আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৬. অধ্যায়ঃ নফল
হাদীস নং: ১০২০
অধ্যায়ঃ নফল
সালাতুত্-তাওবা আদায়ের অনুপ্রেরণা
১০২০. হযরত আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ করে, এরপর সে উযূ করে নেয়, তারপর সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। এরপর তিনি এই আয়াত শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন:
........وَالَّذين إِذا فعلوا فَاحِشَة أَو ظلمُوا أنفسهم ذكرُوا الله
তারা যখন অশ্লীল কাজ করে অথবা নিজেদের উপর যুলম করে, তখন তারা আল্লাহর যিকর করে....।"
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইবন হিব্বান ও বায়হাকীর বর্ণনায় আছে যে "তারপর সে দুই রাকাআত সালাত আদায় করল।" ইবন খুযায়মা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বিনা সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তাতেও তিনি দুই রাক'আতের কথা উল্লেখ করেছেন।)
........وَالَّذين إِذا فعلوا فَاحِشَة أَو ظلمُوا أنفسهم ذكرُوا الله
তারা যখন অশ্লীল কাজ করে অথবা নিজেদের উপর যুলম করে, তখন তারা আল্লাহর যিকর করে....।"
(তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইবন হিব্বান ও বায়হাকীর বর্ণনায় আছে যে "তারপর সে দুই রাকাআত সালাত আদায় করল।" ইবন খুযায়মা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বিনা সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তাতেও তিনি দুই রাক'আতের কথা উল্লেখ করেছেন।)
كتاب النَّوَافِل
التَّرْغِيب فِي صَلَاة التَّوْبَة
1020 - عَن أبي بكر رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول مَا من رجل يُذنب ذَنبا ثمَّ يقوم فيتطهر ثمَّ يُصَلِّي ثمَّ يسْتَغْفر الله إِلَّا غفر الله لَهُ ثمَّ قَرَأَ هَذِه الْآيَة {وَالَّذين إِذا فعلوا فَاحِشَة أَو ظلمُوا أنفسهم ذكرُوا الله} آل عمرَان 531
إِلَى آخر
الْآيَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالا ثمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَذكره ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه بِغَيْر إِسْنَاد وَذكر فِيهِ الرَّكْعَتَيْنِ
إِلَى آخر
الْآيَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالا ثمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَذكره ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه بِغَيْر إِسْنَاد وَذكر فِيهِ الرَّكْعَتَيْنِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
গুনাহ ক্ষমা করার বিষয় সম্বলিত যে আয়াত রাসূলুল্লাহ ﷺ পাঠ করেছেন তা সূরা আলে ইমরানের অন্তর্ভুক্ত। এ আয়াতে আল্লাহর ঐ সকল বান্দার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যাদের জন্য বিশেষভাবে জান্নাত তৈরি করে রাখা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে:
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
"এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।" (৩, সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬০)
যে সকল লোক পাপ কাজকে অভ্যাসে বা পেশায় পরিণত করে না আলোচ্য হাদীসে সে সকল গুনাহগারদেরকে ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বরং তাদের অবস্থা এই যে, যখন তাদের দ্বারা কবীরা কিংবা সগীরা গুনাহ সংঘটিত হয় তখন ভীষণভাবে লজ্জিত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে এও বলেছেন যে, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল এই, উযূ করে প্রথমে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কাজেই কেউ যদি এরূপ করে আল্লাহ্ তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন।
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
"এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।" (৩, সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬০)
যে সকল লোক পাপ কাজকে অভ্যাসে বা পেশায় পরিণত করে না আলোচ্য হাদীসে সে সকল গুনাহগারদেরকে ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বরং তাদের অবস্থা এই যে, যখন তাদের দ্বারা কবীরা কিংবা সগীরা গুনাহ সংঘটিত হয় তখন ভীষণভাবে লজ্জিত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে এও বলেছেন যে, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল এই, উযূ করে প্রথমে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কাজেই কেউ যদি এরূপ করে আল্লাহ্ তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)