আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
হাদীস নং: ২৫২৫
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
বহুল পরিমাণে দু'আ করার প্রতি উৎসাহ দান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২৫২৫. হযরত নু'মান ইবন বশীর (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃঃ দু'আ হচ্ছে ইবাদত। তারপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করলেনঃ
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
"তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা সত্ত্বর জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সূরা গাফিরঃ আয়াত নং-৬০)
(হাদীসটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তিরমিযীর। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং ইবন হিব্বানও এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকিমও এটি বর্ণনা করে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
"তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা সত্ত্বর জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সূরা গাফিরঃ আয়াত নং-৬০)
(হাদীসটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তিরমিযীর। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং ইবন হিব্বানও এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকিমও এটি বর্ণনা করে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي كَثْرَة الدُّعَاء وَمَا جَاءَ فِي فَضله
2525- وَعَن النُّعْمَان بن بشير رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الدُّعَاء هُوَ الْعِبَادَة ثمَّ قَرَأَ وَقَالَ ربكُم ادْعُونِي أَسْتَجِب لكم إِن الَّذين يَسْتَكْبِرُونَ عَن عبادتي سيدخلون جَهَنَّم داخرين غَافِر 06
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আসল হাদীস কেবল এতটুকু, দু'আ নিজেই ইবাদত। সম্ভবত হুযুর ﷺ-এর এ বাণীর অভীষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে এই যে, কেউ যেন এরূপ না ভাবে যে, বান্দা যেমন তার যরূরত বা প্রয়োজন পূরণ করার জন্যে অন্য দশটা চেষ্টা-তদবীর করে থাকে, দু'আও সেরূপ একটা চেষ্টা মাত্র। সে তার চেষ্টার ফল পেয়ে গেল। আর যদি কবুল না হয় তা হলে তার সে চেষ্টা বিফলে গেল। বরং দু'আ হচ্ছে সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ধাচের ব্যাপার। আর তা হচ্ছে তা উদ্দেশ্য সিদ্ধির একটি উসীলা বা মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও নিজেও একটি ইবাদত। আর এ হিসাবে তা তার একটি পবিত্র আমলও বটে যার ফল সে অবশ্যই আখিরাতে লাভ করবে।
যে আয়াতখানা তিনি সনদ স্বরূপ তিলাওয়াত করছেন তার দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ নিজেই ইবাদত। অন্য হাদীসে দু'আকে ইবাদতের মগজ বা সার নির্যাস স্বরূপ বলা হয়েছে।
যে আয়াতখানা তিনি সনদ স্বরূপ তিলাওয়াত করছেন তার দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ নিজেই ইবাদত। অন্য হাদীসে দু'আকে ইবাদতের মগজ বা সার নির্যাস স্বরূপ বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)