আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৯. অধ্যায়ঃ রোযা

হাদীস নং: ১৬০৩
অধ্যায়ঃ রোযা
স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোন মহিলার পক্ষে স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হালাল নয় এবং কোন মহিলা স্বামীর ঘরে তার অনুমতি ছাড়া কাউকে আসার অনুমতি দিতে পারবে না।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। আহমদও এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এই অতিরিক্ত কথাটিও উল্লেখ করেছেন: 'রমযান ব্যতীত'। আবু দাউদের কোন কোন বর্ণনায়ও 'রমযান ছাড়া' কথাটি উল্লেখিত হয়েছে।
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1603- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يحل لامْرَأَة أَن تَصُوم وَزوجهَا شَاهد إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأذن فِي بَيته إِلَّا بِإِذْنِهِ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا وَرَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد حسن وَزَاد إِلَّا رَمَضَان
وَفِي بعض رِوَايَات أبي دَاوُد غير رَمَضَان

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছে স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য দুটি কাজ অবৈধ করা হয়েছে। তার একটি হচ্ছে নফল রোযা রাখা, আরেকটি হচ্ছে কাউকে ঘরে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া। স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তাতে করে স্বামীর হক আদায় বিঘ্নিত হতে পারে।
যে-কোনও ইবাদত নফল শুরু করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কাজেই স্ত্রী যদি নফল রোযা রাখে, তার তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এখন স্বামীর যদি এমন কোনও প্রয়োজন দেখা দেয়, যা মেটাতে গেলে তার রোযা ভাঙতে হবে, তবে পরে তা কাযা করা জরুরি হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে এক তো ইবাদত শুরুর পর তা ভাঙতে হচ্ছে, যা পসন্দনীয় নয়। আবার পরে কাযা করাটাও সম্ভব নাও হতে পারে। যদি আগেই মৃত্যু হয়ে যায়, তবে একটা ওয়াজিব আমলের দায় নিয়েই মৃত্যু হল। আর যদি স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যদ্দরুন রোযা রাখা সম্ভব না হয়, তবে ফিদয়া দিতে হবে। মোটকথা কোনও-না কোনও বিপত্তি থেকেই যায়। এর থেকে বাঁচার উপায় হল স্বামী উপস্থিত থাকাকালে তার অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হতে বিরত থাকা।
স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢোকার অনুমতি দেওয়াও নাজায়েয বলা হয়েছে। এটা মাহরাম, গায়রে মাহরাম, পুরুষ ও নারী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিনা অনুমতিতে এদের কাউকেই ঢোকার অনুমতি দেওয়া জায়েয নেই।
অবশ্য অনুমতির বিষয়টি সুস্পষ্ট কথায় হওয়া জরুরি নয়। কারও ক্ষেত্রে যদি বোঝা যায় তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে স্বামী নারাজ হবে না, তবে তার নারাজ না হওয়াকেই অনুমতিরূপে ধরা যাবে। যেমন স্ত্রীর দিকের বা স্বামীর দিকের এমন কোনও আত্মীয় যদি আসে, যার সঙ্গে স্বামীর কোনও ঝগড়া-ফাসাদ নেই এবং তাকে প্রবেশ করতে দিলে সে নারাজও হবে না; বরং প্রবেশ করতে না দিলেই নারাজ হওয়ার আশঙ্কা, তবে সে ক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়াও তাকে প্রবেশ করতে দিতে পারবে; বরং দেওয়াটাই সমীচীন হবে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

এ হাদীছটির শিক্ষা সুস্পষ্ট। স্বামীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোযা রাখবে না এবং কাউকে গৃহে প্রবেশ করতে দেবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান