আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৩. অধ্যায়ঃ ইলেম
হাদীস নং: ২৩৬
অধ্যায়ঃ ইলেম
কলহ্ ও অনর্থক বাদানুবাদ, পারস্পরিক অনর্থক যুক্তি প্রদান, ক্ষুব্ধ হওয়া এবং বিজয়ী হওয়ার প্রবণতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যা তিরোহিত করার প্রতি অনুপ্রেরণা
২৩৬. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর ঘরের দরজায় বসে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লাম, কেউ এ আয়াত দিয়ে কেউ ঐ আয়াত দিয়ে দলীল দিচ্ছিলাম। তিনি রক্তিম বর্ণ চেহারা যা পাকা ডালিমের ন্যায়, নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। তিনি বললেন, ওহে! তোমরা কি এ জন্য প্রেরিত হয়েছ, না কি তোমরা এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছ? তোমরা আমার পরে একে অপরের
গর্দান উড়িয়ে দিয়ে কুফরের দিকে ফিরে যেয়ো না।
(ইমাম তাবারানী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এর সনদেও সুয়ায়দ রয়েছেন।)
গর্দান উড়িয়ে দিয়ে কুফরের দিকে ফিরে যেয়ো না।
(ইমাম তাবারানী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে এর সনদেও সুয়ায়দ রয়েছেন।)
كتاب الْعلم
التَّرْهِيب من المراء والجدال والمخاصمة والمحاججة والقهر وَالْغَلَبَة وَالتَّرْغِيب فِي تَركه للمحق والمبطل
236 - وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْد بَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نتذاكر ينْزع هَذَا بِآيَة وَينْزع هَذَا بِآيَة فَخرج علينا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَمَا يفقأ فِي وَجهه حب الرُّمَّان فَقَالَ يَا هَؤُلَاءِ بِهَذَا بعثتم أم بِهَذَا أمرْتُم لَا ترجعوا بعدِي كفَّارًا يضْرب بَعْضكُم رِقَاب بعض
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَفِيه سُوَيْد أَيْضا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَفِيه سُوَيْد أَيْضا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ভাগ্যলিপি ও কদরের সমস্যা নিঃসন্দেহে কঠিন ও নাজুক ধরনের। তাই যদি কোন মুমিন ব্যক্তি এ সমস্যার গুঢ় রহস্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি যেন কোনরূপ তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত না হন। বরং তিনি যেন তার মনকে এভাবে প্রবোধ প্রদান করেন যে, আল্লাহর সত্যবাদী নবী এ সমস্যা সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছেন তার উপর ঈমান আনা কর্তব্য।
তাকদিরের মসলা আল্লাহর সিফাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় তা খুব কঠিন ও নাজুক হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দুনিয়ার অনেক জিনিস এবং রহস্য সম্পর্কে আমাদের অনেকের জ্ঞান সীমিত। তাই নবী করীম (ﷺ) যা বর্ণনা করেছে তা অনুধাবন করতে যদি কেহ ব্যর্থ হন, তাহলে তার জন্য সঠিক পন্থা হল, নিজের অক্ষমতার স্বীকৃতি প্রদান করে রাসূলের বক্তব্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
যেহেতু তাকদীর সম্পর্কে আলোচনাকারীগণ আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে প্রত্যক্ষভাবে তালিম ও তরবিয়াত হাসিল করতেন তাই তাদেরকে এ ধরনের ভুল করতে দেখে তাদের উপর সম্ভবতঃ রাগান্বিত হয়েছিলেন।
তোমাদের পূর্বের উম্মতগণ যখন এ সম্পর্কে তর্কবিতর্ক করেছে তখন তারা হালাক হয়েছে বলে আল্লাহর রাসূল যে ইরশাদ করেছেন তার অর্থ হল, তারা গোমরাহীতে লিপ্ত হয়েছে। কুরআন ও হাদীসে বিভিন্নস্থানে গোমরাহী অর্থে 'হালাকাত' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহর রাসূলের ইরশাদের অর্থ হল, পূর্ববর্তী উম্মতগণ যখন তকদীর সম্পর্কে তর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে তখন তাদের গোমরাহী শুরু হয়েছে। ইতিহাস এ সাক্ষ্য দান করে যে, এ সমস্যা থেকেই উম্মতে মোহাম্মদীর এতেকাদী গুমরাহী শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, যদি কেহ মুমিন ব্যক্তির ন্যায় তকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করার পর শুধু অন্তরের প্রশান্তির জন্য তাকদীর সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তাহলে তাতে কোন দোষ নেই।
তাকদিরের মসলা আল্লাহর সিফাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় তা খুব কঠিন ও নাজুক হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দুনিয়ার অনেক জিনিস এবং রহস্য সম্পর্কে আমাদের অনেকের জ্ঞান সীমিত। তাই নবী করীম (ﷺ) যা বর্ণনা করেছে তা অনুধাবন করতে যদি কেহ ব্যর্থ হন, তাহলে তার জন্য সঠিক পন্থা হল, নিজের অক্ষমতার স্বীকৃতি প্রদান করে রাসূলের বক্তব্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
যেহেতু তাকদীর সম্পর্কে আলোচনাকারীগণ আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে প্রত্যক্ষভাবে তালিম ও তরবিয়াত হাসিল করতেন তাই তাদেরকে এ ধরনের ভুল করতে দেখে তাদের উপর সম্ভবতঃ রাগান্বিত হয়েছিলেন।
তোমাদের পূর্বের উম্মতগণ যখন এ সম্পর্কে তর্কবিতর্ক করেছে তখন তারা হালাক হয়েছে বলে আল্লাহর রাসূল যে ইরশাদ করেছেন তার অর্থ হল, তারা গোমরাহীতে লিপ্ত হয়েছে। কুরআন ও হাদীসে বিভিন্নস্থানে গোমরাহী অর্থে 'হালাকাত' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহর রাসূলের ইরশাদের অর্থ হল, পূর্ববর্তী উম্মতগণ যখন তকদীর সম্পর্কে তর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে তখন তাদের গোমরাহী শুরু হয়েছে। ইতিহাস এ সাক্ষ্য দান করে যে, এ সমস্যা থেকেই উম্মতে মোহাম্মদীর এতেকাদী গুমরাহী শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, যদি কেহ মুমিন ব্যক্তির ন্যায় তকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করার পর শুধু অন্তরের প্রশান্তির জন্য তাকদীর সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তাহলে তাতে কোন দোষ নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: