আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩৩৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩৩৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: গীবত কাকে বলে, তা কি তোমরা জানো? সাহাবায়ে কিরাম বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার অপ্রিয় বিষয় আলোচনা করা। তখন জিজ্ঞেস করা হল: আমি যা বললাম, তা যদি তার মধ্যে থেকে থাকে? তিনি বলেন: যদিও তার মধ্যে তা থাকে, তবে তুমি তার গীবত করেছ, আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিয়েছ।
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণিত। উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। একদল সাহাবা থেকে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। প্রয়োজনের খাতিরে আমি কেবল উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করলাম।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4333- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْغَيْبَة قَالُوا الله وَرَسُوله أعلم قَالَ ذكرك أَخَاك بِمَا يكره
قيل أَرَأَيْت إِن كَانَ فِي أخي مَا أَقُول قَالَ إِن كَانَ فِيهِ مَا تَقول فقد اغْتَبْته وَإِن لم يكن فِيهِ مَا تَقول فقد بَهته

رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من طرق كَثِيرَة وَعَن جمَاعَة من الصَّحَابَة اكتفينا بِهَذَا عَن سائرها لضَرُورَة الْبَيَان

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মানুষের অসাক্ষাতে তার দোষ বর্ণনা করা গীবত। গীবতের দ্বারা সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্মান বিলুপ্ত হয় এবং অসাক্ষাতে দোষ বর্ণনা করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করা বা তার প্রতিবাদ করার সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তা এক জঘন্য ধরনের বে-ইনসাফী। গীবত মারাত্মক সামাজিক ব্যধি হওয়ার কারণে আল্লাহ কিয়ামতের দিন গীবতকারীকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন।

বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।

হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান