আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
হাদীস নং: ২৫৪৫
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
এমন কিছু বাক্য যা দিয়ে দু'আ শুরু করা চাই এবং ইসমে আযম প্রসঙ্গ
২৫৪৫. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন বুরায়দা সূত্রে তাঁর পিতা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ "হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এই সুবাদে যে, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ্, তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তুমি অমুখাপেক্ষী, তুমি ঐ সত্তা, যে কাউকে জন্ম দেয়নি এবং কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেনি এবং তার কোন সমকক্ষ নেই।" তিনি বললেন, তুমি আল্লাহকে 'ইসমে আযম' দিয়ে ডাকছ যে, এ নামে প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন এবং দু'আ করা হলে তা তিনি কবুল করেন।
(হাদীসটি আবূ দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেও মন্তব্য করেছেন। ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেনঃ তুমি আল্লাহকে ইসমে আযম দ্বারা ডেকেছ। হাকিম বলেছেনঃ হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুসারে সহীহ। (সংকলক বলেন)ঃ আমাদের উস্তাদ হাফিয আবুল হাসান মাকদাসী বলেছেনঃ এই সনদে কোন দোষ নেই এবং এ বিষয়ে এর চেয়ে কোন উত্তম হাদীস নেই'।)
(হাদীসটি আবূ দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেও মন্তব্য করেছেন। ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেনঃ তুমি আল্লাহকে ইসমে আযম দ্বারা ডেকেছ। হাকিম বলেছেনঃ হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুসারে সহীহ। (সংকলক বলেন)ঃ আমাদের উস্তাদ হাফিয আবুল হাসান মাকদাসী বলেছেনঃ এই সনদে কোন দোষ নেই এবং এ বিষয়ে এর চেয়ে কোন উত্তম হাদীস নেই'।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي كَلِمَات يستفتح بهَا الدُّعَاء وَبَعض مَا جَاءَ فِي اسْم الله الْأَعْظَم
2545- عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سمع رجلا يَقُول اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك بِأَنِّي أشهد أَنَّك أَنْت الله لَا إِلَه إِلَّا أَنْت الْأَحَد الصَّمد الَّذِي لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد فَقَالَ لقد سَأَلت الله بِالِاسْمِ الْأَعْظَم الَّذِي إِذا سُئِلَ بِهِ أعْطى وَإِذا دعِي بِهِ أجَاب
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ فِيهِ لقد سَأَلت الله باسمه الْأَعْظَم
وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ المملي قَالَ شَيخنَا الْحَافِظ أَبُو الْحسن الْمَقْدِسِي وَإِسْنَاده لَا مطْعن فِيهِ وَلم يرد فِي هَذَا الْبَاب حَدِيث أَجود إِسْنَادًا مِنْهُ
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ فِيهِ لقد سَأَلت الله باسمه الْأَعْظَم
وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ المملي قَالَ شَيخنَا الْحَافِظ أَبُو الْحسن الْمَقْدِسِي وَإِسْنَاده لَا مطْعن فِيهِ وَلم يرد فِي هَذَا الْبَاب حَدِيث أَجود إِسْنَادًا مِنْهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বিভিন্ন হাদীস গভীর মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ কোন নামকে ইসমে আ'যম বলা হয়নি; বরং এ কথাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে, আল্লাহর বিভিন্ন নাম যে বিশেষ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে তাঁর যে ব্যাপক মর্ম বুঝে আসে, তাকেই ইসমে আ'যম বলে অভিহিত করা হয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)-কে আল্লাহ তা'আলা এ জাতীয় ইলম ও মা'রিফত বিশেষ দান করেছেন। তিনি এসব হাদীস পাঠে এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন।১ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
টিকা ১. শাহ সাহেব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় বলেনঃ (পৃ ৭৭, জিলদ ২)
اعلم أن الاسم الاعظم الذي اذا سئل به اعطى واذا دعي به أجاب هو الاسم الذي يدل على اجمع تدل من تدليات الحق والذى تداوله الملأ الأعلى اكثر تداول ونطقت به التراجمة في كل عصر وهذا معنى يصدق على انت اللّٰه لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد وعلى لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السموات والارض يا ذا الجلال والإكرام يا حي يا قيوم ويصدق على اسماء تضاهي ذلك (حجة اللّٰه البالغة ص ٧٧ جلد (٦)
স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসমে আ'যম এমন নাম, যে নামের সাহায্যে যাচ্ঞা করা হলে দেয়া হয়, দু'আ করা হলে তা কবুল হয়। তা এমন নাম যা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে ব্যাপক উপায় বুঝায় এবং ঊর্ধ্ব মন্ডলে এ নামকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় এবং সকল যুগে (অদৃশ্য লোকের) বার্তা বাহকরা তা উচ্চারণ করে এসেছে।
أنْتَ اللّٰهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
-তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউ তাঁর সমকক্ষও নেই-এ অর্থ ইসমে আযম সম্পর্কে প্রযোজ্য হয়।
لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই তো হান্নান, মান্নান, তুমিই দয়াময় ও অনুগ্রহশীল, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে জালাল ও ইকরামের অধিকারী, হে হাই ও কাইয়্যুম হে চিরঞ্জীব ও সবকিছুর রক্ষক। এ সব নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও আসমাউল হুসনা প্রযোজ্য। -(হুজ্জাতুল্লাহ আল-বালিগাহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৭)
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)-কে আল্লাহ তা'আলা এ জাতীয় ইলম ও মা'রিফত বিশেষ দান করেছেন। তিনি এসব হাদীস পাঠে এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন।১ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
টিকা ১. শাহ সাহেব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় বলেনঃ (পৃ ৭৭, জিলদ ২)
اعلم أن الاسم الاعظم الذي اذا سئل به اعطى واذا دعي به أجاب هو الاسم الذي يدل على اجمع تدل من تدليات الحق والذى تداوله الملأ الأعلى اكثر تداول ونطقت به التراجمة في كل عصر وهذا معنى يصدق على انت اللّٰه لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد وعلى لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السموات والارض يا ذا الجلال والإكرام يا حي يا قيوم ويصدق على اسماء تضاهي ذلك (حجة اللّٰه البالغة ص ٧٧ جلد (٦)
স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসমে আ'যম এমন নাম, যে নামের সাহায্যে যাচ্ঞা করা হলে দেয়া হয়, দু'আ করা হলে তা কবুল হয়। তা এমন নাম যা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে ব্যাপক উপায় বুঝায় এবং ঊর্ধ্ব মন্ডলে এ নামকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় এবং সকল যুগে (অদৃশ্য লোকের) বার্তা বাহকরা তা উচ্চারণ করে এসেছে।
أنْتَ اللّٰهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
-তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউ তাঁর সমকক্ষও নেই-এ অর্থ ইসমে আযম সম্পর্কে প্রযোজ্য হয়।
لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই তো হান্নান, মান্নান, তুমিই দয়াময় ও অনুগ্রহশীল, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে জালাল ও ইকরামের অধিকারী, হে হাই ও কাইয়্যুম হে চিরঞ্জীব ও সবকিছুর রক্ষক। এ সব নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও আসমাউল হুসনা প্রযোজ্য। -(হুজ্জাতুল্লাহ আল-বালিগাহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৭)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)