আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৪০৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাক। কেননা, হিংসা নেকী গ্রাস করে, যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয় অথবা তিনি বলেছেন: শুকনা ঘাস কঠা পুড়িয়ে দেয়।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী বর্ণিত। ইবন মাজা, বায়হাকী ও অন্যান্যগণ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: হিংসা নেকী গ্রাস করে, যেমনিভাবে আগুন লাকড়ী জ্বালিয়ে দেয়। সাদাকা গুনাহ মোচন করে, যেরূপ পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। সালাত (কিয়ামতের দিন) মু'মিনের জন্য জ্যোতি স্বরূপ হবে। সিয়াম জাহান্নাম থেকে (রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে) ঢাল স্বরূপ- হবে।)
(আবূ দাউদ, বায়হাকী বর্ণিত। ইবন মাজা, বায়হাকী ও অন্যান্যগণ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: হিংসা নেকী গ্রাস করে, যেমনিভাবে আগুন লাকড়ী জ্বালিয়ে দেয়। সাদাকা গুনাহ মোচন করে, যেরূপ পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। সালাত (কিয়ামতের দিন) মু'মিনের জন্য জ্যোতি স্বরূপ হবে। সিয়াম জাহান্নাম থেকে (রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে) ঢাল স্বরূপ- হবে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4403- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إيَّاكُمْ والحسد فَإِن الْحَسَد يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب أَو قَالَ العشب
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ أَيْضا وَغَيرهمَا من حَدِيث أنس أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْحَسَد يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب وَالصَّدَََقَة تطفىء الْخَطِيئَة كَمَا يطفىء المَاء النَّار وَالصَّلَاة نور الْمُؤمن وَالصِّيَام جنَّة من النَّار
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ أَيْضا وَغَيرهمَا من حَدِيث أنس أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْحَسَد يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب وَالصَّدَََقَة تطفىء الْخَطِيئَة كَمَا يطفىء المَاء النَّار وَالصَّلَاة نور الْمُؤمن وَالصِّيَام جنَّة من النَّار
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি অন্যের সুখ-শান্তি এবং কল্যাণ পসন্দ করে না। সে মনে মনে অন্যের অমঙ্গল কামনা করে। অন্যের অমঙ্গল সাধিত হলে সে তৃপ্ত হয়। তাই যে মনের মধ্যে ঈর্ষা পোষণ করে, সে বস্তুত নিজের অমঙ্গল করে। অন্যের অমঙ্গলের চিন্তায় দিন-রাত মশগুল থাকার কারণে নিজের উন্নতি করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ সে পায় না। অধিকন্তু আল্লাহ অন্যের অমঙ্গল কামনাকারীকে অপসন্দ করেন এবং এভাবে ঈর্ষার কারণে সে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাগ হতে বঞ্চিত হয়। তাই ঈর্ষার মারাত্মক অবস্থাকে আগুনের সাথে তুলনা করা হয়েছে যেরূপ আগুন কাঠকে বরবাদ করে, সেরূপ ঈর্ষা যাবতীয় মঙ্গলকে বরবাদ ও বিনষ্ট করে দেয়। ঈর্ষা এবং ঈমান একত্রে থাকতে পারে না। ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহকে ভালবাসেন, তাঁর রাসুলকে ভালবাসেন এবং ঈমানদারকে ভালবাসেন। তাই তার অন্তরে ঈর্ষা জন্ম লাভ করতে পারে না। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উপর বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও অপর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হয়, তাহলে বুঝতে হবে, তার অন্তরে ইসলাম পুরাপুরি শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। ঈর্ষা পরায়ণ ব্যক্তির অন্তর থেকে ঈর্ষা দূর করার জন্য তওবা ও ইস্তেগফারের আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)