আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৩. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
হাদীস নং: ২২৬১
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করে যারা চিন্তা-গবেষণা করে না, তাদের প্রসঙ্গ
২২৬১. ইবন বুরায়দা সূত্রে তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা (রা) থেকে মারফু'রূপে বর্ণিত যে, তোমরা সূরা বাকারা ও আলে ইমরান শিক্ষা কর। কেননা এ দু'টি হল প্রদীপ্ত দু'টি বস্তু, এরা তাদের পাঠকারীদের উপর কিয়ামতের দিন মেঘখণ্ডের মত অথবা সামিয়ানার মত অথবা পক্ষ প্রসারিত পাখির ঝাঁকের মত ছায়া বিস্তার করবে।
(হাদীসটি হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(হাদীসটি হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة سُورَة الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَمَا جَاءَ فِيمَن قَرَأَ آخر آل عمرَان فَلم يتفكر فِيهَا
2261- وَعَن ابْن بُرَيْدَة عَن أَبِيه رَضِي الله عَنهُ مَرْفُوعا تعلمُوا الْبَقَرَة وَآل عمرَان فَإِنَّهُمَا الزهراوان يظلان صَاحبهمَا يَوْم الْقِيَامَة كَأَنَّهُمَا غمامتان أَو غيايتان أَو فرقان من طير صواف
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটির বিষয়বস্তু প্রায় হযরত আবু উমামা বাহেলী রাযি.-এর বর্ণিত হাদীসের মতই। হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, এটা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। (বিশেষ করে) এর দু'টি নূরানী সূরা 'বাকারা' ও 'আলে ইমরান' পাঠ করে যাও। কেননা, এগুলো কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীদেরকে এভাবে ছায়া করে নিয়ে আসবে যে, এগুলো যেন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা শামিয়ানা অথবা পাখির ঝাঁক। এগুলো তার পাঠকদের পক্ষ থেকে (আযাব) প্রতিরোধ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা, এটা অর্জন করা খুবই বরকতের বিষয় আর বর্জন করা অত্যন্ত আক্ষেপ ও অনুতাপের ব্যাপার। আর অলস লোকেরা এটা করতে পারবে না।
কেয়ামত ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা একটু চিন্তা করুন এবং এটাও ভেবে দেখুন যে, কত ভাগ্যবান হবে আল্লাহর ঐসব বান্দারা, যারা কুরআনের সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক রাখার কারণে এবং এর আহকামের অনুসরণের বরকতে হাশরের ঐ ভয়াবহ ময়দানে এ অবস্থায় আসবে যে, আল্লাহর পাক কালাম তাদের সুপারিশকারী ও উকিল হয়ে তাদের সাথে থাকবে। কুরআনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নূরানী সূরা, সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে। এসব হাদীসের উপর অবগতি লাভের পরও যেসব বান্দা এ সৌভাগ্য অর্জনে ত্রুটি করবে, নিঃসন্দেহে তারা চরম বঞ্চিত।
কেয়ামত ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা একটু চিন্তা করুন এবং এটাও ভেবে দেখুন যে, কত ভাগ্যবান হবে আল্লাহর ঐসব বান্দারা, যারা কুরআনের সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক রাখার কারণে এবং এর আহকামের অনুসরণের বরকতে হাশরের ঐ ভয়াবহ ময়দানে এ অবস্থায় আসবে যে, আল্লাহর পাক কালাম তাদের সুপারিশকারী ও উকিল হয়ে তাদের সাথে থাকবে। কুরআনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নূরানী সূরা, সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে। এসব হাদীসের উপর অবগতি লাভের পরও যেসব বান্দা এ সৌভাগ্য অর্জনে ত্রুটি করবে, নিঃসন্দেহে তারা চরম বঞ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)