আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৮. অধ্যায়ঃ সদকা

হাদীস নং: ১৩৩৮
অধ্যায়ঃ সদকা
কর্জদানের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত
১৩৩৮. হযরত আবু উমামা (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে এর দরজায় এ কথাটি লিখা দেখতে পেল: দানে দশগুণ ও করযদানে আঠার গুণ পুণ্য রয়েছে।
(হাদীসটি তাবারানী ও বায়হাকী উভয়েই উতবা ইব্‌ন হুমায়দ বর্ণনা করেছেন। ইব্‌ন মাজাহ এবং বায়হাকীও এটি খালিদ ইব্‌ন ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ মালিক সূত্রে হযরত আনাস (রা) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। আনাস বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: মিরাজ রজনীতে আমি জান্নাতের দরজায় এ কথাটি লিখা দেখেছিঃ দানের পুণ্য দশ গুণ আর করযের পুণ্য আঠার গুণ।
(রাবী হিসেবে) উতবা ইব্‌ন হুমায়দ-এর অবস্থা আমার দৃষ্টিতে খালিদ ইব্‌ন ইয়াযীদের তুলনায় অনেক ভাল।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي الْقَرْض وَمَا جَاءَ فِي فَضله
1338 - وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ دخل رجل الْجنَّة فَرَأى مَكْتُوبًا على بَابهَا الصَّدَقَة بِعشر أَمْثَالهَا وَالْقَرْض بِثمَانِيَة عشر

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا من رِوَايَة عتبَة بن حميد

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ أَيْضا كِلَاهُمَا عَن خَالِد بن يزِيد بن أبي مَالك عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَأَيْت لَيْلَة أسرِي بِي على بَاب الْجنَّة مَكْتُوبًا الصَّدَقَة بِعشر أَمْثَالهَا وَالْقَرْض بِثمَانِيَة عشر
الحَدِيث وَعتبَة بن حميد عِنْدِي أصلح حَالا من خَالِد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসে এরূপ কোন ইঙ্গিত নেই রাসূলুল্লাহ ﷺ একথা কোন ব্যক্তির জন্য বলেছিলেন যে, সে জান্নাতে প্রবেশ করে জান্নাতের দরজায় উপরিউক্ত কথা লিখা দেখতে গেল। সম্ভবত তিনি এটা কোন পুণ্যবান ব্যক্তির স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন। আর এও হতে পারে যে, এটা তিনি অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা দেখতে পেয়েছিলেন এবং এরূপে তিনি ইহা বর্ণনা করেছেন। এই দ্বিতীয় সম্ভাবনার কতকটা এমনি এ থেকেও পাওয়া যায় যে, হাদীসটি ইবনে মাজাহও বর্ণনা করেছেন। এর শেষে অতিরিক্ত রয়েছে:
فَقُلْتُ لِجِبْرِيلَ مَا بَالُ الْقَرْضِ أَفْضَلُ مِنَ الصَّدَقَةِ؟ قَالَ لأَنَّ السَّائِل يَسْئَلُ وَعِنْدَهُ وَالْمُسْتَقْرِضُ لا يَسْتَقْرِضُ إِلَّا مِنْ حَاجَة - (جمع الفوائد)
আমি জিবরাইলকে জিজ্ঞাসা করলাম, কর্মের মধ্যে কি বিশেষত্ব রয়েছে, ইহা সাদকা হতে উত্তম? তিনি বললেন, যাঞ্চাকারী (যাকে সাদকা দেওয়া হয়) এরূপ অবস্থায়ও চায় যে, তার নিকট কিছু থাকে আর কর্জ প্রার্থনাকারী তখনই কর্জ চায় যখন সে খুবই অভাবী ও নিরুপায়।

অনেক সময় এরূপ হয় যে, আল্লাহর এক দরিদ্র অথচ সম্ভ্রান্ত ও পূতচরিত্রবান বান্দা চূড়ান্ত অভাবগ্রস্থ ও উপায়হীন অবস্থায় উপনীত হয়। তবু সে কাউকে সওয়াল করা পসন্দ করে না, আর সাদকা খায়রাত গ্রহণ করাও তার মনপুত নয়, তবে যে স্বীয় প্রয়োজন পূরণার্থে ও সন্তানদের উপবাস দূর করতে কর্জ চেয়ে থাকে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাকে কর্জ দেওয়া সাদকা হতে উত্তম হবে। বস্তুত স্বয়ং লেখকের অভিজ্ঞতা রয়েছে, বহুলোক এমন রয়েছে যারা যাকাত খায়রাত দ্বারা অভাবীকে সাহায্য করতে প্রস্তুত তবে তাকে কর্জ দিতে তাদের অন্তর অনুপ্রাণিত হয় না আলোচ্য হাদীসে তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা রয়েছে। হাদীসের সেই শেষ অংশ দ্বারা সে ইবনে মাজাহর বরাতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, সাদকার বিপরীতে সেই কর্জ উত্তম যা কোন অভাবগ্রস্থ ব্যক্তিকে তার অভাব দূরিকরণার্থে দেওয়া হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান