আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৬. অধ্যায়ঃ নফল

হাদীস নং: ৯৭১
অধ্যায়ঃ নফল
সকাল ও সন্ধ্যায় কতিপয় আয়াত তিলাওয়াত ও যিকর করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৯৭১. হযরত আবান ইবন উসমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যায় এ দু'আঃ
بِسم الله الَّذِي لَا يضر مَعَ اسْمه شَيْء فِي الأَرْض وَلَا فِي السَّمَاء وَهُوَ السَّمِيع الْعَلِيم
"ঐ আল্লাহর নামে, যাঁর নামের কারণে আসমান-যমীনের কোন বস্তু ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।" তিনবার পাঠ করবে, তাকে কোন বস্তু ক্ষতি করতে পারবে না। একবার আবান (র)-এর পায়ের এক পার্শ্ব অবশ হয়ে যায়। ফলে এক ব্যক্তি তার প্রতি তাকিয়ে থাকে। আবান (র) বললেন: তুমি কেন তাকিয়ে রয়েছে? আমি যে হাদীস তোমার নিকট বর্ণনা করেছি, তা কি যথার্থ নয়। কিন্তু আমি আজ তা বলিনি। আল্লাহ আমার অদৃষ্টে যা লিখেছেন, কেবল তাই হয়েছে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান-গরীব-সহীহ। ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত।)
كتاب النَّوَافِل
التَّرْغِيب فِي آيَات وأذكار يَقُولهَا إِذا أصبح وَإِذا أَمْسَى
971 - وَعَن أبان بن عُثْمَان قَالَ سَمِعت عُثْمَان بن عَفَّان رَضِي الله عَنهُ يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا من عبد يَقُول فِي صباح كل يَوْم وَمَسَاء كل لَيْلَة بِسم الله الَّذِي لَا يضر
مَعَ اسْمه شَيْء فِي الأَرْض وَلَا فِي السَّمَاء وَهُوَ السَّمِيع الْعَلِيم ثَلَاث مَرَّات فيضره شَيْء وَكَانَ أبان قد أَصَابَهُ طرف فالج فَجعل الرجل ينظر إِلَيْهِ فَقَالَ أبان مَا تنظر أما إِن الحَدِيث كَمَا حدثتك وَلَكِنِّي لم أَقَله يَوْمئِذٍ ليمضي الله قدره

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب صَحِيح وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন তারই পুত্র আবান। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রভাব তাঁর দেহে দৃশ্যমান ছিল। একবার যখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তার জনৈক শাগরিদ তাঁর দিকে বিশেষ অর্থবহ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন শাগরিদটি মনে মনে বলছে, আপনি যখন স্বয়ং আপনার পিতা উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটি শুনেই ছিলেন, তা হলে আপনার নিজের এ দুর্গতির কারণ কি? আপনার নিজের আবার পক্ষাঘাত হলো কি করে? এ হাদীছে তো সকাল-সন্ধ্যায় তা পাঠে সর্বপ্রকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে। তখন তিনি বললেন: মিঞা, আমার দিকে কী দেখছো? না আমি ভুল রিওয়ায়াত করছি আর না হযরত উছমান (রা) আমার কাছে ভুল রিওয়ায়াত করেছেন। একদা কী একটা কারণে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, ফলে সে দিন ঐ দু'আটি পড়তে আমি ভুলে যাই আর ঐ দিনটিতেই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই। যেহেতু ভাগ্যের লিখন ছিল ঐ দিন আমার পক্ষাঘাত হবে, তাই সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাকে তা ভুলিয়ে রাখা হয়। হযরত আবানের এ মন্তব্যটুকু হাদীসের সাথে সাথে সুনানে আবু দাউদ ও জামে' তিরমিযী সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তিন তিন বার এ দু'আটি পাঠ করা হচ্ছে আল্লাহর নেক বান্দাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। নিঃসন্দেহে এতে আসমানী ও যমীনী বালা-মুসীবত থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান