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভুত করে ...″, রাবী বলেন, তখন মুসলমানদের নিকট তা খুবই গুরতর মনে হল। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের এই উদ্বেগ দূরীভূত করব। অতপর তিনি গিয়ে বলেনঃ ইয়া নবীআল্লাহ! এই আয়াত আপনার সাহাবীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবশিষ্ট ধন-সম্পদ পবিত্র করতে যাকাত ফরয করেছেন। আর তিনি মীরাছ এইজন্য ফরয করেছেন, যাতে পরিত্যক্ত মাল তোমাদের পরবর্তী বংশধরেরা পেতে পারে।
তখন উমর (রাযিঃ) ″আল্লাহু আকবার″ ধ্বনি দেন। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি কি তোমাকে লোকদের পুঞ্জীভুত মালের চেয়ে উত্তম মাল সর্ম্পকে অবহিত করব না? তা হল পূন্যবতী নারী যখন সে (স্বামী) তার দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন সে সন্তুষ্ট হয়। আর যখন সে (স্বামী) তাকে কিছু করার নির্দেশ দেয়, তখন সে তা পালন করে। আর যখন সে (স্বামী) তার নিকট হতে অনুপস্থিত থাকে তখন সে তার (ইজ্জত ও মালের) হেফাযত করে।
তখন উমর (রাযিঃ) ″আল্লাহু আকবার″ ধ্বনি দেন। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি কি তোমাকে লোকদের পুঞ্জীভুত মালের চেয়ে উত্তম মাল সর্ম্পকে অবহিত করব না? তা হল পূন্যবতী নারী যখন সে (স্বামী) তার দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন সে সন্তুষ্ট হয়। আর যখন সে (স্বামী) তাকে কিছু করার নির্দেশ দেয়, তখন সে তা পালন করে। আর যখন সে (স্বামী) তার নিকট হতে অনুপস্থিত থাকে তখন সে তার (ইজ্জত ও মালের) হেফাযত করে।
كتاب الزكاة
باب فِي حُقُوقِ الْمَالِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ ) قَالَ كَبُرَ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ عُمَرُ - رضى الله عنه أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ . فَانْطَلَقَ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّهُ كَبُرَ عَلَى أَصْحَابِكَ هَذِهِ الآيَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَفْرِضِ الزَّكَاةَ إِلاَّ لِيُطَيِّبَ مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيثَ لِتَكُونَ لِمَنْ بَعْدَكُمْ " . فَكَبَّرَ عُمَرُ ثُمَّ قَالَ لَهُ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূরা তওবার যে আয়াতটির উল্লেখ এ হাদীসে এসেছে, সেই আয়াতটি যখন নাযিল হয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম এর বাহ্যিক শব্দমালা ও কথার ভঙ্গিতে এই মনে করলেন যে, এর মর্ম ও দাবী এটাই যে, নিজের উপার্জনের মধ্য থেকে কোন কিছুই সঞ্চয় করে রাখা যাবে না এবং সম্পদ একেবারেই জমা করা যাবে না- সম্পদ যাই হাতে আসবে, তাই আল্লাহর পথে খরচ করে দিতে হবে। আর একথা স্পষ্ট যে, এ বিষয়টি মানুষের জন্য খুবই কঠিন। হযরত উমর রাযি. সাহস করলেন এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রশ্ন করলেন। হুযুর (ﷺ) উত্তরে বললেন যে, এ আয়াতটির সম্পর্ক ঐসব লোকের সাথে, যারা অর্থ-সম্পদ জমা করে এবং এর যাকাত আদায় করে না। কিন্তু যদি যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, তাহলে অবশিষ্ট মাল হালাল ও পবিত্র হয়ে যায়। তিনি এখানে এ কথাও বলে দিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা যাকাত এজন্যই ফরয করেছেন- যাতে এটা আদায় করে দিলে অবশিষ্ট মাল পাক হয়ে যায়। তারপর তিনি আরেকটি কথা অতিরিক্ত বলে দিলেন যে, এভাবেই আল্লাহ তা'আলা উত্তরাধিকার আইনও এজন্য করে দিয়েছেন- যাতে কোন মানুষ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া লোকদের জন্য একটি আশ্রয় হয়। এ উত্তরের মধ্যে হুযুর (ﷺ) এ ইঙ্গিতও করে দিলেন যে, যদি সঞ্চয় করা এবং অর্থ-সম্পদ জমা করা একেবারেই নিষেধ হত, তাহলে শরী‘আতে যাকাত এবং উত্তরাধিকারের বিধানই থাকত না। কেননা, শরী‘আতের এ দু'টি বিধানের সম্পর্ক সঞ্চিত সম্পদের সাথে। যদি অর্থ-সম্পদ জমা রাখার একেবারেই অনুমতি না থাকে, তাহলে যাকাত ও উত্তরাধিকার বন্টনের প্রশ্নই আসবে না।
হযরত উমর রাযি.-এর আসল প্রশ্নের এ উত্তর দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের সুস্থ মন-মানসিকতা গড়ার লক্ষ্যে একটি অতিরিক্ত কথা এও বলে দিলেন যে, অর্থ-সম্পদের চেয়ে বেশী কাজের জিনিস যা এ দুনিয়াতে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তির সবচেয়ে বড় পুঁজি- সেটা হচ্ছে পুণ্যবতী ও অনুগত জীবনসঙ্গিনী। তার মূল্যায়ন অর্থ-সম্পদের চেয়েও বেশী করতে হবে এবং তাকে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ নে'আমত মনে করবে। এ কথাটি তিনি এক্ষেত্রে এ জন্য বলেছেন যে, ঐ যুগে মহিলাদেরকে খুবই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হত এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হত।
হযরত উমর রাযি.-এর আসল প্রশ্নের এ উত্তর দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের সুস্থ মন-মানসিকতা গড়ার লক্ষ্যে একটি অতিরিক্ত কথা এও বলে দিলেন যে, অর্থ-সম্পদের চেয়ে বেশী কাজের জিনিস যা এ দুনিয়াতে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তির সবচেয়ে বড় পুঁজি- সেটা হচ্ছে পুণ্যবতী ও অনুগত জীবনসঙ্গিনী। তার মূল্যায়ন অর্থ-সম্পদের চেয়েও বেশী করতে হবে এবং তাকে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ নে'আমত মনে করবে। এ কথাটি তিনি এক্ষেত্রে এ জন্য বলেছেন যে, ঐ যুগে মহিলাদেরকে খুবই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হত এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)