আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৯. অধ্যায়ঃ রোযা

হাদীস নং: ১৬০৪
অধ্যায়ঃ রোযা
স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৪. তিরমিযী ও ইবন মাজাহর এক বর্ণনায় এমন রয়েছে। কোন মহিলা রমযান ছাড়া অন্য কোন সময় স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত একদিনও যেন রোযা না রাখে।
(ইবন খুযায়মা এবং ইবন হিব্বানও এটি তিরমিযীর অনুরূপ তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1604- وَفِي رِوَايَة لِلتِّرْمِذِي وَابْن مَاجَه لَا تصم الْمَرْأَة وَزوجهَا شَاهد يَوْمًا من غير شهر
رَمَضَان إِلَّا بِإِذْنِهِ

وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحَيْهِمَا بِنَحْوِ التِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছে স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা অবৈধ করা হয়েছে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তাতে করে স্বামীর হক আদায় বিঘ্নিত হতে পারে।
যে-কোনও ইবাদত নফল শুরু করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কাজেই স্ত্রী যদি নফল রোযা রাখে, তার তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এখন স্বামীর যদি এমন কোনও প্রয়োজন দেখা দেয়, যা মেটাতে গেলে তার রোযা ভাঙতে হবে, তবে পরে তা কাযা করা জরুরি হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে এক তো ইবাদত শুরুর পর তা ভাঙতে হচ্ছে, যা পসন্দনীয় নয়। আবার পরে কাযা করাটাও সম্ভব নাও হতে পারে। যদি আগেই মৃত্যু হয়ে যায়, তবে একটা ওয়াজিব আমলের দায় নিয়েই মৃত্যু হল। আর যদি স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যদ্দরুন রোযা রাখা সম্ভব না হয়, তবে ফিদয়া দিতে হবে। মোটকথা কোনও-না কোনও বিপত্তি থেকেই যায়। এর থেকে বাঁচার উপায় হল স্বামী উপস্থিত থাকাকালে তার অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হতে বিরত থাকা।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

এ হাদীছটির শিক্ষা সুস্পষ্ট। স্বামীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোযা রাখবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান