আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪১৭৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
মানুষের সাথে মেলামেশায় নিরাপত্তাহীনতার আশংকা থাকলে নির্জনতা অবলম্বনের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪১৭৪. হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। ঐ ব্যক্তি ভাগ্যবান, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, ঐ ব্যক্তি ভাগ্যবান, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, ঐ ব্যক্তি ভাগ্যবান, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং ঐ ব্যক্তিও ভাগ্যবান, যে বিপদে ধৈর্যধারণ করে, আর তা কতই চমৎকার।
(আবু দাউদ বর্ণিত।
واها পরিতাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো কখনো পসন্দনীয় অর্থেও ব্যবহৃত হয়।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الْعُزْلَة لمن لَا يَأْمَن على نَفسه عِنْد الِاخْتِلَاط
4174- وَعَن الْمِقْدَاد بن الْأسود قَالَ ايم الله لقد سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن السعيد لمن جنب الْفِتَن إِن السعيد لمن جنب الْفِتَن إِن السعيد لمن جنب الْفِتَن وَلمن ابْتُلِيَ فَصَبر فواها

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
واها كلمة مَعْنَاهَا التلهف وَقد تُوضَع للإعجاب بالشَّيْء

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে-এর পদ্ধতি ছিল শ্রোতা ও সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গের চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সে কথাটি ক্রমাগত তিনবার বলতেন। আলোচ্য হাদীসে এ বাক্যটি তিনি তিনবার বলেছেন إِنَّ السَّعِيدَ لمَنْ جُئْبَ الْفِتَنَ (সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাসমূহ থেকে দূরে রাখা হয়)। সম্ভবত বারবার এ কথা তিনি এজন্য বলেছেন যে, কোন লোকের ফিতনাসমূহ থেকে নিরাপদ থাকা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত। যেহেতু এ নি'আমত দর্শনীয় নয় তাই বহু লোকের এর অনুভূতিই হয় না। না তাদের নিকট এ নি'আমতের মর্যাদা হয়ে থাকে, না এর ওপর কৃতজ্ঞতার আবেগ সৃষ্টি হয়। এটা বড় বঞ্চনা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা তিন বার বলে এ নি'আমতের গুরুত্ব ও মর্যাদা মস্তিষ্কে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেছেন।

পরিশেষে বলেছেন, যে ব্যক্তিকে ভাগ্যের কারণে ফিতনাসমূহ জড়িত করা হয়েছে, আর সে নিজেকে সংরক্ষণ করেছে, অর্থাৎ সে দীনের ওপর এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্যের ওপর ধৈর্যশীল ও দৃঢ়পদ রয়েছে, তবে তাকে সাধুবাদ ও মুবারকবাদ। তাঁর কথা কী বলা। সে বড় সৌভাগ্যবান। হাদীসের শেষবাক্য ولمَنِ ابْتَلِى فَصَبَرَ فَوَاهَا এর অর্থ ভাষ্যকারগণ আরো দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন। এই অধমের নিকট তাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত যা এখানে লিখা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান