আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪২৫৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
অনির্দিষ্ট অথবা কোন ব্যক্তি বিশেষকে অথবা কোন প্রাণী বা অন্য কিছুকে উল্লেখ করে কাউকে গালি দেওয়া অথবা লা'নত দেয়া এবং মোরগ, বিচ্ছু ও বাতাসকে গালি ও লা'নত দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং সতী-সাধ্বী ও দাস-দাসীর প্রতি অপবাদ দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৫৭. হযরত আবু দারদা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি কাউকে কলংকিত করার উদ্দেশ্যে এমন দোষে দোষারোপ করে, যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে পাপের প্রায়চিত্ত না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখাবেন।
(তাবারানী উত্তম সনদে বর্ণনা করেন। ইনশাআল্লাহ্ "গীবত অধ্যায়ে" উক্ত হাদীস ও অন্যান্য হাদীস সামনে আসবে।)
كتاب الأدب
الترهيب من السباب واللعن لا سيما لمعين آدميا كان أو دابة وغيرهما وبعض ما جاء في النهي عن سب الديك والبرغوث والريح والترهيب من قذف المحصنة والمملوك
4257- وَعَن أبي الدَّرْدَاء رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من ذكر امْرأ بِشَيْء لَيْسَ فِيهِ ليعيبه بِهِ حَبسه الله فِي نَار جَهَنَّم حَتَّى يَأْتِي بنفاد مَا قَالَ فِيهِ

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد وَيَأْتِي هُوَ وَغَيره فِي الْغَيْبَة إِن شَاءَ الله تَعَالَى

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসটির মর্ম এই যে, কোন মুসলমানকে দূষী ও অপমান করার জন্য তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা এমন জঘন্য ও কঠিন গুনাহ যে, এ কাজে লিপ্ত ব্যক্তি যদি মুসলমানদের মধ্য থেকেও হয়, তবুও তাকে জাহান্নামের একাংশে (যাকে হাদীসে জাহান্নামের সেতু বলা হয়েছে)। ঐ সময় পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হবে, যে পর্যন্ত আগুনে জ্বলে পুড়ে নিজের এ গুনাহর অপবত্রিতা থেকে পাক-পবিত্র না হয়ে যাবে।

হাদীসের বাহ্যিক শব্দমালা দ্বারা বুঝা যায় যে, এ গুনাহ ক্ষমার অযোগ্য। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সাধারণ মুসলমানদের- এমনকি বিশেষ শ্রেণীর কাছেও এটা একটা মজার কাজ বলে বিবেচিত হয়।
اللهم احفظنا ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান