আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪০২৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
অধ্যায়: শিষ্টাচার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়।
লজ্জাশীলতা অবলম্বনের প্রতি অনুপ্রেরণা ও তার ফযীলত এবং অশ্লীলতা ও নিরর্থক কথা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪০২৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করবে। তিনি বলেন, আমরা বললাম। ইয়া নবী আল্লাহ্! আমরা অবশ্যই লজ্জাশীলতা অবলম্বন করব এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি (নবীﷺ) বলেন: ব্যাপারটি এরূপ নয় বরং লজ্জাশীলতার দাবি হল, যথাযথভাবে আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জাবোধ করা। আর তা হলঃ মাথা (যাবতীয় খারাপ চিন্তা) থেকে মুক্ত রাখা, যবানের হিফাযত (হারামখানা হতে) পেট সংরক্ষণ এবং মৃত্যু ও কিয়ামতের কথা স্মরণ করা। যে ব্যক্তি আখিরাতে প্রত্যাশী, সে যেন দুনিয়ার বেশভূষা বর্জন করে। যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, সেই যথাযথভাবে আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জাশীলতার দাবি পূরণ করবে।
(তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন: আবান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সাব্বাহ ইবনে মুহাম্মাদ হতে, কেবলমাত্র এই সূত্রে আমি হাদীসটি জানি।
(হাফিয মুনযিরী (র) বলেন)। আবান ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে এবং সাব্বাহ সমালোচিত ব্যক্তি। মুহাদ্দিসগণ তার সূত্রে হাদীসটি মারফু' হওয়ার ব্যাপার দ্বিমত পোষণ করেছেন। তারা বলেন: বিশুদ্ধ মতানুযায়ী হযরত ইবনে মাসউদ (রা) হাদীসটি মাওকূফ সনদে বর্ণিত। তবে ইমাম তাবারানী (র) মারফু সনদে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
كتاب الْأَدَب وَغَيره
التَّرْغِيب فِي الْحيَاء وَمَا جَاءَ فِي فَضله والترهيب من الْفُحْش وَالْبذَاء
4024- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اسْتَحْيوا من الله حق الْحيَاء
قَالَ قُلْنَا يَا نَبِي الله إِنَّا لنستحي وَالْحَمْد لله
قَالَ لَيْسَ ذَلِك وَلَكِن الاستحياء من الله حق الْحيَاء أَن تحفظ الرَّأْس وَمَا وعى وَتحفظ الْبَطن وَمَا حوى ولتذكر الْمَوْت والبلى وَمن أَرَادَ الْآخِرَة ترك زِينَة الدُّنْيَا فَمن فعل ذَلِك فقد استحيا من الله حق الْحيَاء

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ هَذَا حَدِيث إِنَّمَا نعرفه من هَذَا الْوَجْه من حَدِيث أبان بن إِسْحَاق عَن الصَّباح بن مُحَمَّد
قَالَ الْحَافِظ أبان بن إِسْحَاق فِيهِ مقَال والصباح مُخْتَلف فِيهِ وَتكلم فِيهِ لرفعه هَذَا الحَدِيث وَقَالُوا الصَّوَاب عَن ابْن مَسْعُود مَوْقُوف وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ مَرْفُوعا من حَدِيث عَائِشَة وَالله أعلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহকে কিভাবে হায়া করা উচিত তার এক পরিপূর্ণ নকশা আল্লাহর রাসূল ﷺ আলোচ্য হাদীসে অংকন করেছেন। মাথা ও তার মধ্যে যা রয়েছে তার হিফাযত করার অর্থ হল চিন্তাকে গলদ খাতে প্রবাহিত হতে না দেয়া। সহীহ ও গলদ রাস্তার পার্থক্য অনুধাবন করা, হালাল-হারাম সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ না করা, দীন ইসলামকে একমাত্র দীন হিসেবে চিন্তা করা, যাবতীয় বাতিল মতাদর্শকে চিন্তার বহির্ভূত রাখা এবং মানুষের গড়া তামাম মতাদর্শকে সর্বদা বাতিল মনে করা। এ ছাড়াও কোনরূপ অশ্লীল কাজ করা বা মানুষের অনিষ্ট করার চিন্তা না করা। কোন কোন ক্ষেত্রে মন্দ চিন্তাধারা মানুষের ঈমান বিনষ্ট করে।

পেটের এবং পেটের ভিতরে যা জমা করা হয়, তার অর্থ হল হারাম রোযগার বা হারাম জিনিসের দ্বারা পেট না ভরা। হালাল বস্তু ও হালাল রোযগারের মাধ্যমে উপার্জিত বস্তুর দ্বারা ক্ষুধা-পিপাসা দূর না করলে বান্দার ইবাদত কবুল হয় না।

আল্লাহকে হায়া করার অর্থ হল দুনিয়ার যিন্দেগীর পরিবর্তে আখিরাতের যিন্দেগীকে প্রাধান্য দান করা এবং দুনিয়ার তথাকথিত কোন মূল্যবান জিনিসের লোভে আখিরাতের সামান্যতম লোকসান না করা। আখিরাতের স্থায়ী গৃহ ও তার অমূল্য নিয়ামত লাভ করার জন্য প্রয়োজনবোধে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কুরবান করা। আখিরাতের যিন্দেগীতে শুধু সুখ-শান্তি নয়, বরং দুঃখ-অশান্তিও রয়েছে। বান্দা মৃত্যুর কঠিন দরজা পার হয়ে আখিরাতের যিন্দেগীতে কদম রাখে। মৃত্যু তার যাবতীয় ভয়াবহতা নিয়ে আখিরাতের যাত্রীর সামনে উপস্থিত হয়। বান্দার ঈমান ও আমল মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রত্যেক মনযিলে বান্দাকে সাহায্য করে। বান্দা দুনিয়াতে মন্দ আমল করলে তামাম মন্দ আমল কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি নিয়ে তার সামনে হাযির হবে এবং তার মনের যাবতীয় শান্তি অপহরণ করবে। মন্দ মানুষের জন্য আখিরাতের প্রত্যেকটি মনযিল খুবই কঠিন হবে।

যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাধারাকে গলদ রাস্তায় প্রবাহিত করে না, গলদ জিনিসের দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করে না, মৃত্যু ও তার পরবর্তী মনযিলসমূহের কথা চিন্তা করে এবং আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে কুরবান করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে হায়া করার হক আদায় করে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান