আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪১৯৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
ক্রোধের প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তা দূর করা ও সংবরণ করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং ক্রোধের সময় করণীয়
৪১৯৪. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ দাঁড়ান অবস্থায় রাগান্বিত হলে, সে যেন বসে পড়ে। এরপর তার যদি ক্রোধ চলে যায় (তবে ভাল), অন্যথায় সে যেন শুয়ে পড়ে।
(আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আবু হারব আসওয়াদ হতে, তিনি হযরত আবু যার (রা) থেকে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। কারো কারো মতে আবু হারব (র) তাঁর চাচা হতে, তিনি হযরত আবু যার (রা) হতে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে হযরত আবু যার (রা) হতে তাঁর শ্রুতি আমার জানা নেই। আবু দাউদ (র) উক্ত হাদীসটি দাউদ ইবনে হিন্দ থেকে, তিনি বাকর থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) উক্ত হাদীসটি হযরত আবু যার (রা)-কে প্রচার করার জন্য প্রেরণ করেন।
আবু দাউদ (র) বলেন, উপরোক্ত দু'টি হাদীসের মুরসাল সূত্র বিশুদ্ধ। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।)
(আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আবু হারব আসওয়াদ হতে, তিনি হযরত আবু যার (রা) থেকে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। কারো কারো মতে আবু হারব (র) তাঁর চাচা হতে, তিনি হযরত আবু যার (রা) হতে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে হযরত আবু যার (রা) হতে তাঁর শ্রুতি আমার জানা নেই। আবু দাউদ (র) উক্ত হাদীসটি দাউদ ইবনে হিন্দ থেকে, তিনি বাকর থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) উক্ত হাদীসটি হযরত আবু যার (রা)-কে প্রচার করার জন্য প্রেরণ করেন।
আবু দাউদ (র) বলেন, উপরোক্ত দু'টি হাদীসের মুরসাল সূত্র বিশুদ্ধ। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَضَب وَالتَّرْغِيب فِي دَفعه وكظمه وَمَا يفعل عِنْد الْغَضَب
4194- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا غضب أحدكُم وَهُوَ قَائِم فليجلس فَإِن ذهب عَنهُ الْغَضَب وَإِلَّا فليضطجع
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كِلَاهُمَا من رِوَايَة أبي حَرْب بن الْأسود عَن أبي ذَر وَقد قيل إِن أَبَا حَرْب إِنَّمَا
يروي عَن عَمه عَن أبي ذَر وَلَا يحفظ لَهُ سَماع من أبي ذَر وَقد رَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا عَن دَاوُد وَهُوَ ابْن هِنْد عَن بكر أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بعث أَبَا ذَر بِهَذَا الحَدِيث ثمَّ قَالَ أَبُو دَاوُد وَهُوَ أصح الْحَدِيثين يَعْنِي أَن هَذَا الْمُرْسل أصح من الأول وَالله أعلم
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كِلَاهُمَا من رِوَايَة أبي حَرْب بن الْأسود عَن أبي ذَر وَقد قيل إِن أَبَا حَرْب إِنَّمَا
يروي عَن عَمه عَن أبي ذَر وَلَا يحفظ لَهُ سَماع من أبي ذَر وَقد رَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا عَن دَاوُد وَهُوَ ابْن هِنْد عَن بكر أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بعث أَبَا ذَر بِهَذَا الحَدِيث ثمَّ قَالَ أَبُو دَاوُد وَهُوَ أصح الْحَدِيثين يَعْنِي أَن هَذَا الْمُرْسل أصح من الأول وَالله أعلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হাদীসে আল্লাহর রাসূল ﷺ ক্রোধকে দমন করার পন্থা শিক্ষা দান করেছেন। মানুষের শারীরিক অবস্থানের সাথে তার মানসিক চিন্তার সংযোগ রয়েছে। দৌড়ানোর সময় মানুষের চিন্তাশক্তি যে পর্যায়ে থাকে, দাঁড়ান অবস্থায় তাতে পার্থক্য সূচিত হয়। আবার দাঁড়ান অবস্থায় মানুষের চিন্তা-ভাবনা যেরূপ হয়, বসা অবস্থায় সেরূপ থাকে না। শায়িত অবস্থায় মানুষের চিন্তা ভিন্ন ধরনের হয়। দণ্ডায়মান অবস্থায় মানুষের যাবতীয় শারীরিক শক্তি সক্রিয় থাকে। তাই মানুষ ভাল-মন্দ যে কোন কাজ শক্তি সহকারে করতে সক্ষম হয়। কিন্তু রাগান্বিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে বিপদ রয়েছে। বসা অবস্থায় মানুষ কোন বিশেষ সমস্যার বিভিন্ন দিক পরখ করে দেখতে সক্ষম। তাই রাগান্বিত ব্যক্তি বসলে তার চিন্তার মধ্যে পরিবর্তন আসবে এবং রাগের উন্মত্ততা হালকা হয়ে যাবে। যদি রাগের প্রভাব খুব বেশি হয় এবং বসার দ্বারা চিন্তার পরিবর্তন তথা রাগের পরিবর্তন না হয়, তাহলে শুয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। শায়িত অবস্থায় শারীরিক শক্তি সক্রিয় না থাকার কারণে রাগান্বিত ব্যক্তি ক্রোধের প্রচণ্ড আক্রমণ থেকে নিজেকে সহজে রক্ষা করতে পারেন। নবী করীম ﷺ রাগ দমন করার এ বিজ্ঞানসম্মত পন্থার উল্লেখ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)