আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৯. অধ্যায়ঃ রোযা
হাদীস নং: ১৬৫৮
অধ্যায়ঃ রোযা
সাদকা-ই-ফিতরের প্রতি উৎসাহ দান ও এর তাকীদ প্রসঙ্গ
১৬৫৮. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ রোযাদারকে বেহুদা ও অশ্লীল বাক্যাদি (জনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি) থেকে পবিত্রকরণের উদ্দেশ্যে ও মিস্ফীনদেরকে কিছু আহার্য দ্যনের উদ্দেশ্যে সাদকা-ই-ফিতর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে তা আদায় করে দেবে, সেটি হবে গ্রহণীয় দান। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর আদায় করবে, সেটি অন্যান্য দানের মতই একটি সাধারণ দান বলে গণ্য হবে।
(হাদীসটি আবু দাউদ, ইবন মাজাহ এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারীর মাপকাঠিতে সহীহ।)
{খাত্তাবী (র) বলেনঃ হাদীসে উক্ত فرض رسول الله ﷺ বাক্যাটিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সাদ্কা -ই ফিতর অন্যান্য সম্পদের যাকাতের মতই ফরয। এখানে এ কথারও প্রমাণ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্-এর নির্দেশিত বিধি-নিষেধও আল্লাহর ফরযকৃত বিধি-নিষেধের মতই অলঙ্ঘনীয়। কেননা তাঁর আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য থেকেই উৎসারিত। সাদ্কা-ই-ফিতরের ফরয ও ওয়াজিব হওয়ার পক্ষেই অধিকাংশ আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন। সাদকা-ই-ফিতর-এর কারণ সম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে যে, এরদ্বারা রোযাদারের বেহুদা ও অশ্লীল বাক্যাদিজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্রতা সাধিত হয়ে থাকে। তাই এটি সামর্থ্যবান ধনী ও এমন দরিদ্রের উপরও ওয়াজিব হবে, যার ঘরে একদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার রয়েছে। আর যেহেতু সকল রোযাদারেরই পবিত্রতার প্রয়োজন রয়েছে, তাই সবার উপরই এ সাদকা-ই-ফিতর ওয়াজিব হবে।
হাফিয আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেন, অধিকাংশ আলিম এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সাদ্কা-ই-ফিতর ফরয। আমরা যে সব আলিম থেকে এ অভিমতটি জানতে পেরেছি, তাঁরা হলেন: মুহাম্মদ ইবন সীরীন, আবুল আলিয়া, যাহহাক, আতা, মালিক, সুফয়ান সাওরী, শাফিয়ী, আবু সাওর, আহমদ, ইসহাক (র) ও কিয়াসপন্থীগণ। ইসহাক বলেন, এটি আলিমদের ইজমা-এর মতই অনুপেক্ষনীয়।)
(হাদীসটি আবু দাউদ, ইবন মাজাহ এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, হাদীসটি বুখারীর মাপকাঠিতে সহীহ।)
{খাত্তাবী (র) বলেনঃ হাদীসে উক্ত فرض رسول الله ﷺ বাক্যাটিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সাদ্কা -ই ফিতর অন্যান্য সম্পদের যাকাতের মতই ফরয। এখানে এ কথারও প্রমাণ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্-এর নির্দেশিত বিধি-নিষেধও আল্লাহর ফরযকৃত বিধি-নিষেধের মতই অলঙ্ঘনীয়। কেননা তাঁর আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য থেকেই উৎসারিত। সাদ্কা-ই-ফিতরের ফরয ও ওয়াজিব হওয়ার পক্ষেই অধিকাংশ আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন। সাদকা-ই-ফিতর-এর কারণ সম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে যে, এরদ্বারা রোযাদারের বেহুদা ও অশ্লীল বাক্যাদিজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্রতা সাধিত হয়ে থাকে। তাই এটি সামর্থ্যবান ধনী ও এমন দরিদ্রের উপরও ওয়াজিব হবে, যার ঘরে একদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার রয়েছে। আর যেহেতু সকল রোযাদারেরই পবিত্রতার প্রয়োজন রয়েছে, তাই সবার উপরই এ সাদকা-ই-ফিতর ওয়াজিব হবে।
হাফিয আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেন, অধিকাংশ আলিম এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সাদ্কা-ই-ফিতর ফরয। আমরা যে সব আলিম থেকে এ অভিমতটি জানতে পেরেছি, তাঁরা হলেন: মুহাম্মদ ইবন সীরীন, আবুল আলিয়া, যাহহাক, আতা, মালিক, সুফয়ান সাওরী, শাফিয়ী, আবু সাওর, আহমদ, ইসহাক (র) ও কিয়াসপন্থীগণ। ইসহাক বলেন, এটি আলিমদের ইজমা-এর মতই অনুপেক্ষনীয়।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَدَقَة الْفطر وَبَيَان تأكيدها
1658- عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ فرض رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم صَدَقَة الْفطر طهرة للصَّائِم من اللَّغْو والرفث وطعمة للْمَسَاكِين فَمن أَدَّاهَا قبل الصَّلَاة فَهِيَ زَكَاة مَقْبُولَة وَمن أَدَّاهَا بعد الصَّلَاة فَهِيَ صَدَقَة من الصَّدَقَة
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط البُخَارِيّ
قَالَ الْخطابِيّ رَحمَه الله قَوْله فرض رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم زَكَاة الْفطر فِيهِ بَيَان أَن صَدَقَة الْفطر فرض وَاجِب كافتراض الزَّكَاة الْوَاجِبَة فِي الْأَمْوَال وَفِيه بَيَان أَن مَا فرض رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَهُوَ كَمَا فرض الله لِأَن طَاعَته صادرة عَن طَاعَة الله وَقد قَالَ بفرضية زَكَاة الْفطر
ووجوبها عَامَّة أهل الْعلم وَقد عللت بِأَنَّهَا طهرة للصَّائِم من الرَّفَث واللغو
فَهِيَ وَاجِبَة على كل صَائِم غَنِي ذِي جدة أَو فَقير يجدهَا فضلا عَن قوته إِذا كَانَ وُجُوبهَا لعِلَّة التَّطْهِير وكل الصائمين محتاجون إِلَيْهَا فَإِذا اشْتَركُوا فِي الْعلَّة اشْتَركُوا فِي الْوُجُوب انْتهى
وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو بكر بن الْمُنْذر أجمع عوام أهل الْعلم على أَن صَدَقَة الْفطر فرض وَمِمَّنْ حفظنا ذَلِك عَنهُ من أهل الْعلم مُحَمَّد بن سِيرِين وَأَبُو الْعَالِيَة وَالضَّحَّاك وَعَطَاء وَمَالك وسُفْيَان الثَّوْريّ وَالشَّافِعِيّ وَأَبُو ثَوْر وَأحمد وَإِسْحَاق وَأَصْحَاب الرَّأْي وَقَالَ إِسْحَاق هُوَ كالإجماع من أهل الْعلم انْتهى
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط البُخَارِيّ
قَالَ الْخطابِيّ رَحمَه الله قَوْله فرض رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم زَكَاة الْفطر فِيهِ بَيَان أَن صَدَقَة الْفطر فرض وَاجِب كافتراض الزَّكَاة الْوَاجِبَة فِي الْأَمْوَال وَفِيه بَيَان أَن مَا فرض رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَهُوَ كَمَا فرض الله لِأَن طَاعَته صادرة عَن طَاعَة الله وَقد قَالَ بفرضية زَكَاة الْفطر
ووجوبها عَامَّة أهل الْعلم وَقد عللت بِأَنَّهَا طهرة للصَّائِم من الرَّفَث واللغو
فَهِيَ وَاجِبَة على كل صَائِم غَنِي ذِي جدة أَو فَقير يجدهَا فضلا عَن قوته إِذا كَانَ وُجُوبهَا لعِلَّة التَّطْهِير وكل الصائمين محتاجون إِلَيْهَا فَإِذا اشْتَركُوا فِي الْعلَّة اشْتَركُوا فِي الْوُجُوب انْتهى
وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو بكر بن الْمُنْذر أجمع عوام أهل الْعلم على أَن صَدَقَة الْفطر فرض وَمِمَّنْ حفظنا ذَلِك عَنهُ من أهل الْعلم مُحَمَّد بن سِيرِين وَأَبُو الْعَالِيَة وَالضَّحَّاك وَعَطَاء وَمَالك وسُفْيَان الثَّوْريّ وَالشَّافِعِيّ وَأَبُو ثَوْر وَأحمد وَإِسْحَاق وَأَصْحَاب الرَّأْي وَقَالَ إِسْحَاق هُوَ كالإجماع من أهل الْعلم انْتهى