আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৯. অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা

হাদীস নং: ৩৪১৮
অধ্যায়ঃ বিচার ব্যবস্থা
আল্লাহর বিধান সম্বলিত কাজ ইত্যাদিতে কোন অন্যায়কারীর সহযোগিতা ও সহানুভূতি এবং নিষিদ্ধ কাজ সুপারিশ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৪১৮. বানু আশজা-এর হযরত আউস ইবনে শুরাহবীল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি জেনেশুনে কোন যালিমকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে তার পিছে পিছে যায়, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়।
(তাবারানীর কাবীর বর্ণিত গ্রন্থে হাদীসটি গরীব।)
كتاب القضاء
التَّرْهِيب من إِعَانَة الْمُبْطل ومساعدته والشفاعة الْمَانِعَة من حد من حُدُود الله وَغير ذَلِك
3418- وَرُوِيَ عَن أَوْس بن شُرَحْبِيل أحد بني أَشْجَع رَضِي الله عَنهُ أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من مَشى مَعَ ظَالِم ليعينه وَهُوَ يعلم أَنه ظَالِم فقد خرج من الْإِسْلَام

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَهُوَ حَدِيث غَرِيب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যালিমকে যালিম জানা সত্ত্বেও সাহায্য-সহযোগিতা করা মারাত্মক অপরাধ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যালিমের সাহায্যকারীকে ইসলাম থেকে বের হয়ে গিয়েছে বলে আখ্যায়িত করেছেন। নবী (ﷺ)-এর এই ইরশাদের প্রেক্ষাপটে আমরা সহজে অনুধাবন করতে পারি যে, যুলুম ঈমান এবং ইসলামের পরিপন্থী এবং যালেম ব্যক্তি কত বিরাট অপরাধী।

[বিঃ দ্রঃ যালিমের যুলুমকে উৎখাত করা এবং যালিমের যুলুম থেকে আল্লাহর বান্দাদের রক্ষা করা মুসলমানদের নৈতিক ও দীনী কর্তব্য। মুসলিম উম্মাহকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তারা মানবজাতিকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহবান করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর আহকামের অধীন করে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায় অত্যাচারের অবসান ঘটাবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য সামর্থ্যানুযায়ী সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। এমতাবস্থায় কোন ব্যক্তির যুলুম বন্ধ করার চেষ্টার পরিবর্তে যালিমকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হলে বুঝতে হবে, তার হৃদয় শুধুমাত্র ঈমান শূন্যই নয়, বরং ঈমানের বিপরীত চিন্তা দ্বারা পরিপূর্ণ। এজন্যই নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যালিমের সাহায্যকারী ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত।

অন্য এক হাদীস তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। তাতে আবু সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবী করীম (ﷺ) কাবা প্রাঙ্গনে প্রদত্ত এক ভাষণে আল্লাহর মাখলুকের উপর রহম করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দেন। উক্ত ভাষণের একস্থানে তিনি বলেন: যে মহামহিম আল্লাহর হাতে আমার জীবন তার শপথ। রহমশীল ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে আযাব দেবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান