আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৯. অধ্যায়ঃ রোযা

হাদীস নং: ১৪৭৮
অধ্যায়ঃ রোযা
পুণ্যলাভের আশায় রমযানের রোযা পালন ও রমযানের রাতসমূহে বিশেষত লায়লাতুল কদরে
ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দান ও এর ফযীলত প্রসঙ্গ
১৪৭৮. নাসাঈর অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও পুণ্যের আশায় রমযানের রোযা রাখল, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও পুণ্য লাভের আশায় লায়লাতুল কদরে ইবাদত করল, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। কুতায়বার বর্ণনায় পরবর্তী গুনাহসমূহও মাফ করে দেয়া হবে বলে বলা হয়েছে।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صِيَام رَمَضَان احتسابا وَقيام ليله سِيمَا لَيْلَة الْقدر وَمَا جَاءَ فِي فَضله
1478- وَفِي رِوَايَة للنسائي أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من صَامَ رَمَضَان إِيمَانًا واحتسابا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه وَمن قَامَ لَيْلَة الْقدر إِيمَانًا واحتسابا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه
قَالَ وَفِي حَدِيث قُتَيْبَة وَمَا تَأَخّر

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

قَالَ الْحَافِظ انْفَرد بِهَذِهِ الزِّيَادَة قُتَيْبَة بن سعيد عَن سُفْيَان وَهُوَ ثِقَة ثَبت وَإِسْنَاده على شَرط الصَّحِيح وَرَوَاهُ أَحْمد بِالزِّيَادَةِ بعد ذكر الصَّوْم بِإِسْنَاد حسن إِلَّا أَن حمادا شكّ فِي وَصله أَو إرْسَاله
قَالَ الْخطابِيّ قَوْله إِيمَانًا واحتسابا أَي نِيَّة وعزيمة وَهُوَ أَن يَصُومهُ على التَّصْدِيق وَالرَّغْبَة فِي ثَوَابه طيبَة بِهِ نَفسه غير كَارِه لَهُ وَلَا مستثقل لصيامه وَلَا مستطيل لأيامه لَكِن يغتنم طول أَيَّامه لعظم الثَّوَاب
وَقَالَ الْبَغَوِيّ قَوْله احتسابا أَي طلبا لوجه الله تَعَالَى وثوابه يُقَال فلَان يحْتَسب الْأَخْبَار ويتحسبها أَي يتطلبها

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে রমযানের রোযা, এর রাতের নফল ইবাদত এবং বিশেষ করে শবে ক্বদরের নফল ইবাদতকে অতীতের গুনাহমাফীর নিশ্চিত ওসীলা বলা হয়েছে। তবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, এগুলো ঈমান ও এহতেসাবের সাথে হতে হবে। এ ঈমান ও এহতেসাব একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিভাষা। এর অর্থ এই যে, যে কোন নেক আমল করা হবে এর ভিত্তি এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বিষয়টি হবে আল্লাহ্ ও রাসূলের উপর ঈমান, তাদের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তিবাণীর প্রতি বিশ্বাস এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত প্রতিদানের আশা। অন্য কোন উদ্দেশ্য ও আবেগ এর প্রতি উদ্বুদ্ধকারী হবে না। এ ঈমান ও এহতেসাবের দ্বারাই আমাদের আমলের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে স্থাপিত হয়; বরং এ ঈমান ও এহতেসাবই আমাদের আমলসমূহের আত্মা ও প্রাণ। যদি এটা না থাকে, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিরাট মনে হলেও এ আমল প্রাণহীন ও অন্তঃসার শূন্যই গণ্য হবে- যা কেয়ামতের দিন অচল মুদ্রা প্রমাণিত হবে। পক্ষান্তরে ঈমান ও এহতেসাবের সাথে বান্দার একটি সাধারণ আমলও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় ও মূল্যবান যে, এর বরকতে অনেক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে ঈমান ও এহতেসাবের এ গুণ নছীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান