আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১২. অধ্যায়ঃ জিহাদ
হাদীস নং: ১৯৯০
অধ্যায়ঃ জিহাদ
আল্লাহর পথে একটি সকাল ও একটি বিকাল যাপনের প্রতি উৎসাহ দান, জিহাদে পদব্রজে চলা, ধূলিবালি লাগানো ও এতে ভয়ভীতি বরদাস্ত করার ফযীলত প্রসঙ্গ
১৯৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর পথে একটি সকাল বা একটি বিকাল পথ চলা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যবর্তী সব কিছুর চেয়েও উত্তম। তোমাদের ধনুকের মাথা পরিমাণ অথবা চাবুকের সমপরিমাণ জান্নাতের সামান্য স্থানও দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যস্থিত সকল বস্তু থেকে উৎকৃষ্ট। জান্নাতবাসিনী একটি নারী (হুর) যদি দুনিয়াবাসীর প্রতি একটু উকি দিয়ে দেখে, তবে বিশ্বলোকের সব কিছু উজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং সুগন্ধিতে সব কিছু ভরে দিবে। জান্নাতী হুর-এর মাথার উড়নাটিও দুনিয়া এবং দুনিয়ার তাবৎ সম্পদ থেকে উত্তম।
(হাদীসটি বুখারী-মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি বুখারী-মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الْجِهَاد
التَّرْغِيب فِي الغدوة فِي سَبِيل الله والروحة وَمَا جَاءَ فِي فضل الْمَشْي وَالْغُبَار فِي سَبِيل الله وَالْخَوْف فِيهِ
1990- عَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لغدوة فِي سَبِيل الله أَو رَوْحَة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم من الْجنَّة أَو مَوضِع قيد يَعْنِي سَوْطه خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَو أَن امْرَأَة من أهل الْجنَّة اطَّلَعت إِلَى أهل الأَرْض لَأَضَاءَتْ مَا بَينهمَا وَلَمَلَأَتْهُ ريحًا وَلنَصِيفهَا على رَأسهَا خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
الغدوة بِفَتْح الْغَيْن الْمُعْجَمَة هِيَ الْمرة الْوَاحِدَة من الذّهاب
والروحة بِفَتْح الرَّاء هِيَ الْمرة الْوَاحِدَة من الْمَجِيء
والروحة بِفَتْح الرَّاء هِيَ الْمرة الْوَاحِدَة من الْمَجِيء
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের প্রথম অংশে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার অর্থাৎ কোন দ্বীনি কাজে সফর করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা দীনী কাজের জন্য সফর করা দুনিয়া এবং তার যাবতীয় বস্তু থেকে উত্তম। সকাল-সন্ধ্যার উল্লেখ এজন্য করা হয়েছে যে, আরব দেশে সকালবেলা বা সন্ধ্যাবেলা সফরে বের হওয়ার রেওয়াজ ছিল। যদি কোন ব্যক্তি দুপুরের সময়ও দীনের খেদমতের জন্য ঘর থেকে বের হয় তাহলে সেও অনুরূপ ফযীলত লাভ করবে।
হাদীসের দ্বিতীয় অংশে আহলে জান্নাতের জান্নাতী স্ত্রীদের অসাধারণ রূপ সৌন্দর্য এবং তাদের অমূল্য পোশাকের উল্লেখ করা হয়েছে। দীনী কাজের জন্য বাড়ীঘর ত্যাগ করে সফর করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদেরকে একথা বলা যে, যদি তোমরা দীনের কাজের জন্য ঘরবাড়ী এবং স্ত্রী পরিবার পরিজন ছেড়ে সামান্য সময়ের জন্য বের হও তাহলে তোমরা জান্নাতে চিরদিনের জন্য এমন সুন্দরী স্ত্রী লাভকরবে যারা দুনিয়ার দিকে তাকালে দুনিয়া ও আসমানের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত ও খুশবুতে ভরপুর হয়ে যাবে এবং তাদের মাথার চাদর এমন মূল্যবান যে, তা 'দুনিয়া ও মাফিহা' দুনিয়া এবং তার যাবতীয় বস্তু থেকে উত্তম হবে।
আল্লাহর রাস্তায় সামান্যতম সময় ব্যয় করা দুনিয়ার যাবতীয় কাজের চেয়ে বেশী মর্যাদাসম্পন্ন এবং দুনিয়ার তামাম সম্পদের চেয়ে বেশী মূল্যবান। পার্থিব লালসা চরিতার্থ করার জন্য বা দুনিয়ার প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য যে সময় ব্যয় করা হয় তার ফল খুব ক্ষণস্থায়ী। অপরপক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় হয় তার ফল নিজের এবং দনিয়াবাসীর জন্য মঙ্গলজনক ও চিরস্থায়ী হয়। দুনিয়ার মানুষের সুখ-শান্তি ও সংহতি বহন করে নিয়ে আসে। আল্লাহর দুনিয়া থেকে শয়তানের প্রভাব খতম করতে সক্ষম হলে আল্লাহর বান্দাগণ আরাম-আয়েশের জীবন-যাপনে সক্ষম হন। অন্যায় ও যুলুমের অবসান হয়।
দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় করা হয় আখিরাতে তা বিরাট সাফল্যের কারণ হবে। মানুষ দুনিয়ার জীবনে সুন্দরী মেয়ে, সুন্দর বাসগৃহ এবং পার্থিব সম্পদের লোভে পড়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরে পড়ে। এ ধরনের নির্বোধেরা চিন্তা করে না, দুনিয়ার যিন্দেগী ক্ষণস্থায়ী আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। আর আখিরাতের জীবনে আল্লাহভীরু লোকদের জন্য এমন সব নি'আমত রয়েছে যা তামাম দুনিয়ার মানুষ চেষ্টা করেও দুনিয়াতে হাসিল করতে পারবে না। তাদের জানা উচিত যে, দুনিয়ার এসব সুন্দরী নারী বেহেশতের হুরের তুলনায় কিছুই নয়। আল্লাহ্ তা'আলা এসব হুর তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রেখেছেন। তাঁরা এতো অপরূপ সুন্দরী যে, তাদের একজন যদি পৃথিবীর দিকে সামান্যতম চোখ তুলে তাকায় তা হলে আসমান-যমীনের মধ্যস্থ সবকিছু আলোকজ্জল ও সুগন্ধীময়। তাদের পরিধানের কাপড়-চোপড় এত মূল্যবান যে, শুধু মাথার একটি ওড়না দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম ও মূল্যবান।
আল্লাহ্ আমাদের নির্বোধদের মধ্যে বুদ্ধির উদয় করুন এবং আমাদের সকলকে আখিরাতের কল্যাণ দান করুন।
হাদীসের দ্বিতীয় অংশে আহলে জান্নাতের জান্নাতী স্ত্রীদের অসাধারণ রূপ সৌন্দর্য এবং তাদের অমূল্য পোশাকের উল্লেখ করা হয়েছে। দীনী কাজের জন্য বাড়ীঘর ত্যাগ করে সফর করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদেরকে একথা বলা যে, যদি তোমরা দীনের কাজের জন্য ঘরবাড়ী এবং স্ত্রী পরিবার পরিজন ছেড়ে সামান্য সময়ের জন্য বের হও তাহলে তোমরা জান্নাতে চিরদিনের জন্য এমন সুন্দরী স্ত্রী লাভকরবে যারা দুনিয়ার দিকে তাকালে দুনিয়া ও আসমানের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত ও খুশবুতে ভরপুর হয়ে যাবে এবং তাদের মাথার চাদর এমন মূল্যবান যে, তা 'দুনিয়া ও মাফিহা' দুনিয়া এবং তার যাবতীয় বস্তু থেকে উত্তম হবে।
আল্লাহর রাস্তায় সামান্যতম সময় ব্যয় করা দুনিয়ার যাবতীয় কাজের চেয়ে বেশী মর্যাদাসম্পন্ন এবং দুনিয়ার তামাম সম্পদের চেয়ে বেশী মূল্যবান। পার্থিব লালসা চরিতার্থ করার জন্য বা দুনিয়ার প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য যে সময় ব্যয় করা হয় তার ফল খুব ক্ষণস্থায়ী। অপরপক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় হয় তার ফল নিজের এবং দনিয়াবাসীর জন্য মঙ্গলজনক ও চিরস্থায়ী হয়। দুনিয়ার মানুষের সুখ-শান্তি ও সংহতি বহন করে নিয়ে আসে। আল্লাহর দুনিয়া থেকে শয়তানের প্রভাব খতম করতে সক্ষম হলে আল্লাহর বান্দাগণ আরাম-আয়েশের জীবন-যাপনে সক্ষম হন। অন্যায় ও যুলুমের অবসান হয়।
দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় করা হয় আখিরাতে তা বিরাট সাফল্যের কারণ হবে। মানুষ দুনিয়ার জীবনে সুন্দরী মেয়ে, সুন্দর বাসগৃহ এবং পার্থিব সম্পদের লোভে পড়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরে পড়ে। এ ধরনের নির্বোধেরা চিন্তা করে না, দুনিয়ার যিন্দেগী ক্ষণস্থায়ী আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। আর আখিরাতের জীবনে আল্লাহভীরু লোকদের জন্য এমন সব নি'আমত রয়েছে যা তামাম দুনিয়ার মানুষ চেষ্টা করেও দুনিয়াতে হাসিল করতে পারবে না। তাদের জানা উচিত যে, দুনিয়ার এসব সুন্দরী নারী বেহেশতের হুরের তুলনায় কিছুই নয়। আল্লাহ্ তা'আলা এসব হুর তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রেখেছেন। তাঁরা এতো অপরূপ সুন্দরী যে, তাদের একজন যদি পৃথিবীর দিকে সামান্যতম চোখ তুলে তাকায় তা হলে আসমান-যমীনের মধ্যস্থ সবকিছু আলোকজ্জল ও সুগন্ধীময়। তাদের পরিধানের কাপড়-চোপড় এত মূল্যবান যে, শুধু মাথার একটি ওড়না দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম ও মূল্যবান।
আল্লাহ্ আমাদের নির্বোধদের মধ্যে বুদ্ধির উদয় করুন এবং আমাদের সকলকে আখিরাতের কল্যাণ দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)