আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪০৩৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
উত্তম চরিত্র ও তার ফযীলতের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অসচ্চরিত্র ও তার কুফলের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪০৩৮. ইখলাস অনুচ্ছেদে হযরত আবূ যার (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ঈমানের দাবি পূরণ কল্পে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেছে, মনকে কলুষমুক্ত করেছে, রসনাকে বিশ্বস্ত বানিয়ে নিয়েছে, তার প্রবৃত্তিকে প্রশান্তিময় করে নিয়েছে এবং তার চরিত্রকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদর্শের উপর অবিচল রেখেছে, সে সকলকাম। আল-হাদীস।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الْخلق الْحسن وفضله والترهيب من الْخلق السيىء وذمه
4038- وَتقدم فِي الْإِخْلَاص حَدِيث أبي ذَر عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد أَفْلح من أخْلص قلبه للْإيمَان وَجعل قلبه سليما وَلسَانه صَادِقا وَنَفسه مطمئنة وخليقته مُسْتَقِيمَة الحَدِيث
হাদীসের ব্যাখ্যা:
তার উপর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যার অন্তরকে তিনি ইসলামের জন্য খুলে দিয়েছেন এবং দিলকে মন্দ ওসওয়াসা ও কল্পনা থেকে সহীহ-সালামত রেখেছেন, যার জিহ্বাকে গীবত, অপবাদ, অশ্লীল, অন্যায়-অসত্য এবং বেহুদা কথাবার্তা থেকে হিফাযত করেছেন, যার কানকে ভাল কথা শোনার ও মন্দ কথা না শোনার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং যার চোখকে এমন এক দূরদৃষ্টি দিয়েছেন, সে যা দেখে তা তার নিজের এবং সকলের জন্য কল্যাণকর। এটা এক কামিল মু'মিনের জীবন। এ ধরনের যিন্দেগী যিনি লাভ করেছেন তিনি সৌভাগ্যবান। দুনিয়ার কোন শক্তি তাকে হেয় ও পরাজিত করতে পারবে না। আল্লাহ তাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তা দুনিয়ার তামাম সম্পদের চেয়ে উত্তম। তাই তিনি মহান ঐশ্বর্যের অধিকারী। বস্তুত এ ধরনের মানুষের কাছে থেকে ধনী-গরীব নির্বিশেষে দুনিয়ার সব মানুষ উপকৃত হয়।
আখিরাতের ময়দানে এ ধরনের মানুষ অপমান ও আযাব থেকে মাহফূয থাকবেন। যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহকে ভয় করে চলেছেন এবং নিজের জিহ্বা, চোখ, কান এবং দিলকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হুকুমের পরিপন্থি কোন কাজে ব্যবহার করেননি, তারা আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করবেন। হিসাব তাদের জন্য সহজ হবে। হিসাবের ঝামেলা তাদের অস্থির ও পেরেশান করবে না। তাই তাদের আখিরাতের যিন্দেগী দুনিয়ার যিন্দেগীর চেয়ে বেশি কামিয়াব হবে।
আখিরাতের ময়দানে এ ধরনের মানুষ অপমান ও আযাব থেকে মাহফূয থাকবেন। যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহকে ভয় করে চলেছেন এবং নিজের জিহ্বা, চোখ, কান এবং দিলকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হুকুমের পরিপন্থি কোন কাজে ব্যবহার করেননি, তারা আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করবেন। হিসাব তাদের জন্য সহজ হবে। হিসাবের ঝামেলা তাদের অস্থির ও পেরেশান করবে না। তাই তাদের আখিরাতের যিন্দেগী দুনিয়ার যিন্দেগীর চেয়ে বেশি কামিয়াব হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)