আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৫৪৮
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
এমন কিছু বাক্য যা দিয়ে দু'আ শুরু করা চাই এবং ইসমে আযম প্রসঙ্গ
২৫৪৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন নবী করীম (ﷺ) আবূ আয়্যাশ যায়দ ইবন সামিত যুরাকীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। আবু আয়‍্যাশ তখন সালাতরত ছিলেন এবং তিনি বলছিলেনঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এইজন্য যে, সকল প্রশংসা তোমারই এবং তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। হে দয়াময় ও করুণাময়, হে আকাশ ও যমীনসমূহের সৃষ্টিকারী, হে পরাক্রমশালী মহা সম্মানের অধিকারী। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শুনে বললেনঃ তুমি, আল্লাহকে তাঁর ঐ মহান নাম নিয়ে ডেকেছ যে নামে ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন এবং কোন কিছু প্রার্থনা করা হলে তিনি প্রদান করেন।
(হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তাঁরই। ইবন মাজাহও এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ, নাসাঈ ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও এটি বর্ণনা করেন। তাঁরা চারজনই "ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়ুম-হে চিরঞ্জীব ও সব কিছুর ধারক" কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন। হাকিম বলেছেনঃ হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুসারে সহীহ। হাকিম তাঁর অপর এক বর্ণনায়, "আমি তোমার নিকট জান্নাত চাই ও জাহান্নাম থেকে পানাহ্ চাই" কথাটিও উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي كَلِمَات يستفتح بهَا الدُّعَاء وَبَعض مَا جَاءَ فِي اسْم الله الْأَعْظَم
2548- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ مر النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِأبي عَيَّاش زيد بن الصَّامِت الزرقي وَهُوَ يُصَلِّي وَهُوَ يَقُول اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك بِأَن لَك الْحَمد لَا إِلَه إِلَّا أَنْت يَا حنان يَا منان يَا بديع السَّمَوَات وَالْأَرْض يَا ذَا الْجلَال وَالْإِكْرَام فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لقد سَأَلت الله باسمه الْأَعْظَم الَّذِي إِذا دعِي بِهِ أجَاب وَإِذا سُئِلَ بِهِ أعْطى

رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَزَاد هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَة يَا حَيّ يَا قيوم وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح على شَرط مُسلم وَزَاد الْحَاكِم فِي رِوَايَة لَهُ أَسأَلك الْجنَّة وَأَعُوذ بك من النَّار

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিভিন্ন হাদীস গভীর মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ কোন নামকে ইসমে আ'যম বলা হয়নি; বরং এ কথাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে, আল্লাহর বিভিন্ন নাম যে বিশেষ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে তাঁর যে ব্যাপক মর্ম বুঝে আসে, তাকেই ইসমে আ'যম বলে অভিহিত করা হয়েছে।

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)-কে আল্লাহ তা'আলা এ জাতীয় ইলম ও মা'রিফত বিশেষ দান করেছেন। তিনি এসব হাদীস পাঠে এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন।১ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

টিকা ১. শাহ সাহেব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় বলেনঃ (পৃ ৭৭, জিলদ ২)

اعلم أن الاسم الاعظم الذي اذا سئل به اعطى واذا دعي به أجاب هو الاسم الذي يدل على اجمع تدل من تدليات الحق والذى تداوله الملأ الأعلى اكثر تداول ونطقت به التراجمة في كل عصر وهذا معنى يصدق على انت اللّٰه لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد وعلى لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السموات والارض يا ذا الجلال والإكرام يا حي يا قيوم ويصدق على اسماء تضاهي ذلك (حجة اللّٰه البالغة ص ٧٧ جلد (٦)

স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসমে আ'যম এমন নাম, যে নামের সাহায্যে যাচ্ঞা করা হলে দেয়া হয়, দু'আ করা হলে তা কবুল হয়। তা এমন নাম যা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে ব্যাপক উপায় বুঝায় এবং ঊর্ধ্ব মন্ডলে এ নামকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় এবং সকল যুগে (অদৃশ্য লোকের) বার্তা বাহকরা তা উচ্চারণ করে এসেছে।
أنْتَ اللّٰهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
-তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউ তাঁর সমকক্ষও নেই-এ অর্থ ইসমে আযম সম্পর্কে প্রযোজ্য হয়।
لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই তো হান্নান, মান্নান, তুমিই দয়াময় ও অনুগ্রহশীল, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে জালাল ও ইকরামের অধিকারী, হে হাই ও কাইয়্যুম হে চিরঞ্জীব ও সবকিছুর রক্ষক। এ সব নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও আসমাউল হুসনা প্রযোজ্য। -(হুজ্জাতুল্লাহ আল-বালিগাহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৭)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান