আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৬১০
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
সর্বদা বেশি করে নবী করীম (ﷺ) -এর প্রতি দরূদ পাঠের ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাঁর আলোচনার সময় যে ব্যক্তি দরূদ পাঠ করে না, তার সম্পর্কে সতর্কবাণী
২৬১০. হযরত হুসায়ন (রা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ চরম কৃপণ হল ঐ ব্যক্তি, যার নিকট আমার আলোচনা করা হল অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।
(হাদীসটি নাসাঈ ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেনঃঃ এবং এর সনদে হযরত আলী ইবন আবু তালিব (রা)-এর নামও উল্লেখ করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ-গরীব।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي إكثار الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والترهيب من تَركهَا عِنْد ذكره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كثيرا دَائِما
2610- وَعَن حُسَيْن رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْبَخِيل من ذكرت عِنْده فَلم يصل عَليّ

رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ وَزَاد فِي سَنَده عَليّ بن أبي طَالب وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح غَرِيب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এর মর্মকথা হচ্ছে, সাধারণত কৃপণ মনে করা হয়ে থাকে ঐ ব্যক্তিকে, যে তার ধন-সম্পদ ব্যয়ে কুণ্ঠিত থাকে বা কার্পণ্য করে; কিন্তু তার চাইতেও বড় কৃপণ এবং সবচাইতে বড় কৃপণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যার সম্মুখে আমার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলো অথচ সে রসনা নাড়িয়ে দরূদের দু'টি কলিমা উচ্চারণেও কার্পণ্য করে অথচ তিনি উম্মতের জন্যে কী না করেছেন আর এ উম্মত তাঁর নিকট থেকে কী না পেয়েছে। সে সব চাওয়া পাওয়ার বিনিময়ে প্রত্যেকটি উম্মত যদি তাদের প্রাণ উৎসর্গ করে দেয়, তবুও তাঁর হক আদায় হবার নয়।
مرحبا آئے پيك مشتاقان بده پیغام دوست
تا کنم جان از سر رغبت فدائی نام دوست
হে আগ্রহীরদল! বন্ধুকে জানিয়ে দিও, যাতে সানন্দে বন্ধুর পক্ষে জীবন উৎসর্গ করতে পারি!
মুসলমানদের কোন বৈঠকই যেন আল্লাহর যিকর ও নবীর প্রতি দরূদ শূন্য না হয়
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান