আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৫৩৫
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
বহুল পরিমাণে দু'আ করার প্রতি উৎসাহ দান এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গ
২৫৩৫. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দু'আর দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে, তার জন্য রহমতের অনেক দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। আর সুস্থতার চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় কোন বস্তুর প্রার্থনা করা হয় না। ইবন উমর (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরও বলেছেনঃ নিশ্চয়ই দু'আ আগত বিপদের ক্ষেত্রেও উপকারী এবং অনাগত বিপদের ক্ষেত্রেও উপকারী। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দু'আকে আঁকড়ে থাক।
(হাদীসটি তিরমিযী ও হাকিম আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর মুলায়কী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হলেন খুবই দুর্বল রাবী। আবদুর রহমান ইবন আবু বকর এটি মূসা ইবন উকবা থেকে, মূসা ইবন উকবা নাফি থেকে এবং নাফি ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব। হাকিম বলেন, এর সনদটি সহীহ।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي كَثْرَة الدُّعَاء وَمَا جَاءَ فِي فَضله
2535- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من فتح لَهُ مِنْكُم بَاب الدُّعَاء فتحت لَهُ أَبْوَاب الرَّحْمَة وَمَا سُئِلَ الله شَيْئا يَعْنِي أحب إِلَيْهِ من أَن يسْأَل الْعَافِيَة
وَقَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الدُّعَاء ينفع مِمَّا نزل وَمِمَّا لم ينزل فَعَلَيْكُم عباد الله بِالدُّعَاءِ

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم كِلَاهُمَا من رِوَايَة عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر الْمليكِي وَهُوَ ذَاهِب الحَدِيث عَن مُوسَى بن عقبَة عَن نَافِع عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আফিয়তের মর্ম হচ্ছে এই যে, তাবৎ ইহলৌকিক পারলৌকিক যাহেরী বাতেনী আপদ-বিপদ ও বালা-মুসীবত থেকে বান্দা নিরাপদ ও হিফাযতে থাকবে। তাই যে ব্যক্তি আল্লার কাছে আফিয়াত প্রার্থনা করে, সে যেন প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি করে যে, আল্লাহর ফযল ও করম, তাঁর সদয় দৃষ্টি এবং হিফাযত ছাড়া সে জীবিত ও সুস্থ পর্যন্ত থাকতে পারে না। ছোটবড় কোন বিপদ থেকেও সে নিজে আত্মরক্ষা করতে অপারগ। তাই এরূপ দু'আই নিজের পূর্ণ দীনতা-হীনতা ও মুখাপেক্ষিতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন এবং একটিই আবদিয়তের কামালিয়ত। এজন্যেই বান্দার আফিয়তের দু'আ আল্লাহর নিকট সকল দু'আর চাইতে প্রিয়তম।

দ্বিতীয় যে কথাটি এ হাদীসে বলা হয়েছে, তা হলো, যার জন্যে দু'আর দরজা খুলে গেছে অর্থাৎ দু'আর হাকীকত যে পেয়ে গেছে, অর্থাৎ যার কাছে দু'আর রহস্য উম্মোচিত হয়ে গেছে, আল্লাহর কাছে যাচ্ঞা করার কৌশল যার রপ্ত হয়ে গেছে, তার জন্যে রহমতে ইলাহীর দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেছে। দু'আ আসলে সে সমস্ত দু'আ বোধক শব্দের নাম নয়, যা রসনার দ্বারা উচ্চারিত হয়ে থাকে, এ শব্দগুলিকে তো বেশি থেকে বেশি দু'আর বহিরাবরণ বলা চলে। দু'আর হাকীকত হচ্ছে মানুষের কলব ও রূহের তলব ও তড়পানি, তার হৃদয়-মনের আকুলি, বিকুলি ও আকৃতি। হাদীসে পাকে এ বিশেষ অবস্থা সৃষ্টিকেই দু'আর দরজা খোলা বলে অভিহিত করা হয়েছে। বান্দা যখন তা পেয়ে যায় তখন রহমতের দরজা তার জন্যে খুলেই যায়। আল্লাহ তা'আলা তা সকলকে নসীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান