আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৩. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
হাদীস নং: ২১৯৪
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
সালাত ও এর বাইরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান, কুরআন শিক্ষা ও এর শিক্ষাদানের ফযীলত এবং সিজদা-ই-তিলাওয়াত আদায়ের প্রতি উৎসাহ দান প্রসঙ্গে
সালাত ও এর বাইরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান, কুরআন শিক্ষা ও এর শিক্ষাদানের ফযীলত এবং সিজদা-ই-তিলাওয়াত আদায়ের প্রতি উৎসাহ দান প্রসঙ্গে
২১৯৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করল, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি পুণ্য রয়েছে। আর পুণ্যমাত্রই দশগুণ করে বাড়িয়ে দেয়া হয়। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর ও মীম একটি অক্ষর।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃঃ যে, এটি একটি হাসান, সহীহ ও গরীব হাদীস।)
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃঃ যে, এটি একটি হাসান, সহীহ ও গরীব হাদীস।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة الْقُرْآن فِي الصَّلَاة وَغَيرهَا وَفضل تعلمه وتعليمه وَالتَّرْغِيب فِي سُجُود التِّلَاوَة
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة الْقُرْآن فِي الصَّلَاة وَغَيرهَا وَفضل تعلمه وتعليمه وَالتَّرْغِيب فِي سُجُود التِّلَاوَة
2194- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من قَرَأَ حرفا من كتاب الله فَلهُ بِهِ حَسَنَة والحسنة بِعشر أَمْثَالهَا لَا أَقُول الم حرف وَلَكِن ألف حرف وَلَام حرف وَمِيم حرف
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح غَرِيب
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح غَرِيب
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ্ তা'আলার এ অনুগ্রহমূলক বিধানটি যে একটি নেকীর কাজের উপর দশটি নেকীর সমান সওয়াব দান করা হবে, কুরআন মজীদেও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আন'আমে বলা হয়েছে: من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি নেকীর কাজ করবে, তাকে এমন দশটি নেকীর সওয়াব দান করা হবে।
উপরের হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ উম্মতকে এ সুসংবাদ শুনিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করবে, তার প্রতিটি অক্ষরের তেলাওয়াত একটি নেকী হিসাবে গণ্য হবে, যা প্রতিদানের দিক দিয়ে দশটি নেকীর সমান হবে। এ হাদীসেরই বায়হাকীর এক রেওয়ায়তে রয়েছে যে, হুযুর ﷺ বলেছেন: আমি বলছি না যে, "বিসমিল্লাহ" একটি অক্ষর; বরং 'বা একটি অক্ষর, 'সীন' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আর আমি একথাও বলছি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং 'আলিফ' একটি অক্ষর, 'লাম' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে ইয়াকীন ও বিশ্বাসের দৌলত দান করুন। এ আয়াতে আল্লাহর পাক কালাম তেলাওয়াতকারীদের জন্য বড়ই সুসংবাদ রয়েছে। সত্যিই তারা কত বড় ভাগ্যবান।
এ হাদীস থেকে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এও পাওয়া গেল যে, কুরআন শরীফ তেলাওয়াতে সওয়াব লাভের জন্য এটা জরুরী নয় যে, এ তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম বুঝেই করতে হবে। কেননা, আলিফ-লাম-মীম ও সকল হরফে মুকাত্তাআত এর তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম না বুঝেই করা হয়ে থাকে, অথচ হাদীসে স্পষ্ট বলে দিয়েছে যে, এ সকল অক্ষর পাঠকারীদেরকেও প্রতি অক্ষরে দশটি করে নেকী দান করা হয়।
উপরের হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ উম্মতকে এ সুসংবাদ শুনিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করবে, তার প্রতিটি অক্ষরের তেলাওয়াত একটি নেকী হিসাবে গণ্য হবে, যা প্রতিদানের দিক দিয়ে দশটি নেকীর সমান হবে। এ হাদীসেরই বায়হাকীর এক রেওয়ায়তে রয়েছে যে, হুযুর ﷺ বলেছেন: আমি বলছি না যে, "বিসমিল্লাহ" একটি অক্ষর; বরং 'বা একটি অক্ষর, 'সীন' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আর আমি একথাও বলছি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং 'আলিফ' একটি অক্ষর, 'লাম' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে ইয়াকীন ও বিশ্বাসের দৌলত দান করুন। এ আয়াতে আল্লাহর পাক কালাম তেলাওয়াতকারীদের জন্য বড়ই সুসংবাদ রয়েছে। সত্যিই তারা কত বড় ভাগ্যবান।
এ হাদীস থেকে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এও পাওয়া গেল যে, কুরআন শরীফ তেলাওয়াতে সওয়াব লাভের জন্য এটা জরুরী নয় যে, এ তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম বুঝেই করতে হবে। কেননা, আলিফ-লাম-মীম ও সকল হরফে মুকাত্তাআত এর তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম না বুঝেই করা হয়ে থাকে, অথচ হাদীসে স্পষ্ট বলে দিয়েছে যে, এ সকল অক্ষর পাঠকারীদেরকেও প্রতি অক্ষরে দশটি করে নেকী দান করা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)