আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩০৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩০৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য, প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত (জীবন), মান-সম্মান ও ধন-সম্পদ হারাম ও সম্মানের বস্তু।
(মুসলিম ও তিরমিযীর এক হাদীসে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4304- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ كل الْمُسلم على الْمُسلم حرَام دَمه وَعرضه وَمَاله

رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ فِي حَدِيث

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একে অন্যের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তাদান

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- كل المسلم على المسلم حرام عرضه وماله ودمه ‘এক মুসলিমের সবই অপর মুসলিমের উপর হারাম তার মান-সম্ভ্রম, তার ধন-সম্পদ ও তার রক্ত'। হাদীছের এ অংশে আমাদেরকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে। তা এই যে, ঈমান ও ইসলামের কারণে এক মুসলিমের সবকিছুই নিরাপদ হয়ে যায়। তার কোনও কিছুতেই অন্যায় হস্তক্ষেপ করা কারও জন্য বৈধ নয়।

এতে প্রথমে 'সবকিছুই হারাম বলার পর তার ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে তার মান-সম্ভ্রম, তার ধন-সম্পদ ও তার রক্ত। অর্থাৎ এ তিনটিই হচ্ছে তার সবকিছু। প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষের মূল বিষয় এ তিনটিই তার জান, তার মাল ও তার ইজ্জত। জান বা রক্ত হচ্ছে তার অস্তিত্ব, মাল ও সম্পদ তার অস্তিত্ব রক্ষার উপকরণ আর ইজ্জত-সম্মান হচ্ছে তার বৈশিষ্ট্য, যা দ্বারা অন্যান্য জীবজন্তু হতে তার পার্থক্য নিরূপিত হয়। অস্তিত্ব সকল জীবেরই আছে। কোনও না কোনও ধরনের মালও তাদের আছে। কিন্তু ইজ্জত-সম্মান কেবল মানুষেরই বিশেষত্ব। এর দ্বারা তার মানবিক অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজ্জত-সম্মানবিহীন মানুষ পশুতুল্য। তাই ইসলাম মানুষের ইজ্জত-সম্মানকে তার অস্তিত্ব ও সম্পদের সমান মর্যাদা দিয়েছে। এর প্রত্যেকটিকেই অন্যদের জন্য হারাম ও মর্যাদাপূর্ণ করেছে, যা ক্ষুণ্ণ করা কারও জন্য জায়েয নয়। কারও প্রতি এমন কোনও আচরণ করা জায়েয নয়, যা দ্বারা তার সম্মানের হানি হতে পারে। কারও অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করা বা তাতে কোনওরকম খেয়ানত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনিভাবে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, শারীরিক আঘাত করা বা কোনও অঙ্গহানি ঘটানো কঠিন পাপ ও নাজায়েয।

প্রকৃতপক্ষে অন্যের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা রক্ষা করা তাকওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। যার মধ্যে আল্লাহভীতি আছে, কেবল সেই অন্যের এ তিন বিষয়ের উপর আঘাত করা হতে বিরত থাকতে পারে। যার মধ্যে তাকওয়া ও আল্লাহভীতি নেই, তার দ্বারা কোনও না কোনওভাবে অন্যের হক নষ্ট হয়েই যায়। হয়তো সে শারীরিকভাবে কাউকে কষ্ট দেবে, কিংবা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করবে অথবা ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অন্যের ইজ্জত-সম্মানের উপর আঘাত করবে। এর প্রত্যেকটিই কঠিন পাপ। এ পাপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রত্যেকের কর্তব্য তাকওয়ার অধিকারী হওয়া।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. মুসলিম ব্যক্তির জান, মাল ও ইজ্জতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। এ তিনটির কোনও ক্ষেত্রেই কারও প্রতি জুলুম করব না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান