আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৭. অধ্যায়ঃ জুম‘আর নামাজ
হাদীস নং: ১১০২
অধ্যায়ঃ জুম‘আর নামাজ
জুমু'আর রাতে ও জুমু'আর দিনে সূরা কাহফ পাঠ করা ও অপরাপর যিকর করার প্রতি অনুপ্রেরণা
১১০২. হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তাকে দুই জুমু'আর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য নূর দান করা হবে।
(নাসাঈ ও বায়হাকী মারফু সূত্রে, হাকিম মারফু ও মাওকূফ উভয় সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত। দারিমী তাঁর 'মুসনাদে' আবু সা'ঈদ (রা) সূত্রে মাওকুফ বর্ণনা করেন। তাঁর শব্দমালা এরূপ: "যে ব্যক্তি জুমু'আর রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তাকে তার থেকে বায়তুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত নূর দিয়ে জ্যোর্তিময় করা হবে।" তাঁদের বর্ণনায় হাকিম আবু হাশিম ইয়াহইয়া ইবন দীনার রুমানী ব্যতীত সকলেই বিশ্বস্ত। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট তিনিও বিশ্বস্ত। অন্যান্য বর্ণনা সূত্রও বিশ্বস্ত। তবে হাকিম কারো কারো মতে বিতর্কিত হলেও উক্ত সনদে বিদ্যমান। তাঁকে নাঈম ইবন হাম্মাদ সহীহ বলেছেন। আবু হাশিম এবং হাকিম সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।)
(নাসাঈ ও বায়হাকী মারফু সূত্রে, হাকিম মারফু ও মাওকূফ উভয় সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত। দারিমী তাঁর 'মুসনাদে' আবু সা'ঈদ (রা) সূত্রে মাওকুফ বর্ণনা করেন। তাঁর শব্দমালা এরূপ: "যে ব্যক্তি জুমু'আর রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তাকে তার থেকে বায়তুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত নূর দিয়ে জ্যোর্তিময় করা হবে।" তাঁদের বর্ণনায় হাকিম আবু হাশিম ইয়াহইয়া ইবন দীনার রুমানী ব্যতীত সকলেই বিশ্বস্ত। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট তিনিও বিশ্বস্ত। অন্যান্য বর্ণনা সূত্রও বিশ্বস্ত। তবে হাকিম কারো কারো মতে বিতর্কিত হলেও উক্ত সনদে বিদ্যমান। তাঁকে নাঈম ইবন হাম্মাদ সহীহ বলেছেন। আবু হাশিম এবং হাকিম সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।)
كتاب الْجُمُعَة
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْكَهْف وَمَا يذكر مَعهَا لَيْلَة الْجُمُعَة وَيَوْم الْجُمُعَة
1102 - عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف فِي يَوْم الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ من النُّور مَا بَين الجمعتين
رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيّ مَرْفُوعا وَالْحَاكِم مَرْفُوعا وموقوفا أَيْضا وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ الدَّارمِيّ فِي مُسْنده مَوْقُوفا على أبي سعيد وَلَفظه قَالَ من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف لَيْلَة الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ من النُّور مَا بَينه وَبَين الْبَيْت الْعَتِيق
وَفِي
أسانيدهم كلهَا إِلَّا الْحَاكِم أَبُو هَاشم يحيى بن دِينَار الروماني وَالْأَكْثَرُونَ على توثيقه وَبَقِيَّة الْإِسْنَاد ثِقَات وَفِي إِسْنَاد الْحَاكِم الَّذِي صَححهُ نعيم بن حَمَّاد وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وعَلى أبي هَاشم
رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيّ مَرْفُوعا وَالْحَاكِم مَرْفُوعا وموقوفا أَيْضا وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ الدَّارمِيّ فِي مُسْنده مَوْقُوفا على أبي سعيد وَلَفظه قَالَ من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف لَيْلَة الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ من النُّور مَا بَينه وَبَين الْبَيْت الْعَتِيق
وَفِي
أسانيدهم كلهَا إِلَّا الْحَاكِم أَبُو هَاشم يحيى بن دِينَار الروماني وَالْأَكْثَرُونَ على توثيقه وَبَقِيَّة الْإِسْنَاد ثِقَات وَفِي إِسْنَاد الْحَاكِم الَّذِي صَححهُ نعيم بن حَمَّاد وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وعَلى أبي هَاشم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, সূরা কাহফের জুমুআর দিনের সাথে বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে, যে কারণে এ দিন এ সূরা তেলাওয়াত করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, জুমুআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করলে অন্তরে একটি বিশেষ নূর সৃষ্টি হবে, যার দীপ্তি ও বরকত পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ হাদীসটি হাকেমও তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ, তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের গ্রন্থে এটা উল্লেখ করেননি।
অন্য এক হাদীসে (যা ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়ত করেছেন।) সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে ও পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এর ব্যাখ্যায় হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, সূরা কাহফের শুরুর দিকে যে ভূমিকামূলক বিষয়বস্তু রয়েছে এবং এরই সাথে আসহাবে কাহফের যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, এতে প্রতিটি দাজ্জালী ফেতনার পূর্ণ প্রতিরোধ রয়েছে। তাই যে অন্তর এসব বাস্তবতা ও বিষয়বস্তুর বিশ্বাস অর্জন করে নিবে, যেগুলো সূরা কাহফের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে, সে অন্তর কখনো কোন দাজ্জালী ফেতনার দ্বারা প্রভাবান্বিত হবে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর যেসব বান্দা এ আয়াতসমূহের এসব গুণাগুণ ও বরকতের প্রতি বিশ্বাস রেখে এগুলো আপন মন-মস্তিষ্কে বসিয়ে নিবে এবং এগুলো তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও দাজ্জালী ফেতনা থেকে হেফাযত করবেন।
অন্য এক হাদীসে (যা ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়ত করেছেন।) সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে ও পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এর ব্যাখ্যায় হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, সূরা কাহফের শুরুর দিকে যে ভূমিকামূলক বিষয়বস্তু রয়েছে এবং এরই সাথে আসহাবে কাহফের যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, এতে প্রতিটি দাজ্জালী ফেতনার পূর্ণ প্রতিরোধ রয়েছে। তাই যে অন্তর এসব বাস্তবতা ও বিষয়বস্তুর বিশ্বাস অর্জন করে নিবে, যেগুলো সূরা কাহফের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে, সে অন্তর কখনো কোন দাজ্জালী ফেতনার দ্বারা প্রভাবান্বিত হবে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর যেসব বান্দা এ আয়াতসমূহের এসব গুণাগুণ ও বরকতের প্রতি বিশ্বাস রেখে এগুলো আপন মন-মস্তিষ্কে বসিয়ে নিবে এবং এগুলো তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও দাজ্জালী ফেতনা থেকে হেফাযত করবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: